ইতিহাসের ওপর মব আক্রমণ চলছে: সারা হোসেন
- সর্বশেষ আপডেট ১২:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫
- / 182
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন। বর্তমান সরকারের এক বছরপূর্তি উপলক্ষে দেশের সামাজিক পরিস্থিতি, মানবাধিকার ও সমসাময়িক বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন। গত ৬ আগস্ট সারা হোসেন সাক্ষাতকারটিতে বলেছেন , ইতিহাসের ওপর মব আক্রমণ চলছে।
প্রশ্ন: সরকারের এক বছর হলো। একজন মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী হিসেবে এই সময়কে কীভাবে দেখছেন?
সারা হোসেন: আমরা দেখলাম, গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার পর তিন দিন দেশে কোনো সরকার ছিল না। তিনি পালিয়ে গেলেন। কাউকে রেখে যাননি; কাউকে দায়িত্বও দিয়ে যাননি। সামরিক বাহিনী রাস্তায়, কিন্তু পুলিশও অনেক ক্ষেত্রে পালিয়ে গেছে। পুলিশ জুলাই-আগস্টে গুলি চালায় এবং অনেক হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। সে সময় তাদের অনুপস্থিতির কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেক অবনতি হয়েছিল। সে পরিস্থিতিতে ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলো। সবার মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি এলো।
আগের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে আমরা নিঃসন্দেহে এখন ভালো আছি। গত বছর জুলাই-আগস্টের দিনগুলোতে সাধারণ নাগরিক ও শিশুদের ওপর যেভাবে নির্বিচারে গুলি চলছিল, প্রতিদিন ভয়াবহভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছিল, সে অবস্থা থেকে এক বছরে আমরা বেরিয়ে এসেছি। যদি ওই অবস্থার পরিবর্তন না হতো; যারা অধিকারের জন্য রাস্তায় নেমেছিল, তাদের সবাইকে হয়তো রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো। কিন্তু ৫ আগস্টের পরও আমরা দেখেছি অনেকের ওপর প্রতিহিংসামূলক আক্রমণ হয়েছে। এমনকি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপরেও আক্রমণ হয়েছে। সেই ঘটনার তদন্ত ও বিচার হওয়া দরকার ছিল। তৎকালীন সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অতিরিক্ত বল প্রয়োগের মাধ্যমে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে শত শত মানুষ-নারী-শিশুকে নিহত এবং হাজার হাজার মানুষকে আহত করেছে। অন্যান্য গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটিয়েছে। সরকার জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে তারা সুপারিশও দিয়েছে।
প্রশ্ন: বিগত সরকারের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল। সেই ধারাবাহিকতা থেকে আমরা কতটুকু বের হতে পারলাম?
সারা হোসেন: বিগত সরকারের সময় অতি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অনেক অভিযোগ ছিল। যেমন গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গণগ্রেপ্তার, পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন এবং কারাগারে নির্যাতন, বেআইনি আটক, একজনের বিরুদ্ধে এক বা অজস্র মিথ্যা মামলা দেওয়া, জামিন বারবার নাকচ করা, বিচারিক হয়রানিসহ রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ অতীতে উঠেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব ঘটনার শিকার ব্যক্তিরা এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা পাননি। বরং আমরা দেখেছি, সেই সময়ে এবং এখনও তৎকালীন সরকারের অনুসারী অনেকেই এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে যাচ্ছেন। এ ঘটনাগুলোর তদন্ত ও বিচার হওয়া জরুরি। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের অধিকার নিশ্চিত করা উচিত। সে ব্যাপারে এই সরকার শক্ত অবস্থান নিয়েছে।
প্রশ্ন: সারাদেশে মব সন্ত্রাসের অনেক ঘটনা ঘটছে। কেন এমন হচ্ছে বলে মনে করেন?
