ঢাকা ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘ইত্যাদি’ এবার সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামে

বিনোদন প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:০৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
  • / 1534

‘ইত্যাদি’ এবার সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামে

নব্বই দশক থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শিকড়ের সন্ধান তুলে ধরার ধারাবাহিকতায় জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ এবার কুড়িগ্রামের উলিপুরে আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি নদীবেষ্টিত, পলি গঠিত এবং ভাওয়াইয়া গান সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য খ্যাত এই এলাকায় করা হয়েছে। মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছিল প্রায় দেড় শতবর্ষ প্রাচীন উলিপুর মহারানি স্বর্ণময়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে।

ধারণ উপলক্ষে পুরো কুড়িগ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। দুপুরের পর থেকে দর্শকরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হতে শুরু করেন। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণ করা বিশেষ আমন্ত্রণপত্রের মাধ্যমে দর্শকরা অংশ নেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠানস্থল পূর্ণ হয়ে যায়। স্থান সংকুলানের কারণে আমন্ত্রিত দর্শকদের বাইরে আরও হাজার হাজার মানুষ তাদের প্রিয় অনুষ্ঠান উপভোগ করতে হাজির হন। দর্শকরা কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা রংপুর, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা থেকেও এসেছেন। স্থানীয়রা জানান, কুড়িগ্রামে কখনও এত দর্শক সমাগম হয়নি। অনেক দর্শক ছাদ, গাছ ও রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করেও অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত ভাওয়াইয়া কুড়িগ্রামের মানুষের প্রাণের গান। ইত্যাদির এই পর্বে কুড়িগ্রামের ভাওয়াইয়া গান, শিল্পী ও ইতিহাসকে কেন্দ্র করে নানা পরিবেশনা এবং নাট্য, প্রতিবেদনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে দুটি গান পরিবেশিত হয়। প্রথম গানটি কুড়িগ্রামের কৃষ্টি ও ইতিহাস নিয়ে মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় স্থানীয় অর্ধশতাধিক নৃত্যশিল্পীর সঙ্গে নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করা হয়। নৃত্য কোরিওগ্রাফি করেছেন এস কে জাহিদ, কণ্ঠ দিয়েছেন রাজিব ও তানজিনা রুমা। সুর করেছেন হানিফ সংকেত এবং সংগীত আয়োজন করেছেন মেহেদী। দ্বিতীয় গানটি চিলমারী বন্দরকে কেন্দ্র করে ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাসউদ্দীনের গান ‘ও কি গাড়িয়াল ভাই’ নতুন প্রজন্মের শিল্পী সালমা আক্তার ও পূর্ণচন্দ্র রায় পরিবেশন করেন। সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদী।

দর্শকপর্বের নিয়ম অনুযায়ী প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে চার জন দর্শক নির্বাচিত হয়ে ভাওয়াইয়া গান সম্পর্কিত বিশেষ পরিবেশনায় অংশ নেন। বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া একাডেমির যন্ত্রশিল্পীবৃন্দ বাদ্যযন্ত্র সহযোগিতা প্রদান করেন।

শিকড় সন্ধানী ‘ইত্যাদি’ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অচেনা-অজানা বিষয়, তথ্যভিত্তিক শিক্ষামূলক প্রতিবেদন এবং জনকল্যাণমূলক বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি সম্প্রতি কুড়িগ্রাম জেলার ইতিহাস, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, মহারাণী স্বর্ণময়ী, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর বাড়ি, বীর প্রতীক তারামন বিবি, মুক্তিযুদ্ধ, চিলমারী নদী বন্দর এবং ভাওয়াইয়া চর্চা সম্পর্কিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য কুড়িগ্রামের ‘রিকতা আখতার বানু (লুৎফা) বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়’ সম্পর্কেও একটি মানবিক প্রতিবেদন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিদেশি প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে সেন্ট জনস আইল্যান্ড ও কুসু দ্বীপের আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও সৌন্দর্য। এছাড়াও কাশেম টিভির সাংবাদিকের সঙ্গে নাতির আলাপচারিতা, চিঠিপত্র পর্ব, সামাজিক অসংগতি ও সমসাময়িক বিষয়ভিত্তিক তীর্যক নাট্যাংশ পরিবেশন করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা ছিলেন সোলায়মান খোকা, আব্দুল আজিজ, আবদুল্লাহ রানা, সুভাশিষ ভৌমিক, জিল্লুর রহমান, মুকিত জাকারিয়া, আমিন আজাদ, শাহেদ আলী, আশরাফুল আলম সোহাগ, তারিক স্বপন, নিপু, আবু হেনা রনি, শাওন মজুমদার, সাবরিনা নিসা, জামিল হোসেন, রিমু রোজা খন্দকার, সাদিয়া তানজিন, সুজাত শিমুল, হানিফ পালোয়ান, নজরুল ইসলাম, সূচনা শিকদার, রাজীব সালেহীন, বেলাল আহমেদ মুরাদসহ আরও অনেকে।

ইত্যাদির এই পর্ব ৩১ অক্টোবর, শুক্রবার রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হবে। অনুষ্ঠান রচনা, নির্দেশনা ও উপস্থাপন করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

