ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আলো ছড়াল শমিত-হামজারা, তবুও হৃদয়ভাঙা হার

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:১১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫
  • / 182

আলো ছড়াল শমিত-হামজারা, তবুও হৃদয়ভাঙা হার

জাতীয় স্টেডিয়ামে গ্যালারি ভরা দর্শকদের হতাশ করে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হেরে গেল হামজা চৌধুরীর দল। তবে হারলেও সমর্থকদের মন জয় করে নিয়েছে শমিত, ফাহমিদুল ও হামজারা। সিঙ্গাপুরের চেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু উত্তাল গ্যালারির হুঙ্কার সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ১–২ গোলে হেরে গেছে হাভিয়ের ক্যাবরেরার দল।

ম্যাচের ৫৯ মিনিটে ২ গোল হজম করে হতাশ হয়ে পড়েছিল স্টেডিয়াম। কিন্তু হামজারা তখনও হাল ছাড়েননি। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের লাগাতার আক্রমণ ঠেকাতে রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠেছিল র‍্যাংকিংয়ে ২২ ধাপ উপরের দল সিঙ্গাপুরের। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে হামজার বাড়ানো বলে গোলকিপারকে বোকা বানিয়ে জালে বল জড়ান রাকিব। যদিও বলে খুব বেশি গতি ছিল না, তবে গোলরক্ষক সামনে এগিয়ে আসায় সিঙ্গাপুরের ডিফেন্ডাররাও বল ঠেকাতে পারেননি।

গোলের ব্যবধান কমে যাওয়ায় আরও আগ্রাসী খেলতে থাকে বাংলাদেশ। বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল পায়নি স্বাগতিকরা। এই হারে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের জন্য। ‘সি’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে হংকংয়ের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে ভারত। এতে হংকং ও সিঙ্গাপুরের ৪ করে পয়েন্ট, বাংলাদেশ ও ভারতের ১ করে পয়েন্ট।

প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়লে কিছুটা কৌশলগত পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের ক্যাবরেরা। কিন্তু তা কাজে আসেনি। বরং দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে আবার গোল হজম করে বসে স্বাগতিকরা। সিঙ্গাপুরের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইকসান ফান্দি। বক্সের বাইরে থেকে হামি শিয়াহিনের শট ঠেকালেও তা বিপদমুক্ত করতে পারেননি মিতুল। সুযোগ কাজে লাগিয়ে সিঙ্গাপুরকে এগিয়ে দেন ফান্দি।

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে প্রথমার্ধেই গোল হজম করে পিছিয়ে যায় বাংলাদেশ। ম্যাচের ৪৫তম মিনিটে সিঙ্গাপুরকে এগিয়ে দেন সং উই ইয়ং। বাংলাদেশ শুরুটা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে করলেও গোলের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী শরীরী ভাষায় খেলেছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষকে মাঝমাঠেই আটকে রাখার চেষ্টা করলেও প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে লাল-সবুজরা। থ্রো-ইন থেকে গোলমুখে আসা বল পাঞ্চ করতে গিয়ে গোললাইন ছেড়ে যান গোলরক্ষক মিতুল মারমা। ফিরতি বলে সং উই ইয়ংয়ের প্লেসিং ঠেকাতে পারেননি হামজা চৌধুরী, যদিও শেষ মুহূর্তে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

বাংলাদেশের সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফরমার ছিলেন অভিষিক্ত শমিত সোম। মধ্যমাঠ থেকে একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করেন তিনি। প্রথমার্ধে পাঁচটি নিখুঁত বল বাড়িয়েছিলেন, যেগুলো থেকে গোল হতে পারত। তবে রাকিব হোসেন ও ফাহমিদুল ইসলাম সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন।

প্রথম সুযোগ আসে সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকেই। ৯ মিনিটে হারিস স্টুয়ার্টের লম্বা থ্রো থেকে সং উই ইয়ং বল পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে বাইরে মারেন। ১৬ মিনিটে বাংলাদেশের সামনে আসে দারুণ এক সুযোগ। ডান দিক থেকে শাকিল আহাদ তপুর ক্রসে বল ছোট বক্সে পড়ে রাকিব হোসেনের সামনে। কিন্তু বল পায়ে লাগাতে না পারায় হতাশ করেন তিনি।

৩০ মিনিটে বাংলাদেশ নিশ্চিত গোল হজম থেকে রক্ষা পায় গোলরক্ষক মিতুল মারমার কল্যাণে। এককভাবে ডি-বক্সে ঢুকে পড়া ইকসান ফান্দির শট বাম হাতে ঠেকিয়ে দেন তরুণ এই গোলরক্ষক। সার্বিকভাবে প্রথমার্ধে ভালো লড়ে বাংলাদেশ। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় বিরতিতে যেতে হয় ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে। দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটি গোল হজম করে লাল-সবুজরা।

শেষ ১০ মিনিটে প্রতিপক্ষের ডেরায় একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে স্বাগতিকরা। হামজা-শমিতদের আক্রমণ ঠেকাতে রীতিমতো ঘাম ঝরেছে সফরকারীদের। তবে শত চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরাতে পারেনি বাংলাদেশ। ২-১ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় হামজাদের।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আলো ছড়াল শমিত-হামজারা, তবুও হৃদয়ভাঙা হার

সর্বশেষ আপডেট ০৯:১১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫

জাতীয় স্টেডিয়ামে গ্যালারি ভরা দর্শকদের হতাশ করে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হেরে গেল হামজা চৌধুরীর দল। তবে হারলেও সমর্থকদের মন জয় করে নিয়েছে শমিত, ফাহমিদুল ও হামজারা। সিঙ্গাপুরের চেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু উত্তাল গ্যালারির হুঙ্কার সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ১–২ গোলে হেরে গেছে হাভিয়ের ক্যাবরেরার দল।

ম্যাচের ৫৯ মিনিটে ২ গোল হজম করে হতাশ হয়ে পড়েছিল স্টেডিয়াম। কিন্তু হামজারা তখনও হাল ছাড়েননি। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের লাগাতার আক্রমণ ঠেকাতে রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠেছিল র‍্যাংকিংয়ে ২২ ধাপ উপরের দল সিঙ্গাপুরের। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে হামজার বাড়ানো বলে গোলকিপারকে বোকা বানিয়ে জালে বল জড়ান রাকিব। যদিও বলে খুব বেশি গতি ছিল না, তবে গোলরক্ষক সামনে এগিয়ে আসায় সিঙ্গাপুরের ডিফেন্ডাররাও বল ঠেকাতে পারেননি।

গোলের ব্যবধান কমে যাওয়ায় আরও আগ্রাসী খেলতে থাকে বাংলাদেশ। বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল পায়নি স্বাগতিকরা। এই হারে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের জন্য। ‘সি’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে হংকংয়ের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে ভারত। এতে হংকং ও সিঙ্গাপুরের ৪ করে পয়েন্ট, বাংলাদেশ ও ভারতের ১ করে পয়েন্ট।

প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়লে কিছুটা কৌশলগত পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের ক্যাবরেরা। কিন্তু তা কাজে আসেনি। বরং দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে আবার গোল হজম করে বসে স্বাগতিকরা। সিঙ্গাপুরের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইকসান ফান্দি। বক্সের বাইরে থেকে হামি শিয়াহিনের শট ঠেকালেও তা বিপদমুক্ত করতে পারেননি মিতুল। সুযোগ কাজে লাগিয়ে সিঙ্গাপুরকে এগিয়ে দেন ফান্দি।

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে প্রথমার্ধেই গোল হজম করে পিছিয়ে যায় বাংলাদেশ। ম্যাচের ৪৫তম মিনিটে সিঙ্গাপুরকে এগিয়ে দেন সং উই ইয়ং। বাংলাদেশ শুরুটা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে করলেও গোলের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী শরীরী ভাষায় খেলেছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষকে মাঝমাঠেই আটকে রাখার চেষ্টা করলেও প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে লাল-সবুজরা। থ্রো-ইন থেকে গোলমুখে আসা বল পাঞ্চ করতে গিয়ে গোললাইন ছেড়ে যান গোলরক্ষক মিতুল মারমা। ফিরতি বলে সং উই ইয়ংয়ের প্লেসিং ঠেকাতে পারেননি হামজা চৌধুরী, যদিও শেষ মুহূর্তে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

বাংলাদেশের সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফরমার ছিলেন অভিষিক্ত শমিত সোম। মধ্যমাঠ থেকে একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করেন তিনি। প্রথমার্ধে পাঁচটি নিখুঁত বল বাড়িয়েছিলেন, যেগুলো থেকে গোল হতে পারত। তবে রাকিব হোসেন ও ফাহমিদুল ইসলাম সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন।

প্রথম সুযোগ আসে সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকেই। ৯ মিনিটে হারিস স্টুয়ার্টের লম্বা থ্রো থেকে সং উই ইয়ং বল পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে বাইরে মারেন। ১৬ মিনিটে বাংলাদেশের সামনে আসে দারুণ এক সুযোগ। ডান দিক থেকে শাকিল আহাদ তপুর ক্রসে বল ছোট বক্সে পড়ে রাকিব হোসেনের সামনে। কিন্তু বল পায়ে লাগাতে না পারায় হতাশ করেন তিনি।

৩০ মিনিটে বাংলাদেশ নিশ্চিত গোল হজম থেকে রক্ষা পায় গোলরক্ষক মিতুল মারমার কল্যাণে। এককভাবে ডি-বক্সে ঢুকে পড়া ইকসান ফান্দির শট বাম হাতে ঠেকিয়ে দেন তরুণ এই গোলরক্ষক। সার্বিকভাবে প্রথমার্ধে ভালো লড়ে বাংলাদেশ। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় বিরতিতে যেতে হয় ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে। দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটি গোল হজম করে লাল-সবুজরা।

শেষ ১০ মিনিটে প্রতিপক্ষের ডেরায় একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে স্বাগতিকরা। হামজা-শমিতদের আক্রমণ ঠেকাতে রীতিমতো ঘাম ঝরেছে সফরকারীদের। তবে শত চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরাতে পারেনি বাংলাদেশ। ২-১ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় হামজাদের।