ঢাকা ১০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলি নির্যাতনের প্রতিবাদে ৬৭ নারী

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 9

ইসরায়েলি নির্যাতনের প্রতিবাদে ৬৭ নারী

 

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ), ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিস (আইপিএস) এবং বিভিন্ন আটকাগারের নিরাপত্তাকর্মীদের দ্বারা ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর সংঘটিত ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনায় মূলধারার পশ্চিমা নারীবাদীদের নীরবতা ও পরোক্ষ সমর্থনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের ৬৭ জন নারী অধিকার আন্দোলনকারী।

সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, আইনজীবী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে- ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ ও শিশুদের নিয়মিতভাবে যৌন সহিংসতা ও নিপীড়নের মুখোমুখি হতে হয়। এসব নির্যাতনের মাধ্যমে বন্দিদের মানবিক মর্যাদা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা হচ্ছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ‘মানুষ হিসেবে অযোগ্য’ হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘ-নিযুক্ত তদন্ত কমিশনের পাশাপাশি ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বেটসেলেম, দ্য প্যালেস্টিনিয়ান সেন্টার ফর হিউমান রাইটস এবং ফিজিশিয়ান্স ফর হিউমান রাইটস-এর প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব প্রতিবেদনে উঠে এসেছে-ফিলিস্তিনি বন্দিদের খাঁচার মতো স্থানে আটকে রাখা, জোরপূর্বক পোশাক খুলে উলঙ্গ অবস্থায় রাখা, যৌন নির্যাতনের ভিডিও ধারণ, বিছানায় বেঁধে রাখা, খাবার-পানি-ঘুম ও চিকিৎসা বঞ্চিত করা, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, যৌনাঙ্গে বৈদ্যুতিক শক, সিগারেট দিয়ে দগ্ধ করা, কুকুর দিয়ে আক্রমণ, ওয়াটারবোর্ডিং, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঝুলিয়ে রাখা এবং তীব্র শব্দে নির্যাতনের মতো ভয়াবহ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে।

এছাড়াও ফিলিস্তিনি নারীদের মাতৃসেবা কেন্দ্রে হামলা, প্রজনন ও ঋতুস্রাব-সংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা অস্বীকার এবং অনাহারজনিত গর্ভপাতের ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

প্যালেস্টিনিয়ান সেন্টার ফর হিউমান রাইটসকে দেওয়া সাক্ষ্যে একাধিক ভুক্তভোগী জানান, ইসরায়েলি সেনারা সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ, উলঙ্গ করে রাখা, জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ এবং মানুষ ছাড়াও বস্তু ও কুকুর ব্যবহার করে যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। উত্তর গাজার একটি চেকপয়েন্টে আটক হওয়া ৪২ বছর বয়সী এক মা জানান, তিনি চারবার সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। নির্যাতনের সময় তাকে মারধর, বৈদ্যুতিক শক ও উলঙ্গ করে অপমান করা হয় এবং এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়।

একটি ঘটনায় তিনি বলেন, “ধর্ষণের পর আমাকে বিছানার সঙ্গে হাতকড়া দিয়ে বেঁধে একা ফেলে রাখা হয়। বহু ঘণ্টা ধরে আমি বিবস্ত্র অবস্থায় ছিলাম।”

আরেক ঘটনায় গাজার আল-শিফা হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ৩৫ বছর বয়সী এক বাবা জানান, ইসরায়েলের স্টে টেইমান আটকাগারে তাকে প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে যৌন নির্যাতনের শিকার করা হয়। একইভাবে, তথাকথিত ‘গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন’-এর সহায়তা কেন্দ্র থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ বোতল দিয়ে ধর্ষণের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “তারা আমাদের আত্মমর্যাদা ভেঙে দেয়, জীবনের আশা শেষ করে দেয়।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের পাশাপাশি ইসরায়েলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সমাজের একাংশের প্রকাশ্য সমর্থন পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। স্টে টেইমান সামরিক ঘাঁটির নজরদারি ভিডিও ফাঁসকে ঘিরে ২০২৪–২০২৫ সালে ইসরায়েলে রাজনৈতিক ও আইনি সংকট তৈরি হয়। ওই ভিডিওতে বন্দিকে আড়ালে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতনের দৃশ্য দেখা যায়, যার ফলে ভুক্তভোগীর অন্ত্র ফেটে যায়, মলদ্বার ও ফুসফুসে গুরুতর আঘাত লাগে এবং পাঁজরের হাড় ভেঙে যায়।

