ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরির ছাই দিল্লিতে, বিমান চলাচল ব্যাহত
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:০১:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
- / 93
উত্তর ইথিওপিয়ার প্রায় ১২ হাজার বছর ধরে সুপ্ত আগ্নেয়গিরি হাইলি গুব্বি হঠাৎ অগ্ন্যুৎপাত করেছে। রোববার সকালে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা অগ্ন্যুৎপাত থেকে ছড়িয়ে পড়া ছাই লাল সাগর পেরিয়ে ইয়েমেন ও ওমানের দিকে ধেয়ে যায়। এরপর ভারতীয় রাজধানী দিল্লিতে পৌঁছেছে।
ছাইয়ের কারণে ভারতে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব বা রুট পরিবর্তন করা হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া ১১টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এছাড়া ইন্ডিগো, আকাসা এয়ার এবং কেএলএম-এর মতো বিমান সংস্থাগুলোও প্রভাবিত হয়েছে। ইন্ডিগো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। মুম্বাই বিমানবন্দর যাত্রীদের ফ্লাইটের অবস্থা আগে পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে।
ভারতের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছাইয়ের কারণে বায়ুর মানে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে, তবে তাতে স্বাস্থ্যগত বড় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। যদিও সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিল্লির বাতাসের মান ‘খুব খারাপ’ হিসেবে ধরা হয়েছিল।
আগ্নেয়গিরির ছাই ক্ষুদ্র কণার ধরণ, যা অগ্ন্যুৎপাতের সময় বায়ুমণ্ডলে ছড়ায়। এটি বিমান ইঞ্জিনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, বিমানবন্দর ও আশেপাশের পরিবেশ দূষিত করতে পারে এবং দৃশ্যমানতা হ্রাস করতে পারে, যা বিমান চলাচলের জন্য বিপজ্জনক। ছাই দূষণের তিনটি স্তর থাকে—নিম্ন, মাঝারি ও উচ্চ। পাইলটরা নির্দেশিকা অনুযায়ী এই ঘনত্বে কতক্ষণ উড়তে পারবেন তা নির্ধারণ করে।
ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের (আইএমডি) মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, ছাই ছড়িয়ে পড়ার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮.৫ কিলোমিটার (৫.২ মাইল) থেকে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে। তিনি বলেন, “এটি সাময়িকভাবে উপগ্রহের কার্যকারিতা এবং বিমান পরিচালনার ওপর প্রভাব ফেলবে। তবে আবহাওয়া বা বায়ুর মানকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করবে না। ছাই গত রাতে উত্তর ভারতে পৌঁছেছে এবং মনে হচ্ছে চীনের দিকে এগোচ্ছে।”
বেসরকারি সংস্থা স্কাইমেট ওয়েদার জানিয়েছে, ছাই ছড়িয়ে পড়ার সময় নির্ধারণ করা কঠিন। তবে আইএমডি অনুমান করছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে দিল্লির আকাশ পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে।
অগ্নেয়গিরির ছাই বিরল ঘটনা। তবে ২০১০ সালে আইসল্যান্ডের আইজাফজাল্লাজোকুল আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় বিশ্বব্যাপী ভ্রমণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় আকাশসীমা পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
সূত্র: বিবিসি
