সারা হোসেন: সম্প্রতি গোপালগঞ্জে একটি সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনায় পাঁচজন মারা গেছেন। সে ব্যাপারে এখনও তদন্ত চলছে। সেখানকার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ প্রশ্ন আছে। ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা দেখেছি, কীভাবে কোনো কোনো দল অন্যান্য দল বা ব্যক্তিদের ওপর হঠাৎ করে চড়াও হয়েছে। বিভিন্ন সম্প্রদায় ও ব্যক্তির ওপর আক্রমণ হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে। আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ হয়েছে। যারা ভিন্ন রাজনৈতিক মত প্রকাশ করে, তাদের ওপর আক্রমণ হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত ছিলেন এমন অভিযোগ তুলে এক দল মানুষ এসে অনেককে আক্রমণ করছে, লাঞ্ছনা করছে, গালাগাল করছে; সবার সামনে তাদের অপমান করছে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের কোনো সক্রিয় ভূমিকা নেই; আদালতেও কোনো প্রতিক্রিয়া নেই– এগুলো আমরা দেখছি। রাষ্ট্র অনেক ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বা সময়মতো ঘটনাগুলো থামাচ্ছে না। মব তৈরি হওয়ার পেছনে এটি একটি কারণ হতে পারে।
সবচেয়ে বড় মব আমরা দেখলাম গত বছর, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে একটা বাড়ির ওপর যখন হামলা হয়। সে সময় সামাজিক মাধ্যমে উস্কানি দেওয়া হয়েছে। যারা বাংলাদেশের নাগরিক, কিন্তু বিদেশে অবস্থান করছেন, সেখান থেকে তারা ইউটিউব ও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো উস্কানি দিয়েছেন। সেদিন সেখানে একটি বুলডোজার এসেছিল। সেটি কীভাবে এলো, কেন এলো, কে অনুমতি দিল, কেন এটি বন্ধ করা হলো না? আমার মনে হয়, এ ক্ষেত্রে সরকারের একটা জবাবদিহির ব্যাপার ছিল। কেন তারা এটি থামাতে বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি? তারা কি এটাকে এক ধরনের অনুমতি দিয়েছিলেন? সেদিন একটা ভয়াবহ মব তৈরি হয়েছিল। ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙাটা নিঃসন্দেহে অপরাধ। বাড়িটি যেহেতু আমাদের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে; একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। সেই ইতিহাস আপনি পছন্দ করেন কি করেন না, সেটি অন্য ব্যাপার। মবের মাধ্যমে ইতিহাসের ওপর আক্রমণ চলছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যক্তির ভাস্কর্য, যেমন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়েছে।
প্রশ্ন : গত এক বছরে বেশ কিছু সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে, মাজারে হামলা হয়েছে। সরকার কেন এসব ঠেকাতে পারছে না?
সারা হোসেন: ৫ আগস্টের পরপরই দেশের মন্দির ও মাজারের ওপর হামলার ঘটনা আমরা দেখেছি। এসব ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা মাজার ও মন্দিরের সামনে পাহারায় ছিল। ইদানীং এ ঘটনাগুলো অনেক কমে গেছে। তবে মাজারের ওপর হামলার ব্যাপারে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। অনেক জায়গায় বেশ দেরি করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যদিও সময়মতো যায়নি। যে দেশে পুলিশের মাধ্যমে এমন একটা ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড হয়, সে দেশে স্বাভাবিকভাবে পুলিশের ওপর অনেকের আস্থা থাকে না। যারা ওই সময় সরাসরি গুলির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের অনেককে এ মুহূর্তে পাওয়া যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখার জন্য যথার্থ পুলিশ বাহিনী প্রয়োজন। এখন তারা ওইভাবে মাঠে নেই।
প্রশ্ন: আদালতে আসামি হাজিরের সময় লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটছে। সহকর্মী আইনজীবীদেরও হেনস্তা করার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। অনেকে বলছেন, অতীতে এমনটা দেখা যায়নি।
