আ.লীগ নেতাকে হত্যা; সাত বছর পর মূলহোতা কারাগারে
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:০৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
- / 99
বান্দরবানের লামা সরই ইউনিয়নের আ.লীগের সহ-সভাপতি আলমগীর সিকদার হত্যা মামলায় মূলহোতা আসামি মোহাম্মদ সেলিমকে (৫০) কারাগারে পাঠিয়েছে জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
আজ রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে বান্দরবান জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক জামিউল হায়দার এ আদেশ প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি; লোহাগাড়া উপজেলার ৬নং ওয়ার্ডের রশিদারপাড়া গ্রামের ছৈয়দুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ সেলিম।
মামলা সূত্রে জানা যায়, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লামা সরই পুলাংপাড়ায় নিজের মুরগির খামার থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন আলমগীর সিকদার। ফেরার পথে রাবার বাগানে পৌঁছালে সেলিম উদ্দিনসহ তার সহযোগীরা আলমগীর সিকদারকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই হত্যাকারী সায়মন ত্রিপুরা ও বীর বাহাদুর ত্রিপুরাকে গ্রেপ্তার করে।
মামলা সূত্রে আরও জানা যায়, সেলিম উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন ভুট্টু ও তার ভাই জমির উদ্দিন নিহত আলমগীর সিকদার হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারী। আ.লীগ নেতার হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত মর্মে হত্যাকারী সায়মন ত্রিপুরা ও বীর বাহাদুর ত্রিপুরা আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
মামলার আইনজীবী বলেন, পুলিশ তদন্তে হত্যার আগের দিন বিভিন্ন স্থানে অন্যান্য হত্যাকারীসহ সেলিম উদ্দিনের স্বশরীর উপস্থিতির সিসিটিভি ফুটেজ, লোহাগাড়া মামনি হাসপাতালে যাওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ, লোহাগাড়ার একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করার ফুটেজ সংগ্রহ করে। এমনকি আলমগীর সিকদারকে হত্যার সময় যেসব অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল (রামদা), ওই অস্ত্র যে কামারের কাছ থেকে কেনা হয়েছিল, সেই কামারও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
এরই প্রেক্ষিতে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন আজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আলমগীর চৌধুরী জানান, দায়রা ৪৯২২ নম্বর মামলাটি ২০১৯ সালের বান্দরবান জেলার একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা ছিল। এই মামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা সেলিম উদ্দিন মামলা রুজু হওয়ার পর প্রায় সাত বছর পলাতক ছিলেন। আজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত জামিন মঞ্জুর না করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


































