ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউনূস- তারেক বৈঠকে প্রাধান্য পাবে যে ইস্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:০৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫
  • / 216

ড. ইউনূস-তারেক রহমান

যুক্তরাজ্য সফররত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ১৩ জুন লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে হোটেল ডোরচেস্টারে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কয়েকদিন ধরেই এ সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আলোচনা চলছিল, যা গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়।

আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এ বৈঠকটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সম্ভাব্য মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিএনপি নেতারা আশা করছেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে পথ খোঁজা সম্ভব হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ইস্যু নির্বাচন, রাজনৈতিক সংস্কার এবং বিচার প্রাধান্য পাবে।

তারেক রহমান বৈঠকে জোর দিয়ে বলবেন, নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত সময় হচ্ছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর, তবে অন্তত আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই, অর্থাৎ রোজার আগেই, নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হবে এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ উন্মুক্ত হবে।

সরকার যে কিছু সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আংশিক ঐকমত্য সৃষ্টি করেছে, সেগুলোর বাস্তবায়নে ড. ইউনূসের সক্রিয় পদক্ষেপ কামনা করবেন তারেক রহমান। বিএনপি মনে করে, যেসব সংস্কারের জন্য সংবিধান সংশোধন দরকার, সেগুলো নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। আর যেগুলোর ওপর এখনো ঐকমত্য হয়নি, তা পরবর্তী সংসদে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে।

বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত ‘গণহত্যা’, গুম, খুন, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিচার নিয়ে বিএনপির অনমনীয় অবস্থান তুলে ধরবেন তারেক রহমান। তিনি দাবি করবেন, বিচার যেন দ্রুত দৃশ্যমান হয় এবং তা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই পরিচালিত হয়।

এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকেও ‘আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খোঁজার পরামর্শ’ দেওয়া হয়। বৈঠকে অংশ নিয়ে তারেক রহমানও বৈঠকের বিষয়ে নিজের সম্মতি দেন এবং দলের পক্ষ থেকে আলোচনার পূর্ণ দায়িত্ব পান।

তারেক রহমান বৈঠকে লিখিতভাবে দলের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন। এতে উল্লেখ থাকবে গত ১৫-১৬ বছরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপির অবদান, নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন, গুম-খুন, বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ এবং আগামীর নির্বাচনে বিএনপির প্রত্যাশা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই বৈঠককে সময়ের অন্যতম বড় “রাজনৈতিক ইভেন্ট” বলে উল্লেখ করে বলেছেন, “অনেক কিছু সহজ হয়ে যেতে পারে, নতুন দিগন্তের সূচনা হতে পারে।”

এছাড়া তারেক রহমান বৈঠকে ড. ইউনূসের সমসাময়িক সংকটময় সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার সাহসিকতা ও প্রচেষ্টার প্রশংসা করবেন বলেও দলীয় নেতারা জানিয়েছেন। তিনি বলবেন, বিএনপি মনে করে—ড. ইউনূসের নেতৃত্বে নির্বাচনই গণতন্ত্রে উত্তরণের একমাত্র পথ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইউনূস- তারেক বৈঠকে প্রাধান্য পাবে যে ইস্যু

সর্বশেষ আপডেট ১২:০৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫

যুক্তরাজ্য সফররত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ১৩ জুন লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে হোটেল ডোরচেস্টারে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কয়েকদিন ধরেই এ সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আলোচনা চলছিল, যা গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়।

আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এ বৈঠকটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সম্ভাব্য মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিএনপি নেতারা আশা করছেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে পথ খোঁজা সম্ভব হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ইস্যু নির্বাচন, রাজনৈতিক সংস্কার এবং বিচার প্রাধান্য পাবে।

তারেক রহমান বৈঠকে জোর দিয়ে বলবেন, নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত সময় হচ্ছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর, তবে অন্তত আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই, অর্থাৎ রোজার আগেই, নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হবে এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ উন্মুক্ত হবে।

সরকার যে কিছু সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আংশিক ঐকমত্য সৃষ্টি করেছে, সেগুলোর বাস্তবায়নে ড. ইউনূসের সক্রিয় পদক্ষেপ কামনা করবেন তারেক রহমান। বিএনপি মনে করে, যেসব সংস্কারের জন্য সংবিধান সংশোধন দরকার, সেগুলো নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। আর যেগুলোর ওপর এখনো ঐকমত্য হয়নি, তা পরবর্তী সংসদে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে।

বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত ‘গণহত্যা’, গুম, খুন, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিচার নিয়ে বিএনপির অনমনীয় অবস্থান তুলে ধরবেন তারেক রহমান। তিনি দাবি করবেন, বিচার যেন দ্রুত দৃশ্যমান হয় এবং তা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই পরিচালিত হয়।

এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকেও ‘আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খোঁজার পরামর্শ’ দেওয়া হয়। বৈঠকে অংশ নিয়ে তারেক রহমানও বৈঠকের বিষয়ে নিজের সম্মতি দেন এবং দলের পক্ষ থেকে আলোচনার পূর্ণ দায়িত্ব পান।

তারেক রহমান বৈঠকে লিখিতভাবে দলের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন। এতে উল্লেখ থাকবে গত ১৫-১৬ বছরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপির অবদান, নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন, গুম-খুন, বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ এবং আগামীর নির্বাচনে বিএনপির প্রত্যাশা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই বৈঠককে সময়ের অন্যতম বড় “রাজনৈতিক ইভেন্ট” বলে উল্লেখ করে বলেছেন, “অনেক কিছু সহজ হয়ে যেতে পারে, নতুন দিগন্তের সূচনা হতে পারে।”

এছাড়া তারেক রহমান বৈঠকে ড. ইউনূসের সমসাময়িক সংকটময় সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার সাহসিকতা ও প্রচেষ্টার প্রশংসা করবেন বলেও দলীয় নেতারা জানিয়েছেন। তিনি বলবেন, বিএনপি মনে করে—ড. ইউনূসের নেতৃত্বে নির্বাচনই গণতন্ত্রে উত্তরণের একমাত্র পথ।