সারা হোসেন: আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের মাধ্যমে নিরাপত্তা দিতে হবে। এ অবস্থায় কোনোভাবেই লাঞ্ছনার কোনো সুযোগ নেই। নিঃসন্দেহে এটা অন্যায় ও হওয়া উচিত নয়। ৫ আগস্ট থেকে এমন ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। যদিও তা এখন আর আগের মতো নয়। আদালত একটা নিরাপদ জায়গা, শুধু ভুক্তভোগীর জন্য নয়। আইনের চোখে যে অভিযুক্ত তার জন্য এটা একটা নিরাপদ জায়গা। অভিযুক্ত মানেই অপরাধী নয়। বিনা কারণে হ্যান্ডকাফ পরানো মানুষকে হেনস্তা করা, গালাগাল করা– এমনটা কখনোই হওয়া উচিত না। তবে বর্তমান সময়টা বুঝে নিতে হবে। এখন আমরা একটা ক্রান্তিকালীন অবস্থায় আছি।
যারা জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডে উস্কানি দিয়েছে, অংশগ্রহণ করেছে তাদের ওপর সাধারণ মানুষের ঘৃণা অবশ্যই আছে– এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। যারা আদালতে ডিম ছুড়ছেন, হামলা করছেন, আদালতকে অনিরাপদ অবস্থায় ফেলেছেন, তারা প্রায় ১৫ বছর ধরে নানা ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তাই হয়তো তারা এভাবে ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। তার পরও বলব, এভাবে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করা উচিত ছিল না। এটার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এখন যা ঘটছে, এ জন্য নিন্দা করতেই হবে। হ্যান্ডকাফ কখন পরানো যাবে; এ ব্যাপারে হাইকোর্টের নির্দেশনা ও গাইডলাইন রয়েছে। সম্প্রতি আমরা দেখেছি, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালকে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়েছে। তারা কি কাউতে ঘুসি মারতেন? তাদের এমনিতেই আদালতে নিয়ে যাওয়া হলো না কেন? এখানে আদালত কেন কিছু বলছেন না? আদালতের দায়িত্বে যারা আছেন, তারা তো বলতে পারেন। আমাদের বিচার ব্যবস্থা থেকে একটা নির্দেশনা আসতে পারত– কেন এভাবে হ্যান্ডকাফ পরানো হচ্ছে। এটা তো পুলিশ পরায়। পুলিশের ওপরে যারা আছেন, তারাও বলতে পারেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টারাও বলতে পারেন।
প্রশ্ন: হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগও আসছে, কিছু ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের নামও আসছে।
সারা হোসেন: আমার মনে হয়, যেখানে এমন অভিযোগ উঠছে, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত। পুলিশ বাহিনী হোক বা কোনো নিরাপত্তা বাহিনী; হেফাজতে বা কারাগারে মারা গেলে সেটা যদি স্বাভাবিক মৃত্যু না হয়, তখনই একটা তদন্ত করতে হয় ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে। প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে; যে ঘটনাগুলো ঘটছে, তদন্ত ঠিকমতো হচ্ছে কিনা। তদন্ত হলে তার ফলাফল কোথায়? অতীতের পরিস্থিতির কারণে এ দাবিগুলো সবাই তুলেছে। আমরা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান দেখতে চাই। হয়তো রাতারাতি এর সমাধান হবে না। অন্তত যদি আমাদের প্রতিজ্ঞা থাকে– এমন ঘটনা ঘটলে আমরা দ্রুত তদন্ত করে বের করব, তাহলে সাধারণ নাগরিকের মধ্যে ধারণা জাগবে; সত্যিকারের একটা পরিবর্তনের পথে আছি।
প্রশ্ন: আমাদের বিচার বিভাগ কি স্বাধীনভাবে কাজ করছে বা করতে পারছে?
সারা হোসেন: বিচার বিভাগ কোনো সময় স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে পারছে না। আমি গত ৩০ বছর ধরে প্র্যাকটিস করি, এমন কোনো বছর যায়নি অভিযোগ তুলিনি। এরশাদের আমল থেকে শুরু করে বিএনপি-আওয়ামী লীগ-তত্ত্বাবধায়ক সরকার; কোনো সময় আদালত পরিপূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করেছে– কেউ এমন দাবি করবে বলে আমার মনে হয় না । তার পরও বিভিন্ন সময়ে কিছুটা বেশি স্বাধীন, কিছুটা কম স্বাধীন, এ রকম অবস্থা দেখি। আগের সরকারের সময় তুচ্ছ ঘটনায় আদালতে সাংঘাতিকভাবে প্রতিপক্ষকে কঠোরভাবে বাধা দেওয়া হতো, যেন সে সুবিচার না পায়।
প্রশ্ন: সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে নারীদের পরিস্থিতি কেমন দেখছেন?