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন গাভিরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনীর যে কোনো কর্মকাণ্ড- সংঘবদ্ধ ধর্ষণ—গ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া সেনাদের মুক্তির দাবিতে ইসরায়েলে বিক্ষোভকারীদের “ফিলিস্তিনি বন্দিদের ধর্ষণের অধিকার” স্লোগান তোলার ঘটনাকেও নিন্দা করা হয়।

নারী অধিকার আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, এসব নথিভুক্ত অপরাধ সত্ত্বেও মূলধারার বহু পশ্চিমা নারীবাদী সংগঠন ও ব্যক্তিত্ব নীরব। অথচ ৭ অক্টোবর ২০২৩-এর পর ইসরায়েলি নারীদের ওপর গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠার সময় তারা ছিল সোচ্চার—যে অভিযোগের সত্যতা পরে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তাদের মতে, এই নীরবতা বর্ণবাদী ও রাজনৈতিক দ্বিচারিতার বহিঃপ্রকাশ।

বিবৃতিতে বলা হয়, “যে নারীবাদ অন্যত্র সংগঠিত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে কথা বলে, কিন্তু ইসরায়েলি রাষ্ট্র-অনুমোদিত ধর্ষণকে অপরাধ মনে করে না—তা নারীবাদ নয়, বরং যুদ্ধাপরাধে মদদ দেওয়া।”

নারী অধিকার আন্দোলনকারীরা ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর সংঘটিত প্রতিটি ধর্ষণ ও নিপীড়নের আন্তর্জাতিক বিচার দাবি করেন এবং বলেন, “মৌনতার অর্থ পরোক্ষভাবে যুদ্ধাপরাধের সমর্থন।”

এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন গবেষক, শিক্ষক, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, শিল্পী ও অধিকারকর্মীসহ দেশের ৬৭ জন বিশিষ্ট নারী অধিকার আন্দোলনকারী। তাদের মধ্যে রয়েছে- রোজীনা বেগম, গবেষক এবং মানবাধিকারকর্মী, কাজলী সেহরীন ইসলাম, শিক্ষক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। মারজিয়া প্রভা , একটিভিস্ট ও সদস্য, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি, ড. দীনা সিদ্দিকী শিক্ষক, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি, প্রাপ্তি তাপসী, অ্যাক্টিভিস্ট, সুস্মিতা পৃথা , লেখক ও গবেষক, মোসাঃ সুমাইয়া (শিকদার), শিক্ষার্থী অ্যাক্টিভিস্ট, মার্কেটিং বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ফেরদৌস আরা রুমী, লেখক ও অধিকার কর্মী, ড. সায়দিয়া গুলরুখ, সাংবাদিক, গবেষক, ড. ফাতেমা শুভ্রা, শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, খুশী কবির, সমন্বয়কারী, নিজেরা করি, তন্বী নওশীন, জলবায়ু অ্যাক্টিভিস্ট, বার্লিন, মোশাহিদা সুলতানা, শিক্ষক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় , ড. শ্যামলী শীল , শিক্ষক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ড. গীতি আরা নাসরীন, শিক্ষক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মাহীন সুলতান, সদস্য, নারীপক্ষ, ফাজিলা বানু লিলি, শিক্ষক, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি; নারীপক্ষ, সাদিয়া আরমান , সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী, ড. ফেরদৌস আজীম, শিক্ষক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়; নারীপক্ষ, ইলিরা দেওয়ান, মানবাধিকার কর্মী, ড. নাসরিন খন্দকার, গবেষক, সমাজবিজ্ঞান ও ক্রিমিনোলজি বিভাগ, ইউনিভার্সিটি কলেজ কর্ক, আয়ারল্যান্ড, ডা. সাদিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্যকর্মী, যুক্তরাষ্ট্র, সায়েমা খাতুন, লেখক ও নৃবিজ্ঞান গবেষক, উইসকনসিন, যুক্তরাষ্ট্র, ঋতু সাত্তার, শিল্পী, চিত্রনির্মাতা, ইসাবা শুহরাত, গবেষক, অ্যাক্টিভিস্ট, তাসলিমা আখতার, আলোকচিত্রী, শ্রম-অধিকার অ্যাক্টিভিস্ট, রাজনীতিবিদ, ড. আনমনা প্রিয়দর্শিনী, শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, সাদার্ন মেথোডিস্ট ইউনিভার্সিটি, টেক্সাস, যুক্তরাষ্ট্র, ড. ইলোরা হালিম চৌধুরী, শিক্ষক, উইমেন্স, জেন্ডার অ্যান্ড সেক্সুয়ালিটি স্টাডিজ, ইউনিভার্সিটি অফ ম্যাসাচুস্টেস বস্টন, যুক্তরাষ্ট্র, সাদিয়া মরিয়ম , আলোকচিত্রী, সালমা , আলী আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী, বীথি ঘোষ, শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্টগ্রাজুয়েট কলেজ; সাংস্কৃতিক সংগঠক। পদ্মিনী চাকমা, আলোকচিত্রী, কামরুন নাহার, অধিকার কর্মী, লায়লা পারভীন, শিক্ষক, অধিকারকর্মী, স্নিগ্ধা সুলতানা শিক্ষার্থী অ্যাক্টিভিস্ট, আলোকচিত্র বিভাগ, পাঠশালা, সাফিয়া আজীম, আলোকচিত্রী ও মনোবিজ্ঞানী, সীমা দত্ত , নারী অধিকার অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনীতিবিদ, ড. আইনুন নাহার , শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ড. সামিনা লুৎফা শিক্ষক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, তামান্না মাকসুদ, শিক্ষা সহকারী, ইউনিভার্সিটি অফ বৃটিশ কলাম্বিয়া, কানাডা, শার্মিন্দ নিলোরমী, শিক্ষক, অর্থনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়,ড. ইলোরা শিহাব উদ্দিন শিক্ষক, জেন্ডার অ্যান্ড উইমেন্স স্টাডিজ, ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলে, যুক্তরাষ্ট্র, মুক্তাশ্রী চাকমা , অধিকারকর্মী ও গবেষক, ড. ফরিদা খান, শিক্ষক, অর্থনীতি বিভাগ, ইউনিভার্সিটি অফ কলেরাডো স্প্রিং, যুক্তরাষ্ট্র, রেহনুমা আহমেদ, নৃবিজ্ঞানী, লেখক।

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইসরায়েলি নির্যাতনের প্রতিবাদে ৬৭ নারী

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ), ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিস (আইপিএস) এবং বিভিন্ন আটকাগারের নিরাপত্তাকর্মীদের দ্বারা ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর সংঘটিত ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনায় মূলধারার পশ্চিমা নারীবাদীদের নীরবতা ও পরোক্ষ সমর্থনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের ৬৭ জন নারী অধিকার আন্দোলনকারী।

সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, আইনজীবী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে- ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ ও শিশুদের নিয়মিতভাবে যৌন সহিংসতা ও নিপীড়নের মুখোমুখি হতে হয়। এসব নির্যাতনের মাধ্যমে বন্দিদের মানবিক মর্যাদা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা হচ্ছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ‘মানুষ হিসেবে অযোগ্য’ হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘ-নিযুক্ত তদন্ত কমিশনের পাশাপাশি ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বেটসেলেম, দ্য প্যালেস্টিনিয়ান সেন্টার ফর হিউমান রাইটস এবং ফিজিশিয়ান্স ফর হিউমান রাইটস-এর প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব প্রতিবেদনে উঠে এসেছে-ফিলিস্তিনি বন্দিদের খাঁচার মতো স্থানে আটকে রাখা, জোরপূর্বক পোশাক খুলে উলঙ্গ অবস্থায় রাখা, যৌন নির্যাতনের ভিডিও ধারণ, বিছানায় বেঁধে রাখা, খাবার-পানি-ঘুম ও চিকিৎসা বঞ্চিত করা, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, যৌনাঙ্গে বৈদ্যুতিক শক, সিগারেট দিয়ে দগ্ধ করা, কুকুর দিয়ে আক্রমণ, ওয়াটারবোর্ডিং, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঝুলিয়ে রাখা এবং তীব্র শব্দে নির্যাতনের মতো ভয়াবহ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে।

এছাড়াও ফিলিস্তিনি নারীদের মাতৃসেবা কেন্দ্রে হামলা, প্রজনন ও ঋতুস্রাব-সংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা অস্বীকার এবং অনাহারজনিত গর্ভপাতের ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

