ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ঐতিহাসিক হিরোশিমা দিবস

ইতিহাসের এক বেদনাময় পারমাণবিক সকাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:১৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫
  • / 156

ইতিহাসের এক বেদনাময় পারমাণবিক সকাল

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে বিশ্বজুড়ে ইতিহাসের বাঁক ঘুরিয়ে দিয়েছিল একটি ভয়ংকর মুহূর্ত। সেদিন জাপানের হিরোশিমা শহরে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র। মুহূর্তেই শহরটি পরিণত হয় মৃত্যুকূপে। প্রায় দেড় লাখ মানুষ প্রাণ হারায়, অসংখ্য মানুষ বেঁচে গেলেও তীব্র তেজস্ক্রিয়তার শিকার হয়ে আজও ভুগছে নানা জটিলতায়।

এ বছরের ৬ আগস্ট সেই ভয়াবহ ঘটনার ৮০তম বার্ষিকী। এই দিনটি বিশ্বব্যাপী পরিচিত হিরোশিমা দিবস হিসেবে, যেখানে যুদ্ধবিরোধী ও পারমাণবিক অস্ত্রের বিপক্ষে নানা কার্যক্রম পালিত হয়। হিরোশিমা শহরের ‘শান্তি স্মৃতি পার্ক’-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা এবারও উচ্চারণ করেছেন একটি প্রশ্ন; ৮০ বছর পেরিয়ে গেলেও কেন যুক্তরাষ্ট্র এখনো সেই হামলার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি?

নাগাসাকি এবং শান্তির ছায়া
হিরোশিমার মাত্র তিন দিন পর, ৯ আগস্ট একই ধরনের আঘাতে আক্রান্ত হয় নাগাসাকি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে জাপানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে এই ‘চূড়ান্ত অস্ত্র’ প্রয়োগ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। যদিও যুদ্ধ শেষ হয়, কিন্তু জন্ম নেয় অনন্ত যন্ত্রণা।

তথ্য অনুসারে, হিরোশিমার নিহতদের অন্তত ২০ শতাংশ ছিলেন কোরীয় নাগরিক, যারা জাপানের উপনিবেশিক শাসনের সময় সেখানে কাজ করতেন। প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোরীয় তখন হিরোশিমায় বসবাস করছিলেন। অনেকেই এই দিকটি জানেন না।

যারা বেঁচে গেছেন, তারা কি সত্যিই বেঁচে আছেন?
যারা বিস্ফোরণের দিন উপস্থিত ছিলেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ এখনো লড়ছেন ক্যান্সার, শ্বাসকষ্ট, ত্বকজনিত সমস্যা ও জন্মগত প্রতিবন্ধকতার মতো ভয়াবহ পারমাণবিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়। এমনকি পরবর্তী প্রজন্মেও এসব প্রভাব রয়ে গেছে। বিস্ফোরণের সরাসরি শিকার না হয়েও বহু মানুষ কেবলমাত্র তেজস্ক্রিয় পরিবেশে বসবাসের কারণে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

বিশ্ব কি আবার সেই পথে?
বর্তমানে বৈশ্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, হিরোশিমা দিবস এখন শুধু অতীতের স্মরণ নয়, বরং ভবিষ্যতের সতর্কবার্তা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, হামাস-ইসরায়েল সংঘাত, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ঘিরে উত্তেজনা, ভারত-পাকিস্তানের পরমাণু সম্পর্কসহ নানা ঘটনা বিশ্বকে আবারো একটি নতুন পারমাণবিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব যখন অস্ত্র প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত, তখন ইতিহাস যেন বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে; শান্তির পথ ভুলে গেলে ভবিষ্যতও হিরোশিমা হয়ে যেতে পারে।

হিরোশিমা আজ: শান্তির প্রতীক না নীরব প্রশ্নবিদ্ধতা?
১৯৪৯ সালে হিরোশিমাকে ‘শান্তির শহর’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। গড়ে তোলা হয় ‘শান্তি স্মৃতি পার্ক’। প্রতিবছর সেই পার্কে দাঁড়িয়ে জাপানসহ বিশ্বের বহু মানুষ শ্রদ্ধা জানায় নিহতদের প্রতি। তবে অনেকেই মনে করেন, শ্রদ্ধার পাশাপাশি প্রয়োজন বৈশ্বিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া; যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ঐতিহাসিক হিরোশিমা দিবস

