ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে

ইউরোপগামী বাংলাদেশিরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:২৫:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
  • / 166

ইউরোপগামী বাংলাদেশিরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে

২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে পৌঁছেছেন ৯ হাজার ৭৩৫ বাংলাদেশি, যা জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী এই রুটে বিশ্বে সর্বোচ্চ। একই সময়ে ইরিত্রিয়া, মিসর, পাকিস্তান ও ইথিওপিয়া থেকে এসেছে যথাক্রমে ৪ হাজার ৩৪৮, ৩ হাজার ৫৫৬, ২ হাজার ৬২৫ এবং ১ হাজার ৪৩০ জন।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে কমপক্ষে ৭০ হাজার বাংলাদেশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই বিপজ্জনক রুটে ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছেন। ইউরোপগামী এসব অভিবাসনপ্রত্যাশী মূলত শরীয়তপুর, মাদারীপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ কয়েকটি জেলার বাসিন্দা। অধিকাংশই মানবপাচারকারী ও দালালদের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় আটকা পড়েন এবং নির্মম নির্যাতনের শিকার হন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মানবপাচারবিরোধী আইনে ঝুলে আছে ৪ হাজার ৩৬০টি মামলা, যার মধ্যে ৩ হাজার ১৪টি বিচারাধীন।

বুধবার (৩০ জুলাই) আন্তর্জাতিক মানবপাচারবিরোধী দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সংঘবদ্ধ অপরাধ মানব পাচার, বন্ধ হোক শোষণের অনাচার’।

ফ্রন্টেক্স জানায়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সেন্ট্রাল মেডিটেরেনিয়ান রুটে ৯২ হাজার ৪২৭ বাংলাদেশি ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। জানুয়ারিতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ হারান ২৩ জন বাংলাদেশি।

ইউরোপগামী বাংলাদেশিরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে
ইউরোপগামী বাংলাদেশিরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে

ব্র্যাকের এক জরিপে দেখা যায়, ৬০ শতাংশ অভিবাসী ভালো কর্মসংস্থানের আশায় লিবিয়ায় যান, কিন্তু ৮৯ শতাংশই কোনো কাজ পান না। ৭৯ শতাংশ নির্যাতনের শিকার হন, ২২ শতাংশ দিনে মাত্র একবার খাওয়ার সুযোগ পান।

দালালচক্র এখন হজ, ভিজিট বা কনফারেন্স ভিসা দেখিয়ে মানুষ পাচার করছে। নতুন গন্তব্য হিসেবে যুক্ত হয়েছে দুবাই, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, নেপাল, তিউনিসিয়া, রাশিয়া ও কম্বোডিয়াসহ একাধিক দেশ।

নারীদের পার্লার বা রেস্টুরেন্টে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যৌন পেশায় বাধ্য করার ঘটনাও ঘটেছে। এমন পাচারের শিকার হয়ে ২০২৩ সালে ছয় নারীকে উদ্ধার করে আইজেএম।

এ ছাড়া মিয়ানমারে স্ক্যাম সেন্টারে বাংলাদেশিদের সাইবার অপরাধে বাধ্য করা হয়েছে, যেখান থেকে ব্র্যাক উদ্ধার করেছে ১৮ জনকে। পাচারকারীরা এখন সহজ অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশিদের নেপালেও পাচার করছে।

২০১২–২০১৫ সালে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক পাচারের পর আবারও বিয়ে ও চাকরির ফাঁদে ফেলে রোহিঙ্গা পাচার ব্যাপকতা পেয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে

ইউরোপগামী বাংলাদেশিরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে

সর্বশেষ আপডেট ০১:২৫:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫

২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে পৌঁছেছেন ৯ হাজার ৭৩৫ বাংলাদেশি, যা জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী এই রুটে বিশ্বে সর্বোচ্চ। একই সময়ে ইরিত্রিয়া, মিসর, পাকিস্তান ও ইথিওপিয়া থেকে এসেছে যথাক্রমে ৪ হাজার ৩৪৮, ৩ হাজার ৫৫৬, ২ হাজার ৬২৫ এবং ১ হাজার ৪৩০ জন।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে কমপক্ষে ৭০ হাজার বাংলাদেশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই বিপজ্জনক রুটে ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছেন। ইউরোপগামী এসব অভিবাসনপ্রত্যাশী মূলত শরীয়তপুর, মাদারীপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ কয়েকটি জেলার বাসিন্দা। অধিকাংশই মানবপাচারকারী ও দালালদের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় আটকা পড়েন এবং নির্মম নির্যাতনের শিকার হন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মানবপাচারবিরোধী আইনে ঝুলে আছে ৪ হাজার ৩৬০টি মামলা, যার মধ্যে ৩ হাজার ১৪টি বিচারাধীন।

বুধবার (৩০ জুলাই) আন্তর্জাতিক মানবপাচারবিরোধী দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সংঘবদ্ধ অপরাধ মানব পাচার, বন্ধ হোক শোষণের অনাচার’।

ফ্রন্টেক্স জানায়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সেন্ট্রাল মেডিটেরেনিয়ান রুটে ৯২ হাজার ৪২৭ বাংলাদেশি ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। জানুয়ারিতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ হারান ২৩ জন বাংলাদেশি।

ইউরোপগামী বাংলাদেশিরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে
ইউরোপগামী বাংলাদেশিরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে

ব্র্যাকের এক জরিপে দেখা যায়, ৬০ শতাংশ অভিবাসী ভালো কর্মসংস্থানের আশায় লিবিয়ায় যান, কিন্তু ৮৯ শতাংশই কোনো কাজ পান না। ৭৯ শতাংশ নির্যাতনের শিকার হন, ২২ শতাংশ দিনে মাত্র একবার খাওয়ার সুযোগ পান।

দালালচক্র এখন হজ, ভিজিট বা কনফারেন্স ভিসা দেখিয়ে মানুষ পাচার করছে। নতুন গন্তব্য হিসেবে যুক্ত হয়েছে দুবাই, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, নেপাল, তিউনিসিয়া, রাশিয়া ও কম্বোডিয়াসহ একাধিক দেশ।

নারীদের পার্লার বা রেস্টুরেন্টে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যৌন পেশায় বাধ্য করার ঘটনাও ঘটেছে। এমন পাচারের শিকার হয়ে ২০২৩ সালে ছয় নারীকে উদ্ধার করে আইজেএম।

এ ছাড়া মিয়ানমারে স্ক্যাম সেন্টারে বাংলাদেশিদের সাইবার অপরাধে বাধ্য করা হয়েছে, যেখান থেকে ব্র্যাক উদ্ধার করেছে ১৮ জনকে। পাচারকারীরা এখন সহজ অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশিদের নেপালেও পাচার করছে।

২০১২–২০১৫ সালে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক পাচারের পর আবারও বিয়ে ও চাকরির ফাঁদে ফেলে রোহিঙ্গা পাচার ব্যাপকতা পেয়েছে।