ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইয়েমেন উপকূলে নৌকাডুবি, ৬৮ অভিবাসীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:১৫:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / 127

ইয়েমেন উপকূলে নৌকাডুবি, ৬৮ অভিবাসীর মৃত্যু

আফ্রিকার অভিবাসী ও শরণার্থীদের বহনকারী একটি নৌকা ইয়েমেন উপকূলে ডুবে যাওয়ায় অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৭৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সোমবার (৪ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) রোববার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আইওএম-এর ইয়েমেন শাখার প্রধান আবদুসাত্তার এসোয়েভ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)–কে জানান, ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে ১৫৪ জন ইথিওপিয়ান নাগরিক ছিলেন। এটি ইয়েমেনের আবিয়ান প্রদেশের উপকূলে ডুবে যায়।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। খানফার জেলায় ৫৪ জনের মরদেহ ভেসে আসে এবং অন্য একটি এলাকা থেকে আরও ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এর আগে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, এই ঘটনায় অন্তত ৫৪ জন নিহত হয়েছেন।

জাঞ্জিবার শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক আবদুল কাদের বাজামিল জানান, নিহতদের দাফনের জন্য শহরের শাকরা এলাকার কাছে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল ও ইয়েমেনের মধ্যবর্তী সমুদ্রপথ অভিবাসীদের জন্য একটি প্রচলিত রুট হলেও এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটিতে অভিবাসী ও শরণার্থীদের প্রবাহ বেড়ে যায়।

তবে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে হুথি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং মানবিক সংকট আংশিকভাবে কমে আসে।

সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ার মতো সংঘাতপীড়িত দেশ থেকে আসা বহু মানুষ ইয়েমেনে আশ্রয় নেওয়ার জন্য অথবা উপসাগরীয় ধনী দেশগুলোতে পাড়ি জমানোর উদ্দেশ্যে এই বিপজ্জনক পথে যাত্রা করেন। আইওএম-এর মতে, এই পথ বিশ্বে অন্যতম ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন রুট।

প্রায়ই এই পথে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নৌকায় লোহিত সাগর পাড়ি দেন অভিবাসীরা, যা প্রাণঘাতী পরিণতি ডেকে আনে।

আইওএম-এর তথ্যমতে, ২০২৪ সাল শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি শরণার্থী ও অভিবাসী ইয়েমেনে পৌঁছেছেন, যা আগের বছরের ৯৭ হাজার ২০০ জনের তুলনায় অনেক কম। আইওএম-এর মে মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সমুদ্রপথে নজরদারি বেড়ে যাওয়ায় এই সংখ্যা কমেছে।

গত দুই বছরে এই পথে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আইওএম জানায়, শুধু গত বছরেই এই রুটে ৫৫৮ জনের মৃত্যু হয়। গত এক দশকে এই পথে অন্তত ২ হাজার ৮২ জন নিখোঁজ হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬৯৩ জনের ডুবে মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

বর্তমানে ইয়েমেনে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার শরণার্থী ও অভিবাসী অবস্থান করছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইয়েমেন উপকূলে নৌকাডুবি, ৬৮ অভিবাসীর মৃত্যু

সর্বশেষ আপডেট ১১:১৫:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

আফ্রিকার অভিবাসী ও শরণার্থীদের বহনকারী একটি নৌকা ইয়েমেন উপকূলে ডুবে যাওয়ায় অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৭৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সোমবার (৪ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) রোববার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আইওএম-এর ইয়েমেন শাখার প্রধান আবদুসাত্তার এসোয়েভ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)–কে জানান, ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে ১৫৪ জন ইথিওপিয়ান নাগরিক ছিলেন। এটি ইয়েমেনের আবিয়ান প্রদেশের উপকূলে ডুবে যায়।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। খানফার জেলায় ৫৪ জনের মরদেহ ভেসে আসে এবং অন্য একটি এলাকা থেকে আরও ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এর আগে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, এই ঘটনায় অন্তত ৫৪ জন নিহত হয়েছেন।

জাঞ্জিবার শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক আবদুল কাদের বাজামিল জানান, নিহতদের দাফনের জন্য শহরের শাকরা এলাকার কাছে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল ও ইয়েমেনের মধ্যবর্তী সমুদ্রপথ অভিবাসীদের জন্য একটি প্রচলিত রুট হলেও এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটিতে অভিবাসী ও শরণার্থীদের প্রবাহ বেড়ে যায়।

তবে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে হুথি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং মানবিক সংকট আংশিকভাবে কমে আসে।

সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ার মতো সংঘাতপীড়িত দেশ থেকে আসা বহু মানুষ ইয়েমেনে আশ্রয় নেওয়ার জন্য অথবা উপসাগরীয় ধনী দেশগুলোতে পাড়ি জমানোর উদ্দেশ্যে এই বিপজ্জনক পথে যাত্রা করেন। আইওএম-এর মতে, এই পথ বিশ্বে অন্যতম ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন রুট।

প্রায়ই এই পথে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নৌকায় লোহিত সাগর পাড়ি দেন অভিবাসীরা, যা প্রাণঘাতী পরিণতি ডেকে আনে।

আইওএম-এর তথ্যমতে, ২০২৪ সাল শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি শরণার্থী ও অভিবাসী ইয়েমেনে পৌঁছেছেন, যা আগের বছরের ৯৭ হাজার ২০০ জনের তুলনায় অনেক কম। আইওএম-এর মে মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সমুদ্রপথে নজরদারি বেড়ে যাওয়ায় এই সংখ্যা কমেছে।

গত দুই বছরে এই পথে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আইওএম জানায়, শুধু গত বছরেই এই রুটে ৫৫৮ জনের মৃত্যু হয়। গত এক দশকে এই পথে অন্তত ২ হাজার ৮২ জন নিখোঁজ হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬৯৩ জনের ডুবে মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

বর্তমানে ইয়েমেনে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার শরণার্থী ও অভিবাসী অবস্থান করছেন।