সারা হোসেন: রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নারীদের উপস্থিতি খুব কম দেখা যাচ্ছে। বর্তমান সরকারে তিনজন নারী উপদেষ্টা আছেন। সরকারে তারা থাকলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আমরা নারীদের দেখছি না। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে একজন দক্ষ বিচারপতি আসছেন। সংস্কার কমিশনেও কোনো নারী নেই। বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনে কোনো নারী ছিলেন না। ঐকমত্য কমিশনে আরও অদ্ভুত একটা পরিস্থিতি। সেখানেও নারী নেই। তা ছাড়া বিভিন্ন সংস্কার কমিশনে যেসব দলের সঙ্গে বসা হচ্ছে, সেখানে কোনো নারী নেই। সরকারও তাদের নারী প্রতিনিধি থাকার ব্যাপারে কোনো তাগিদ দেয়নি। এখন দেখছি, সংবিধানের বিরুদ্ধে নানা ধরনের কথা বলা হচ্ছে। নতুন সংবিধান যদি তৈরি করা হয় সেখানে কি বৈষম্য নিরসনের ব্যবস্থা রাখা হবে?
প্রশ্ন: জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের কথা বলেছেন।
সারা হোসেন: নির্বাচনটা খুব দরকার।
প্রশ্ন: জুলাই সনদ নিয়ে এখনও সবাই একমত হতে পারেনি।
সারা হোসেন: জুলাই অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানাই। পাশাপাশি ঘোষণাপত্রে প্রারম্ভিক যে অংশ আছে, সেখানে অনেক বক্তব্য রাখা হয়েছে। এখানে জুলাই-এর কথা বলা হয়েছে। কেন তারা ৭২ পর্যন্ত চলে গেছেন? ৭২ থেকে ৭৫ সালের বক্তব্য তারা দিয়েছেন। মনে হয়েছে, ৭৫ সাল থেকে ৮১ সাল পর্যন্ত দেশে কিছু হয়নি। ওই সময়ের পরিস্থিতি নিয়ে কোনো মন্তব্যই নেই। এটা কেন? এটাকে কেন রাজনৈতিক লেন্স দিয়ে দেখতে হবে? আমার মনে হয়, এটা করে এক ধরনের বিভেদ সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা এখন বুঝতে পারছি, একটা ক্রান্তিকাল কত কঠিন। এখনও নানা ধরনের অপরাধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও ক্রান্তিকাল ছিল। সে সময় সব ঠিক ছিল না। তার মধ্যেও অনেক কিছু হয়েছে। আমাদের এখন যা প্রয়োজন সেটা হলো, বিভক্তিগুলো বেশি গভীর না করা। বিচার যাদের করতেই হবে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য, আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে এগিয়ে যাক। তা ছাড়া জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা ছিল, তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। এখন পর্যন্ত তারা বলে যাচ্ছেন, এটা ছিল বিদ্রোহ। অবশ্যই তাদের বিচারের মাধ্যমে জবাবদিহির মধ্যে আনতে হবে। সেটার জন্য স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়া দরকার।
প্রশ্ন: মানবাধিকার কমিশন রয়েছে। তারা কি যথাযথ ভূমিকা রাখতে পেরেছে?
সারা হোসেন: আমাদের মানবাধিকার কমিশন অনেক দিন ধরে কার্যকর না। এখানে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা এখন আর নেই। এখন আছেন শুধু কর্মকর্তারা। মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশন ঢেলে সাজিয়ে তাদের কার্যক্রম চালু করা খুব দরকার। অতীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় তারা ভালো ভূমিকা রাখেনি। এখন অবশ্যই আমাদের কার্যকর মানবাধিকার কমিশন দরকার। এমন একটি মানবাধিকার কমিশন চাই, যারা সাহস করে সরকারের সমালোচনা করতে দ্বিধাবোধ করবে না।
সূত্র : সমকাল
































