ঢাকা ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে রাতে মাদক-জুয়ার আসর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:২১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / 90

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে রাতে মাদক-জুয়ার আসর

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশে তালা ঝুলে রয়েছে। মোট ৩৭৮টি ঘরের মধ্যে ১১৮টি দীর্ঘদিন ধরে খালি ও তালাবদ্ধ। ঘরগুলোর প্রকৃত মালিকরা বেশিরভাগই বসবাস করেন না। কেউ স্ট্যাম্পে সই নিয়ে বিক্রি করেছেন, কেউ ভাড়া দিয়েছেন, আবার কেউ আত্মীয়কে বসিয়েছেন।

রাঙ্গুনিয়ার লালানগর, শিলক, সরফভাটা, রাজানগর, পদুয়া, বেতাগী ও অন্যান্য এলাকায় খালি ঘরগুলোতে রাতের বেলায় মাদকসেবী, জুয়াড়ি ও সন্ত্রাসী বসবাস করে। স্থানীয়রা জানান, রাতের বেলায় এসব ঘরে কোটি টাকার জুয়া চলে এবং কিছু ঘর সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার হয়।

কিছু ঘরে দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবিক সুবিধাভোগীরা বসবাস করছেন। যেমন, লালানগরের মনোয়ারা বেগম ও শিলকের ট্রলিচালক আহম্মদ হোসেন। তবে অধিকাংশ ঘরে প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্তরা নেই।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদা ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি সাব্বির মো. সেলিম জানিয়েছেন, ঘরগুলোতে অভিযান চালানো হবে এবং তালাবদ্ধ বা খালি ঘরের বরাদ্দ বাতিল করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, সরকারি ঘর বরাদ্দ এবং বরাদ্দ বাতিলের প্রক্রিয়া দীর্ঘ হলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘর বিতরণের সময় প্রকৃত ভূমিহীনদের চেয়ে প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের কাছে ঘর বরাদ্দ হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থার রাঙ্গুনিয়া কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম আজাদ বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া ঘর দেওয়া হয়েছে, ফলে প্রকৃত উপকারভোগীরা উপেক্ষিত হয়েছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে রাতে মাদক-জুয়ার আসর

সর্বশেষ আপডেট ১২:২১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশে তালা ঝুলে রয়েছে। মোট ৩৭৮টি ঘরের মধ্যে ১১৮টি দীর্ঘদিন ধরে খালি ও তালাবদ্ধ। ঘরগুলোর প্রকৃত মালিকরা বেশিরভাগই বসবাস করেন না। কেউ স্ট্যাম্পে সই নিয়ে বিক্রি করেছেন, কেউ ভাড়া দিয়েছেন, আবার কেউ আত্মীয়কে বসিয়েছেন।

রাঙ্গুনিয়ার লালানগর, শিলক, সরফভাটা, রাজানগর, পদুয়া, বেতাগী ও অন্যান্য এলাকায় খালি ঘরগুলোতে রাতের বেলায় মাদকসেবী, জুয়াড়ি ও সন্ত্রাসী বসবাস করে। স্থানীয়রা জানান, রাতের বেলায় এসব ঘরে কোটি টাকার জুয়া চলে এবং কিছু ঘর সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার হয়।

কিছু ঘরে দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবিক সুবিধাভোগীরা বসবাস করছেন। যেমন, লালানগরের মনোয়ারা বেগম ও শিলকের ট্রলিচালক আহম্মদ হোসেন। তবে অধিকাংশ ঘরে প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্তরা নেই।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদা ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি সাব্বির মো. সেলিম জানিয়েছেন, ঘরগুলোতে অভিযান চালানো হবে এবং তালাবদ্ধ বা খালি ঘরের বরাদ্দ বাতিল করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, সরকারি ঘর বরাদ্দ এবং বরাদ্দ বাতিলের প্রক্রিয়া দীর্ঘ হলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘর বিতরণের সময় প্রকৃত ভূমিহীনদের চেয়ে প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের কাছে ঘর বরাদ্দ হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থার রাঙ্গুনিয়া কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম আজাদ বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া ঘর দেওয়া হয়েছে, ফলে প্রকৃত উপকারভোগীরা উপেক্ষিত হয়েছেন।