ঢাকা ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউনূসের দ্বৈত ভূমিকায় স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • / 75

ইউনূস-সালাউদ্দিন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, নোট অব ডিসেন্ট ছাড়া গণভোট আয়োজনের বিষয়টি ঐকমত্য কমিশনে কখনোই আলোচনা হয়নি। তিনি মনে করেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দ্বৈত ভূমিকার কারণে ‘স্বার্থের সংঘাত’ তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১২ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জুলাই জাতীয় সনদ, গণভোটের বিতর্ক, নির্বাচন, জোট রাজনীতি ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মত প্রকাশ করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো যেসব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাবে, তা নিয়েই জাতীয় সনদ হয়েছে এবং পরবর্তী নির্বাচিত সংসদ সনদ বাস্তবায়ন করবে—এই অবস্থান থেকে প্রধান উপদেষ্টা সরে যেতে পারেন না।”

তিনি আরও বলেন, “এখানে স্পষ্ট স্বার্থের সংঘাত আছে। বর্তমান সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত। আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, নির্বাচনে অংশ নেব, জনগণকে উদ্বুদ্ধ করব। কিন্তু সরকারের প্রধান ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি হিসেবে তিনি যেভাবে এগোচ্ছেন, তাতে মনে হচ্ছে তিনি জুলাই সনদের মূল চেতনা থেকে অনেক দূরে সরে গেছেন।”

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি নিরপেক্ষ আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, সরকার এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না যা জাতিকে বিভক্ত করবে বা অনৈক্য সৃষ্টি করবে।”

সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে তিন দফা আলোচনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের ঠিক আগে প্রধান উপদেষ্টা সব রাজনৈতিক দলকে একত্রে বসান। আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম, যেন একটি ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সনদটি স্বাক্ষরিত হয় এবং সবাই তার বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকে।”

তিনি জানান, “সনদে প্রায় ৮৪টি দফা ছিল। এসব দফার কিছু বিষয়ে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট ছিল। এটি প্রচলিত নোট অব ডিসেন্ট নয়—সেখানে স্পষ্ট করা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট দল বা জোট তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করলে এবং জনগণের ম্যান্ডেট পেলে তা বাস্তবায়ন করতে পারবে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইউনূসের দ্বৈত ভূমিকায় স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়েছে

সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, নোট অব ডিসেন্ট ছাড়া গণভোট আয়োজনের বিষয়টি ঐকমত্য কমিশনে কখনোই আলোচনা হয়নি। তিনি মনে করেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দ্বৈত ভূমিকার কারণে ‘স্বার্থের সংঘাত’ তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১২ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জুলাই জাতীয় সনদ, গণভোটের বিতর্ক, নির্বাচন, জোট রাজনীতি ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মত প্রকাশ করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো যেসব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাবে, তা নিয়েই জাতীয় সনদ হয়েছে এবং পরবর্তী নির্বাচিত সংসদ সনদ বাস্তবায়ন করবে—এই অবস্থান থেকে প্রধান উপদেষ্টা সরে যেতে পারেন না।”

তিনি আরও বলেন, “এখানে স্পষ্ট স্বার্থের সংঘাত আছে। বর্তমান সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত। আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, নির্বাচনে অংশ নেব, জনগণকে উদ্বুদ্ধ করব। কিন্তু সরকারের প্রধান ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি হিসেবে তিনি যেভাবে এগোচ্ছেন, তাতে মনে হচ্ছে তিনি জুলাই সনদের মূল চেতনা থেকে অনেক দূরে সরে গেছেন।”

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি নিরপেক্ষ আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, সরকার এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না যা জাতিকে বিভক্ত করবে বা অনৈক্য সৃষ্টি করবে।”

সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে তিন দফা আলোচনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের ঠিক আগে প্রধান উপদেষ্টা সব রাজনৈতিক দলকে একত্রে বসান। আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম, যেন একটি ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সনদটি স্বাক্ষরিত হয় এবং সবাই তার বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকে।”

তিনি জানান, “সনদে প্রায় ৮৪টি দফা ছিল। এসব দফার কিছু বিষয়ে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট ছিল। এটি প্রচলিত নোট অব ডিসেন্ট নয়—সেখানে স্পষ্ট করা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট দল বা জোট তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করলে এবং জনগণের ম্যান্ডেট পেলে তা বাস্তবায়ন করতে পারবে।”