আরেক প্রতারণা মামলায় ইভ্যালির রাসেল ও শামীমার তিন বছরের কারাদণ্ড
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 120
ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী এবং কোম্পানির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন। ছবি: সংগৃহীত
ই-কমার্স প্রতারণার অভিযোগে দায়ের হওয়া আরেকটি মামলায় ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী এবং কোম্পানির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম মনিরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী এইচ এম রুহুল আমিন মোল্লা বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, “দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছেন আদালত।”
এই রায়ের ফলে প্রতারণার পাঁচটি মামলায় মোহাম্মদ রাসেল ও শামীমা নাসরিনের মোট ১২ বছরের কারাদণ্ড হলো।
এর আগে ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি চট্টগ্রামে দায়েরকৃত এক মামলায় ১ বছর, ২৯ জানুয়ারি আরেক মামলায় ২ বছর, ৬ এপ্রিল বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার মামলায় ৩ বছর, ১৩ এপ্রিল পৃথক আরেক মামলায় ৩ বছর এবং সর্বশেষ আজকের মামলায় ৩ বছর কারাদণ্ড হলো। সকল সাজাই সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডসহ দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ ডিসেম্বর আবুল কালাম আজাদ নামের এক গ্রাহক মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, ইভ্যালির লোভনীয় অফারে আকৃষ্ট হয়ে তিনি ২৩ লাখ টাকায় ১১টি মোটরসাইকেলের অর্ডার দেন এবং অগ্রিম হিসেবে ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। চুক্তি অনুযায়ী ৭ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহের কথা থাকলেও তা না করে, প্রতিষ্ঠানটি অর্থ আত্মসাৎ করে।
মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশ দেয় আদালত। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বাসুদেব সরকার ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ রাসেল ও শামীমাকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।
এরপর আদালত ৯ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার রায় দেন আদালত।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করে ইভ্যালি। বাজারে অর্ধেক দামে গাড়ি, মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, টিভি, এসি, ওয়াশিং মেশিনের মতো পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে তারা দ্রুত গ্রাহকদের নজর কাড়ে।
অনেকেই বেশি দামে বিক্রি করে লাভের আশায় অগ্রিম টাকা দিয়ে পণ্য অর্ডার করলেও মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও পণ্য না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এক পর্যায়ে ইভ্যালি গ্রাহক ও পণ্য সরবরাহকারীদের কাছে প্রায় ৫৪৩ কোটি টাকা দেনায় পড়ে। শুরু হয় গণবিক্ষোভ, মামলা, এবং সরকারের নজরদারি।
২০২১ সালের মাঝামাঝি থেকে ইভ্যালিসহ বেশ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। রাসেল ও শামীমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় শতাধিক মামলা হয়, যার মধ্যে কয়েকটির রায় ইতোমধ্যেই হয়েছে।






























