ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের বিপক্ষে ফ্রান্স
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:১০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / 5
ফ্রান্সের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যালিস রুফো বলেছেন, "সামরিক হস্তক্ষেপ ফ্রান্সের জন্য পছন্দের বিকল্প নয়" (এএফপি)
ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অভিযানের প্রেক্ষাপটে সামরিক হস্তক্ষেপকে ‘পছন্দের পথ’ হিসেবে দেখছে না ফ্রান্স। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যালিস রুফো এ কথা জানিয়েছেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজনৈতিক অনুষ্ঠান লে গ্রাঁ জুরি-তে দেওয়া বক্তব্যে রুফো বলেন, ফ্রান্সের উচিত ইরানের জনগণকে সমর্থন দেওয়া, যুদ্ধের পথে না যাওয়া।
তিনি বলেন, “আমাদের উচিত সবভাবে ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়ানো। তবে সামরিক হস্তক্ষেপ ফ্রান্সের পছন্দের পথ নয়।”
তিনি আরও বলেন, পরিবর্তন আনতে হলে তা ইরানিদের হাতেই আসতে হবে।
“এই শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্ত হওয়া ইরানের জনগণের দায়িত্ব,” বলেন তিনি।
ইন্টারনেট বন্ধ করে রাখার ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন রুফো।
তিনি বলেন, “ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণঅপরাধ নথিভুক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে গেছে।”
গত ৮ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে ইন্টারনেট কার্যত বন্ধ রয়েছে। প্রায় ৯ কোটি জনসংখ্যার দেশটি তখন থেকেই বহির্বিশ্ব থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, এই সুযোগে নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালিয়েছে।
বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে, এতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। নরওয়েভিত্তিক সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা শেষ পর্যন্ত ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তবে ইরান সরকার নিহতের সংখ্যা জানিয়েছে ৩ হাজার ১১৭ জন। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে ‘শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিক রয়েছেন বলে দাবি করেছে সরকার।
অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সরকার বলছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উসকানিতে আন্দোলনে নেমেছে।
ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেন রুফো।
তিনি বলেন, “ইরানের জনগণ তাদের শাসনব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধু ইরানিদেরই। আমরা তাদের নেতা বেছে দিতে পারি না।”
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে দমন-পীড়নের জেরে ইরানে সামরিক হামলার হুমকি দিলেও পরে মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের ঘোষণার পর অবস্থান কিছুটা নমনীয় করেন।
ডিসেম্বরের ২৮ তারিখ তেহরানে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে প্রথম এই আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে চালু থাকা ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে রূপ নেয়।
চলমান অস্থিরতার মধ্যেই ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা সামরিক পথ এড়িয়ে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ইরানের জনগণকে সমর্থন দিয়ে যাবে।



































