ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আসামের গুয়াহাটিতে জুবিন গার্গকে শেষ শ্রদ্ধা

বিনোদন ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৯:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 87

আসামের গুয়াহাটিতে জুবিন গার্গকে শেষ শ্রদ্ধা

আসামের আকাশ গতকাল ভেসে ওঠে শোকের অশ্রুতে, রাস্তায় রাস্তায় মানুষের ঢল। সবাই একসুরে বিদায় জানালেন প্রিয় শিল্পী জুবিন গার্গকে। গত শনিবার রাত থেকেই আসামবাসী শেষবারের জন্য তার দর্শনের অপেক্ষায় ছিলেন। ভোর থেকেই বিমানবন্দরে ভিড় বাড়তে থাকে।

রোববার সকালে গুয়াহাটির গোপীনাথ বরদলই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় জুবিন গার্গের মরদেহ। স্ত্রী গরিমা গার্গ এবং আসাম সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন। এরপর ফুলে সাজানো অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ ভিআইপি গেটে নিয়ে যাওয়া হয়। বিমান থেকে নামানো মাত্রই হাজারো মানুষ কান্নাভেজা কণ্ঠে স্লোগান তোলেন– “জুবিন দা, তুমি অমর।”

মরদেহটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে সাধারণ মানুষ ফুল ও গানের মাধ্যমে শেষ শ্রদ্ধা জানায়। গুয়াহাটির প্রতিটি সড়ক, মোড়, ভবনের ছাদ এবং রাস্তার পাশে মানুষ ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তরুণ-তরুণীরা জুবিনের জনপ্রিয় গান গেয়ে তাঁকে বিদায় জানায়, শিশুরা ফুল হাতে দাঁড়ায়, আর প্রবীণরা স্মৃতিচারণ করতে করতে চোখ মুছেন।

জুবিন গার্গ শুধু আসামের নয়, গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের আইকনিক গায়ক ছিলেন। গায়ক, সুরকার এবং অভিনেতা হিসেবে তিনি চার দশকের ক্যারিয়ারে অসমীয়া সংগীতকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। ‘ইয়া আলি’ গানটির মাধ্যমে তিনি বলিউডেও বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

তাঁর মৃত্যুতে শিল্প অঙ্গন এবং রাজনৈতিক মহলেও শোকের ছায়া নেমেছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “জুবিনদার প্রয়াণ আসামের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি ছিলেন আমাদের গর্ব।”

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত অর্জুন ভোগেশ্বর বরুয়া স্পোর্টস কমপ্লেক্সে (সরুসাজাই স্টেডিয়াম) শায়িত ছিল জুবিনের নিথর দেহ। রাজ্য সরকার, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং লাখো সাধারণ মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সিঙ্গাপুরে এক স্কুবা ড্রাইভিং দুর্ঘটনায় ৫২ বছর বয়সী জুবিনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর সিঙ্গাপুর পুলিশ তাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যায়। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখলেও চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচাতে পারেননি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আসামের গুয়াহাটিতে জুবিন গার্গকে শেষ শ্রদ্ধা

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৯:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আসামের আকাশ গতকাল ভেসে ওঠে শোকের অশ্রুতে, রাস্তায় রাস্তায় মানুষের ঢল। সবাই একসুরে বিদায় জানালেন প্রিয় শিল্পী জুবিন গার্গকে। গত শনিবার রাত থেকেই আসামবাসী শেষবারের জন্য তার দর্শনের অপেক্ষায় ছিলেন। ভোর থেকেই বিমানবন্দরে ভিড় বাড়তে থাকে।

রোববার সকালে গুয়াহাটির গোপীনাথ বরদলই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় জুবিন গার্গের মরদেহ। স্ত্রী গরিমা গার্গ এবং আসাম সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন। এরপর ফুলে সাজানো অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ ভিআইপি গেটে নিয়ে যাওয়া হয়। বিমান থেকে নামানো মাত্রই হাজারো মানুষ কান্নাভেজা কণ্ঠে স্লোগান তোলেন– “জুবিন দা, তুমি অমর।”

মরদেহটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে সাধারণ মানুষ ফুল ও গানের মাধ্যমে শেষ শ্রদ্ধা জানায়। গুয়াহাটির প্রতিটি সড়ক, মোড়, ভবনের ছাদ এবং রাস্তার পাশে মানুষ ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তরুণ-তরুণীরা জুবিনের জনপ্রিয় গান গেয়ে তাঁকে বিদায় জানায়, শিশুরা ফুল হাতে দাঁড়ায়, আর প্রবীণরা স্মৃতিচারণ করতে করতে চোখ মুছেন।

জুবিন গার্গ শুধু আসামের নয়, গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের আইকনিক গায়ক ছিলেন। গায়ক, সুরকার এবং অভিনেতা হিসেবে তিনি চার দশকের ক্যারিয়ারে অসমীয়া সংগীতকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। ‘ইয়া আলি’ গানটির মাধ্যমে তিনি বলিউডেও বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

তাঁর মৃত্যুতে শিল্প অঙ্গন এবং রাজনৈতিক মহলেও শোকের ছায়া নেমেছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “জুবিনদার প্রয়াণ আসামের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি ছিলেন আমাদের গর্ব।”

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত অর্জুন ভোগেশ্বর বরুয়া স্পোর্টস কমপ্লেক্সে (সরুসাজাই স্টেডিয়াম) শায়িত ছিল জুবিনের নিথর দেহ। রাজ্য সরকার, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং লাখো সাধারণ মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সিঙ্গাপুরে এক স্কুবা ড্রাইভিং দুর্ঘটনায় ৫২ বছর বয়সী জুবিনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর সিঙ্গাপুর পুলিশ তাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যায়। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখলেও চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচাতে পারেননি।