বাঙ্কার-ব্রেকার বোমা ব্যবহার
ইরানে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করলো আমেরিকা
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
- / 203
যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের অন্যতম বড় পারমাণবিক কেন্দ্র ইসফাহানে ‘বাঙ্কার-ব্রেকার’ বোমা ব্যবহার করেনি, কারণ সেটি এতটাই গভীরে অবস্থিত যে এই ধরণের বোমা কার্যকর হতো না—সিনেটরদের এক ব্রিফিংয়ে এমন তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। ফলে নিজেদের বর্থ্যতার কথাই স্বীকার করে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, এই প্রথমবারের মতো জানা গেল, কেন যুক্তরাষ্ট্র ইসফাহান স্থাপনায় ‘Massive Ordnance Penetrator বা বাঙ্কার-ধ্বংসকারী বিশাল বোমা’ ব্যবহার করেনি, যেখানে ধারণা করা হয় ইরানের প্রায় ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। এ ধরনের ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমান ইরানের ফোর্দো ও নাটাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে এক ডজনেরও বেশি বাঙ্কার-ব্রেকার বোমা ফেলে। কিন্তু ইসফাহান স্থাপনাটিতে কেবলমাত্র টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, যা একটি সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপ করা হয়।
সেনেটরদের সঙ্গে গোপন ব্রিফিংয়ে অংশ নেন জেনারেল ড্যান কেইনের পাশাপাশি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ। ব্রিফিং নিয়ে জেনারেল কেইনের দপ্তর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় অংশ ইসফাহান ও ফোর্দো কেন্দ্রের গভীরে সংরক্ষিত আছে। ডেমোক্রেট সিনেটর ক্রিস মারফি বলেন, “ইরানের কিছু সক্ষমতা এতটাই গভীর যে আমরা কখনোই তা পৌঁছাতে পারি না। তারা এমন স্থানে পারমাণবিক উপাদান রাখছে, যেখানে মার্কিন হামলা পৌঁছাতে অক্ষম।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা এক প্রাথমিক মূল্যায়নে জানায়, হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মূল উপাদান ধ্বংস হয়নি। ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস না হলেও কর্মসূচি কয়েক মাস পিছিয়ে গেছে। এছাড়া হামলার আগেই কিছু সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার দাবি করেন, তিনটি স্থাপনা থেকে কিছুই সরানো হয়নি। যদিও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা স্বীকার করেছেন যে হামলায় ইরানের সমস্ত পারমাণবিক উপাদান ধ্বংস হয়নি। তবে তারা বলেন, এটি ছিল না সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্য।
টেক্সাসের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইকেল ম্যাককোল সিএনএনকে বলেন, “ইউরেনিয়াম স্থানান্তরিত হতে পারে, কিন্তু সেটা আমাদের অভিযানের লক্ষ্য ছিল না। আমার ধারণা, বেশিরভাগ ইউরেনিয়াম এখনো স্থাপনাতেই আছে। আমাদের পূর্ণ হিসাব দরকার। এজন্য আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থাকে সরাসরি যাচাই করতে হবে।”
রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান গ্রেগ মারফি বলেন, “আমরা যে নির্দিষ্ট লক্ষ্যগুলো ধ্বংস করতে চেয়েছিলাম, তা করেছি। ইউরেনিয়াম ধ্বংস করা ছিল না এই মিশনের উদ্দেশ্য।”
সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, “তিনটি স্থাপনাই ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু ইরানের আকাঙ্ক্ষা এখনো আছে। আমরা জানি না ৯০০ পাউন্ড সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথায় আছে। তবে সেটা ওই লক্ষ্যবস্তুর অন্তর্ভুক্ত ছিল না।”
তিনি আরও বলেন, “এই কেন্দ্রগুলো এমনভাবে ধ্বংস হয়েছে যে, এগুলো আর সহজে ব্যবহারযোগ্য নয়।”

