ইতিহাসের এক বেদনাময় পারমাণবিক সকাল

সর্বশেষ আপডেট ১১:১৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে বিশ্বজুড়ে ইতিহাসের বাঁক ঘুরিয়ে দিয়েছিল একটি ভয়ংকর মুহূর্ত। সেদিন জাপানের হিরোশিমা শহরে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র। মুহূর্তেই শহরটি পরিণত হয় মৃত্যুকূপে। প্রায় দেড় লাখ মানুষ প্রাণ হারায়, অসংখ্য মানুষ বেঁচে গেলেও তীব্র তেজস্ক্রিয়তার শিকার হয়ে আজও ভুগছে নানা জটিলতায়।

এ বছরের ৬ আগস্ট সেই ভয়াবহ ঘটনার ৮০তম বার্ষিকী। এই দিনটি বিশ্বব্যাপী পরিচিত হিরোশিমা দিবস হিসেবে, যেখানে যুদ্ধবিরোধী ও পারমাণবিক অস্ত্রের বিপক্ষে নানা কার্যক্রম পালিত হয়। হিরোশিমা শহরের ‘শান্তি স্মৃতি পার্ক’-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা এবারও উচ্চারণ করেছেন একটি প্রশ্ন; ৮০ বছর পেরিয়ে গেলেও কেন যুক্তরাষ্ট্র এখনো সেই হামলার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি?

নাগাসাকি এবং শান্তির ছায়া
হিরোশিমার মাত্র তিন দিন পর, ৯ আগস্ট একই ধরনের আঘাতে আক্রান্ত হয় নাগাসাকি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে জাপানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে এই ‘চূড়ান্ত অস্ত্র’ প্রয়োগ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। যদিও যুদ্ধ শেষ হয়, কিন্তু জন্ম নেয় অনন্ত যন্ত্রণা।

তথ্য অনুসারে, হিরোশিমার নিহতদের অন্তত ২০ শতাংশ ছিলেন কোরীয় নাগরিক, যারা জাপানের উপনিবেশিক শাসনের সময় সেখানে কাজ করতেন। প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোরীয় তখন হিরোশিমায় বসবাস করছিলেন। অনেকেই এই দিকটি জানেন না।

যারা বেঁচে গেছেন, তারা কি সত্যিই বেঁচে আছেন?
যারা বিস্ফোরণের দিন উপস্থিত ছিলেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ এখনো লড়ছেন ক্যান্সার, শ্বাসকষ্ট, ত্বকজনিত সমস্যা ও জন্মগত প্রতিবন্ধকতার মতো ভয়াবহ পারমাণবিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়। এমনকি পরবর্তী প্রজন্মেও এসব প্রভাব রয়ে গেছে। বিস্ফোরণের সরাসরি শিকার না হয়েও বহু মানুষ কেবলমাত্র তেজস্ক্রিয় পরিবেশে বসবাসের কারণে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

বিশ্ব কি আবার সেই পথে?
বর্তমানে বৈশ্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, হিরোশিমা দিবস এখন শুধু অতীতের স্মরণ নয়, বরং ভবিষ্যতের সতর্কবার্তা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, হামাস-ইসরায়েল সংঘাত, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ঘিরে উত্তেজনা, ভারত-পাকিস্তানের পরমাণু সম্পর্কসহ নানা ঘটনা বিশ্বকে আবারো একটি নতুন পারমাণবিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব যখন অস্ত্র প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত, তখন ইতিহাস যেন বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে; শান্তির পথ ভুলে গেলে ভবিষ্যতও হিরোশিমা হয়ে যেতে পারে।

হিরোশিমা আজ: শান্তির প্রতীক না নীরব প্রশ্নবিদ্ধতা?
১৯৪৯ সালে হিরোশিমাকে ‘শান্তির শহর’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। গড়ে তোলা হয় ‘শান্তি স্মৃতি পার্ক’। প্রতিবছর সেই পার্কে দাঁড়িয়ে জাপানসহ বিশ্বের বহু মানুষ শ্রদ্ধা জানায় নিহতদের প্রতি। তবে অনেকেই মনে করেন, শ্রদ্ধার পাশাপাশি প্রয়োজন বৈশ্বিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া; যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।