ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় নিহত ১৯, বালিতে জরুরি অবস্থা জারি
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৯:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 121
অতি ভারী বৃষ্টির কারণে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত ইন্দোনেশিয়া। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শুধু পর্যটন নগরী বালি রাজ্যেই মারা গেছেন ১৪ জন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। গত এক দশকের মধ্যে এটি ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বালিতে এক সপ্তাহের জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। খবর—আল জাজিরা ও বিবিসি।
গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে পর্যটন দ্বীপ বালি ও পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশ প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টিজনিত ভূমিধসে বহু ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, অফিস-আদালত এবং সড়ক-সেতু বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, অন্তত দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ এবং প্রধান কয়েকটি সড়ক ভেঙে পড়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আন্তারা জানায়, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানো, নিখোঁজদের খোঁজ এবং বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। বালির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দুজন এবং রাজধানী দেনপাসারে আটজন নিহত হয়েছেন। গিয়ানইয়ার এলাকায় নিহত হয়েছেন তিনজন ও বাদুং কাউন্টিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। দেনপাসারে আরও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া পাশের প্রদেশ পূর্ব নুসা তেঙ্গারায় আরও তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্যায় রাজধানীর দুটি ভবন ভেঙে পড়েছে এবং প্রায় ৮৫ জন বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জেমব্রানা ডিস্ট্রিক্টে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে তাদের রাখা হয়েছে।
বালির অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান নিয়োমান সিদাকার্যা বলেন, “সব জায়গাই পানিতে তলিয়ে গেছে, এমনকি ট্রাকও কষ্টে চলাচল করছে।”
এদিকে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। হোটেল কর্মকর্তারা জানান, বন্যায় স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নর্দমার মুখে ময়লা-আবর্জনা জমে পানি নিষ্কাশন প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
বালির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে ৩৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও শুক্রবার বৃষ্টিপাত কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বালি এখনো তীব্র আবহাওয়ার সতর্কতার মধ্যে রয়েছে।
