‘ইত্যাদি’ এবার সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামে

সর্বশেষ আপডেট ০২:০৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

নব্বই দশক থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শিকড়ের সন্ধান তুলে ধরার ধারাবাহিকতায় জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ এবার কুড়িগ্রামের উলিপুরে আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি নদীবেষ্টিত, পলি গঠিত এবং ভাওয়াইয়া গান সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য খ্যাত এই এলাকায় করা হয়েছে। মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছিল প্রায় দেড় শতবর্ষ প্রাচীন উলিপুর মহারানি স্বর্ণময়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে।

ধারণ উপলক্ষে পুরো কুড়িগ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। দুপুরের পর থেকে দর্শকরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হতে শুরু করেন। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণ করা বিশেষ আমন্ত্রণপত্রের মাধ্যমে দর্শকরা অংশ নেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠানস্থল পূর্ণ হয়ে যায়। স্থান সংকুলানের কারণে আমন্ত্রিত দর্শকদের বাইরে আরও হাজার হাজার মানুষ তাদের প্রিয় অনুষ্ঠান উপভোগ করতে হাজির হন। দর্শকরা কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা রংপুর, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা থেকেও এসেছেন। স্থানীয়রা জানান, কুড়িগ্রামে কখনও এত দর্শক সমাগম হয়নি। অনেক দর্শক ছাদ, গাছ ও রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করেও অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত ভাওয়াইয়া কুড়িগ্রামের মানুষের প্রাণের গান। ইত্যাদির এই পর্বে কুড়িগ্রামের ভাওয়াইয়া গান, শিল্পী ও ইতিহাসকে কেন্দ্র করে নানা পরিবেশনা এবং নাট্য, প্রতিবেদনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে দুটি গান পরিবেশিত হয়। প্রথম গানটি কুড়িগ্রামের কৃষ্টি ও ইতিহাস নিয়ে মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় স্থানীয় অর্ধশতাধিক নৃত্যশিল্পীর সঙ্গে নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করা হয়। নৃত্য কোরিওগ্রাফি করেছেন এস কে জাহিদ, কণ্ঠ দিয়েছেন রাজিব ও তানজিনা রুমা। সুর করেছেন হানিফ সংকেত এবং সংগীত আয়োজন করেছেন মেহেদী। দ্বিতীয় গানটি চিলমারী বন্দরকে কেন্দ্র করে ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাসউদ্দীনের গান ‘ও কি গাড়িয়াল ভাই’ নতুন প্রজন্মের শিল্পী সালমা আক্তার ও পূর্ণচন্দ্র রায় পরিবেশন করেন। সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদী।

দর্শকপর্বের নিয়ম অনুযায়ী প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে চার জন দর্শক নির্বাচিত হয়ে ভাওয়াইয়া গান সম্পর্কিত বিশেষ পরিবেশনায় অংশ নেন। বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া একাডেমির যন্ত্রশিল্পীবৃন্দ বাদ্যযন্ত্র সহযোগিতা প্রদান করেন।

শিকড় সন্ধানী ‘ইত্যাদি’ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অচেনা-অজানা বিষয়, তথ্যভিত্তিক শিক্ষামূলক প্রতিবেদন এবং জনকল্যাণমূলক বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি সম্প্রতি কুড়িগ্রাম জেলার ইতিহাস, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, মহারাণী স্বর্ণময়ী, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর বাড়ি, বীর প্রতীক তারামন বিবি, মুক্তিযুদ্ধ, চিলমারী নদী বন্দর এবং ভাওয়াইয়া চর্চা সম্পর্কিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য কুড়িগ্রামের ‘রিকতা আখতার বানু (লুৎফা) বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়’ সম্পর্কেও একটি মানবিক প্রতিবেদন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিদেশি প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে সেন্ট জনস আইল্যান্ড ও কুসু দ্বীপের আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও সৌন্দর্য। এছাড়াও কাশেম টিভির সাংবাদিকের সঙ্গে নাতির আলাপচারিতা, চিঠিপত্র পর্ব, সামাজিক অসংগতি ও সমসাময়িক বিষয়ভিত্তিক তীর্যক নাট্যাংশ পরিবেশন করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা ছিলেন সোলায়মান খোকা, আব্দুল আজিজ, আবদুল্লাহ রানা, সুভাশিষ ভৌমিক, জিল্লুর রহমান, মুকিত জাকারিয়া, আমিন আজাদ, শাহেদ আলী, আশরাফুল আলম সোহাগ, তারিক স্বপন, নিপু, আবু হেনা রনি, শাওন মজুমদার, সাবরিনা নিসা, জামিল হোসেন, রিমু রোজা খন্দকার, সাদিয়া তানজিন, সুজাত শিমুল, হানিফ পালোয়ান, নজরুল ইসলাম, সূচনা শিকদার, রাজীব সালেহীন, বেলাল আহমেদ মুরাদসহ আরও অনেকে।

ইত্যাদির এই পর্ব ৩১ অক্টোবর, শুক্রবার রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হবে। অনুষ্ঠান রচনা, নির্দেশনা ও উপস্থাপন করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন।