ইশরাকের মেয়র পদে শপথ: একটা লেজেগোবরে অবস্থা
- সর্বশেষ আপডেট ১২:০৯:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫
- / 191
স্থানীয় সরকার আইনে আছে, সিটি করপোরেশনের প্রথম সাধারণ সভার দিন থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর হবে মেয়রের কার্যকাল। সেই হিসাবে আজ সোমবারই শেষ হচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) দ্বিতীয় পর্যায়ের মেয়াদ। ফলে মেয়র পদে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের শপথ নিয়ে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইশরাকের আর শপথ নেওয়ার সুযোগ নেই। বিপরীতে ইশরাকের আইনজীবী বলছেন, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ইশরাক মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলিম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী, করপোরেশনের মেয়াদই তো শেষ হয়ে গেল। সব মিলিয়ে একটা লেজেগোবরে অবস্থা। এ অবস্থায় আমার মনে হয় না, মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেন আর শপথ নিতে পারবেন।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, যেহেতু ডিএসসিসির এই পর্ষদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাই ইশরাক হোসেনের আর মেয়র পদে বসার সুযোগ নেই।

ইশরাকের আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয় সরকারের আইন অনুযায়ী। এই আইনে ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ বলে একটি বিধান আছে। তাই ইসি ওই বিধান অনুযায়ী ইশরাকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। পরের নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ইশরাক মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
এদিকে, ইশরাককে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের অনুলিপি এখনও ইসিতে পৌঁছেনি। ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ইশরাকের বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ আমরা পাইনি। পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা যেভাবে আসবে, আমরা সেভাবেই ব্যবস্থা নেব।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ (সংশোধিত)-এর ৪৯(১) ধারায় বলা হয়েছে, মেয়র-কাউন্সিলরদের প্রথম করপোরেশন সভার দিন থেকে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য তারা দায়িত্ব পালন করবেন। ১৬ ধারায় বলা হয়েছে, মেয়রের পদ আকস্মিক শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে পদ পূরণ করতে হবে। যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনি বাকি সময় দায়িত্ব পালন করবেন। এ অবস্থায় ইশরাকের আজ থেকে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকছে না, কারণ মেয়াদ আজই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
২৫(১) ধারায় বলা হয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ করা যাবে। সে ক্ষেত্রে একজন উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রশাসক নিয়োগ করা যাবে। এসব বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে এটা স্পষ্ট হয়ে যায়, ইশরাকের আর মেয়র পদে শপথ নেওয়ার সুযোগ থাকছে না।