প্যালেস্টিনিয়ান সেন্টার ফর হিউমান রাইটসকে দেওয়া সাক্ষ্যে একাধিক ভুক্তভোগী জানান, ইসরায়েলি সেনারা সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ, উলঙ্গ করে রাখা, জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ এবং মানুষ ছাড়াও বস্তু ও কুকুর ব্যবহার করে যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। উত্তর গাজার একটি চেকপয়েন্টে আটক হওয়া ৪২ বছর বয়সী এক মা জানান, তিনি চারবার সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। নির্যাতনের সময় তাকে মারধর, বৈদ্যুতিক শক ও উলঙ্গ করে অপমান করা হয় এবং এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়।

একটি ঘটনায় তিনি বলেন, “ধর্ষণের পর আমাকে বিছানার সঙ্গে হাতকড়া দিয়ে বেঁধে একা ফেলে রাখা হয়। বহু ঘণ্টা ধরে আমি বিবস্ত্র অবস্থায় ছিলাম।”

আরেক ঘটনায় গাজার আল-শিফা হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ৩৫ বছর বয়সী এক বাবা জানান, ইসরায়েলের স্টে টেইমান আটকাগারে তাকে প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে যৌন নির্যাতনের শিকার করা হয়। একইভাবে, তথাকথিত ‘গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন’-এর সহায়তা কেন্দ্র থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ বোতল দিয়ে ধর্ষণের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “তারা আমাদের আত্মমর্যাদা ভেঙে দেয়, জীবনের আশা শেষ করে দেয়।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের পাশাপাশি ইসরায়েলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সমাজের একাংশের প্রকাশ্য সমর্থন পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। স্টে টেইমান সামরিক ঘাঁটির নজরদারি ভিডিও ফাঁসকে ঘিরে ২০২৪–২০২৫ সালে ইসরায়েলে রাজনৈতিক ও আইনি সংকট তৈরি হয়। ওই ভিডিওতে বন্দিকে আড়ালে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতনের দৃশ্য দেখা যায়, যার ফলে ভুক্তভোগীর অন্ত্র ফেটে যায়, মলদ্বার ও ফুসফুসে গুরুতর আঘাত লাগে এবং পাঁজরের হাড় ভেঙে যায়।

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন গাভিরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনীর যে কোনো কর্মকাণ্ড- সংঘবদ্ধ ধর্ষণ—গ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া সেনাদের মুক্তির দাবিতে ইসরায়েলে বিক্ষোভকারীদের “ফিলিস্তিনি বন্দিদের ধর্ষণের অধিকার” স্লোগান তোলার ঘটনাকেও নিন্দা করা হয়।

নারী অধিকার আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, এসব নথিভুক্ত অপরাধ সত্ত্বেও মূলধারার বহু পশ্চিমা নারীবাদী সংগঠন ও ব্যক্তিত্ব নীরব। অথচ ৭ অক্টোবর ২০২৩-এর পর ইসরায়েলি নারীদের ওপর গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠার সময় তারা ছিল সোচ্চার—যে অভিযোগের সত্যতা পরে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তাদের মতে, এই নীরবতা বর্ণবাদী ও রাজনৈতিক দ্বিচারিতার বহিঃপ্রকাশ।

বিবৃতিতে বলা হয়, “যে নারীবাদ অন্যত্র সংগঠিত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে কথা বলে, কিন্তু ইসরায়েলি রাষ্ট্র-অনুমোদিত ধর্ষণকে অপরাধ মনে করে না—তা নারীবাদ নয়, বরং যুদ্ধাপরাধে মদদ দেওয়া।”

নারী অধিকার আন্দোলনকারীরা ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর সংঘটিত প্রতিটি ধর্ষণ ও নিপীড়নের আন্তর্জাতিক বিচার দাবি করেন এবং বলেন, “মৌনতার অর্থ পরোক্ষভাবে যুদ্ধাপরাধের সমর্থন।”

এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন গবেষক, শিক্ষক, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, শিল্পী ও অধিকারকর্মীসহ দেশের ৬৭ জন বিশিষ্ট নারী অধিকার আন্দোলনকারী। তাদের মধ্যে রয়েছে- রোজীনা বেগম, গবেষক এবং মানবাধিকারকর্মী, কাজলী সেহরীন ইসলাম, শিক্ষক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। মারজিয়া প্রভা , একটিভিস্ট ও সদস্য, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি, ড. দীনা সিদ্দিকী শিক্ষক, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি, প্রাপ্তি তাপসী, অ্যাক্টিভিস্ট, সুস্মিতা পৃথা , লেখক ও গবেষক, মোসাঃ সুমাইয়া (শিকদার), শিক্ষার্থী অ্যাক্টিভিস্ট, মার্কেটিং বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ফেরদৌস আরা রুমী, লেখক ও অধিকার কর্মী, ড. সায়দিয়া গুলরুখ, সাংবাদিক, গবেষক, ড. ফাতেমা শুভ্রা, শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, খুশী কবির, সমন্বয়কারী, নিজেরা করি, তন্বী নওশীন, জলবায়ু অ্যাক্টিভিস্ট, বার্লিন, মোশাহিদা সুলতানা, শিক্ষক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় , ড. শ্যামলী শীল , শিক্ষক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ড. গীতি আরা নাসরীন, শিক্ষক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মাহীন সুলতান, সদস্য, নারীপক্ষ, ফাজিলা বানু লিলি, শিক্ষক, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি; নারীপক্ষ, সাদিয়া আরমান , সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী, ড. ফেরদৌস আজীম, শিক্ষক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়; নারীপক্ষ, ইলিরা দেওয়ান, মানবাধিকার কর্মী, ড. নাসরিন খন্দকার, গবেষক, সমাজবিজ্ঞান ও ক্রিমিনোলজি বিভাগ, ইউনিভার্সিটি কলেজ কর্ক, আয়ারল্যান্ড, ডা. সাদিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্যকর্মী, যুক্তরাষ্ট্র, সায়েমা খাতুন, লেখক ও নৃবিজ্ঞান গবেষক, উইসকনসিন, যুক্তরাষ্ট্র, ঋতু সাত্তার, শিল্পী, চিত্রনির্মাতা, ইসাবা শুহরাত, গবেষক, অ্যাক্টিভিস্ট, তাসলিমা আখতার, আলোকচিত্রী, শ্রম-অধিকার অ্যাক্টিভিস্ট, রাজনীতিবিদ, ড. আনমনা প্রিয়দর্শিনী, শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, সাদার্ন মেথোডিস্ট ইউনিভার্সিটি, টেক্সাস, যুক্তরাষ্ট্র, ড. ইলোরা হালিম চৌধুরী, শিক্ষক, উইমেন্স, জেন্ডার অ্যান্ড সেক্সুয়ালিটি স্টাডিজ, ইউনিভার্সিটি অফ ম্যাসাচুস্টেস বস্টন, যুক্তরাষ্ট্র, সাদিয়া মরিয়ম , আলোকচিত্রী, সালমা , আলী আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী, বীথি ঘোষ, শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্টগ্রাজুয়েট কলেজ; সাংস্কৃতিক সংগঠক। পদ্মিনী চাকমা, আলোকচিত্রী, কামরুন নাহার, অধিকার কর্মী, লায়লা পারভীন, শিক্ষক, অধিকারকর্মী, স্নিগ্ধা সুলতানা শিক্ষার্থী অ্যাক্টিভিস্ট, আলোকচিত্র বিভাগ, পাঠশালা, সাফিয়া আজীম, আলোকচিত্রী ও মনোবিজ্ঞানী, সীমা দত্ত , নারী অধিকার অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনীতিবিদ, ড. আইনুন নাহার , শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ড. সামিনা লুৎফা শিক্ষক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, তামান্না মাকসুদ, শিক্ষা সহকারী, ইউনিভার্সিটি অফ বৃটিশ কলাম্বিয়া, কানাডা, শার্মিন্দ নিলোরমী, শিক্ষক, অর্থনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়,ড. ইলোরা শিহাব উদ্দিন শিক্ষক, জেন্ডার অ্যান্ড উইমেন্স স্টাডিজ, ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলে, যুক্তরাষ্ট্র, মুক্তাশ্রী চাকমা , অধিকারকর্মী ও গবেষক, ড. ফরিদা খান, শিক্ষক, অর্থনীতি বিভাগ, ইউনিভার্সিটি অফ কলেরাডো স্প্রিং, যুক্তরাষ্ট্র, রেহনুমা আহমেদ, নৃবিজ্ঞানী, লেখক।