ইসলামে সহকর্মীদের সঙ্গে আচরণ কেমন হওয়া উচিত
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫
- / 248
ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, যা শুধু নামাজ, রোজা বা হজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক ও কর্মজীবন; প্রতিটি পর্যায়ে নৈতিকতা ও শিষ্টাচারের গুরুত্ব অপরিসীম। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে আচরণও ইসলামের আলোকে মূল্যায়িত হয়। ইসলাম এই বিষয়ে এমন কিছু নীতি দিয়েছে যা কর্মক্ষেত্রকে পরিণত করতে পারে শান্তিময় ও ফলপ্রসূ একটি পরিবেশে।
সহমর্মিতা ও সদ্ব্যবহার: ইসলামী আদর্শের ভিত্তি
আল্লাহতায়ালা কোরআনে বলেন, “তোমরা উত্তম কথাবার্তা বলো মানুষের সঙ্গে।” (সূরা বাকারা: ৮৩)
সহকর্মীদের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার ইসলামের মৌলিক নৈতিক শিক্ষা। অফিস, প্রতিষ্ঠান বা যেকোনো কর্মস্থলে পারস্পরিক সম্মান, সহানুভূতি ও সহানুভূতির চর্চা প্রত্যাশিত। প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) নিজেও কর্মজীবনে তাঁর সাহাবিদের সঙ্গে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ, বিনয়ী ও সহযোগিতামূলক আচরণ করতেন।
হিংসা ও বিদ্বেষ বর্জন
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “তোমরা পরস্পরের প্রতি হিংসা কোরো না, বিদ্বেষ পোষণ কোরো না, একে অপরের পেছনে লেগে থাকো না। বরং আল্লাহর বান্দারা ভাই ভাই হয়ে যাও।” (সহীহ মুসলিম)
কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীর সাফল্যে হিংসা না করে বরং তার প্রশংসা করাই ইসলামের শিক্ষা। হিংসা শুধু সম্পর্ক নষ্ট করে না, বরং প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিবেশকেও কলুষিত করে।
পরোপকার ও সহযোগিতা
কোরআনে বলা হয়েছে, “সৎকাজ ও তাকওয়ার বিষয়ে একে অপরকে সহযোগিতা করো।” (সূরা মায়েদা: ২)
সহকর্মীর প্রয়োজনে সহায়তা করা, তার দায়িত্বে সহযোগিতা করা বা সমস্যার সময় পাশে দাঁড়ানো ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন। একটি সফল কর্মপরিবেশ গড়ে ওঠে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে।
গীবত ও অপবাদ থেকে বিরত থাকা
গীবত বা পরনিন্দা ইসলামে স্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে একজন সহকর্মীর অনুপস্থিতিতে তার দোষ খোঁজা বা গোপন আলোচনা করা শুধু অশোভন নয়, বরং তা পাপের শামিল।
“তোমাদের কেউ যেন অপরের গীবত না করে। কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে?” (সূরা হুজুরাত: ১২)
ইনসাফ ও সুবিচার
সহকর্মীর প্রতি আচরণে ন্যায়বিচার ও ভারসাম্য বজায় রাখা অপরিহার্য। নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করে অন্যকে দোষারোপ করা, অথবা নিজের স্বার্থে কারো প্রতি অন্যায় আচরণ ইসলাম অনুমোদন করে না। রাসূল (সা.) বলেন, “তোমরা ইনসাফ করো। ইনসাফকারী ব্যক্তি আল্লাহর কাছে নূরের মিম্বারে বসবে।” (তিরমিযি)
সালাম ও সৌহার্দ্য
সহকর্মীদের উদ্দেশে সালাম দেওয়া, তাদের খোঁজ-খবর নেওয়া, বিশেষ দিনে অভিনন্দন জানানো; এসব ইসলামে উৎসাহিত করা হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, “তোমরা সালামের মাধ্যমে পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি করো।” (সহীহ মুসলিম)
প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও বিশ্বস্ততা
কর্মক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি রক্ষা, গোপনীয়তা বজায় রাখা এবং সততা প্রদর্শন করা একজন মুসলিমের কর্তব্য।
“আল্লাহ তোমাদের আদেশ দেন, তোমরা আমানতসমূহ তাদের হকদারদের কাছে পৌঁছে দাও।” (সূরা নিসা: ৫৮)
ইসলাম একটি ভারসাম্যপূর্ণ কর্মজীবনের জন্য যে নৈতিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে, তা কেবল আখিরাতের মুক্তির পথ নয়, বরং দুনিয়ায়ও সফল ও সম্মানজনক একটি পেশাগত জীবন নিশ্চিত করে। সহকর্মীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ, সহযোগিতা, বিনয় ও ইনসাফ ইসলামের মৌলিক আদর্শ। এসব গুণের চর্চা কর্মস্থলে সৃষ্টি করতে পারে এক ইতিবাচক, মানবিক ও কল্যাণময় পরিবেশ। তাই একজন মুসলিম পেশাজীবী হিসেবে আমাদের উচিত কর্মক্ষেত্রেও ইসলামী নীতিমালার যথাযথ অনুসরণ করা।





































