ঢাকা ০৩:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসহাকের সঙ্গে বৈঠকে একাত্তরের ইস্যু সমাধানের আহ্বান এনসিপির

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:০১:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫
  • / 105

ইসহাকের সঙ্গে বৈঠকে একাত্তরের ইস্যু সমাধানের আহ্বান এনসিপির

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম বাধা হলো ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের কিছু অমীমাংসিত বিষয়। ঢাকা সফররত পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একাত্তরের বিরোধ সমাধানের আহ্বান জানায়। ইসলামাবাদ এই প্রস্তাবে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

শনিবার বিকেলে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়, যাতে এনসিপির সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

বৈঠক শেষে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, “পাকিস্তান সম্পর্কিত বাংলাদেশের জনগণের ধারণাগুলো আমরা তাদের কাছে তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি, অতীতের শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্ককে উন্নতির সুযোগে রূপান্তর করা সম্ভব। বাংলাদেশের জনগণের ধারণাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একাত্তরের ইস্যু সমাধান অপরিহার্য।”

তিনি আরও বলেন, বৈঠকে শিক্ষা, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে যে, কোনো বড় দেশ-সুলভ আচরণ বা আধিপত্যকামী মনোভাব দুই দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারবে না।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় অতীতের যুদ্ধে এবং নদী বিষয়ক ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য বিবাদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তান গত ১৫-২০ বছরে ওষুধ শিল্পে সহযোগিতা করতে চেষ্টা করেছে। আমাদের লক্ষ্য হলো খরচ কমিয়ে উভয় দেশের ওষুধ শিল্পকে আরও উন্নত ও রপ্তানিযোগ্য করা।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা খাতের উন্নয়ন এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সার্ক সম্পর্কিত আলোচনার প্রসঙ্গে পাটওয়ারী বলেন, “ভারতের কারণে সার্ক কার্যক্রম সীমিত হয়েছে। পাকিস্তানও দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাবশালী। আমরা কিভাবে সার্ককে সক্রিয় করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনতে পারি, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”

একাত্তরের বিরোধ সমাধানের বিষয়ে ইসহাক দারের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমরা তাদের বলেছি, এই বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা উচিত। তারা ইতিবাচকভাবে প্রস্তুত।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইসহাকের সঙ্গে বৈঠকে একাত্তরের ইস্যু সমাধানের আহ্বান এনসিপির

সর্বশেষ আপডেট ১০:০১:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম বাধা হলো ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের কিছু অমীমাংসিত বিষয়। ঢাকা সফররত পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একাত্তরের বিরোধ সমাধানের আহ্বান জানায়। ইসলামাবাদ এই প্রস্তাবে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

শনিবার বিকেলে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়, যাতে এনসিপির সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

বৈঠক শেষে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, “পাকিস্তান সম্পর্কিত বাংলাদেশের জনগণের ধারণাগুলো আমরা তাদের কাছে তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি, অতীতের শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্ককে উন্নতির সুযোগে রূপান্তর করা সম্ভব। বাংলাদেশের জনগণের ধারণাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একাত্তরের ইস্যু সমাধান অপরিহার্য।”

তিনি আরও বলেন, বৈঠকে শিক্ষা, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে যে, কোনো বড় দেশ-সুলভ আচরণ বা আধিপত্যকামী মনোভাব দুই দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারবে না।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় অতীতের যুদ্ধে এবং নদী বিষয়ক ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য বিবাদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তান গত ১৫-২০ বছরে ওষুধ শিল্পে সহযোগিতা করতে চেষ্টা করেছে। আমাদের লক্ষ্য হলো খরচ কমিয়ে উভয় দেশের ওষুধ শিল্পকে আরও উন্নত ও রপ্তানিযোগ্য করা।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা খাতের উন্নয়ন এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সার্ক সম্পর্কিত আলোচনার প্রসঙ্গে পাটওয়ারী বলেন, “ভারতের কারণে সার্ক কার্যক্রম সীমিত হয়েছে। পাকিস্তানও দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাবশালী। আমরা কিভাবে সার্ককে সক্রিয় করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনতে পারি, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”

একাত্তরের বিরোধ সমাধানের বিষয়ে ইসহাক দারের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমরা তাদের বলেছি, এই বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা উচিত। তারা ইতিবাচকভাবে প্রস্তুত।”