অদিতির প্রশ্ন
আয়াশ এখনও সৎ বাবা-মা বোঝে না
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৩:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫
- / 112
টানা সাত মাস যুক্তরাষ্ট্রে কাটিয়ে দেশে ফেরার পর ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব’র সঙ্গে তার ছেলে জায়ান ফারুক আয়াশের পুনর্মিলনের ভিডিও ঝড় তোলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যেখানে দেখা যায়, গভীর ঘুমে থাকা আয়াশকে চমকে দিতে কাছে যান বাবা অপূর্ব। আয়াশের ঘুম ভাঙতেই বাবাকে দেখে সঙ্গে সঙ্গে জড়িয়ে ধরে, কান্না করে দেয়।
বাবাকে দেখে ছেলেটির কান্নার দৃশ্যটি যতটা আবেগঘন, ততটাই বিতর্কের জন্ম দেয়। ভিডিওর নিচে দেখা যায় ঢালাওভাবে নেটিজেনদের কটাক্ষ; কেউ বললেন, বিচ্ছেদের পর বাবার ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আয়াশ, কেউ আবার আরও এগিয়ে গেলেন নানা মনগড়া ব্যাখ্যায়।
নেটিজেনদের এমন মনগড়া মন্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অপূর্ব ও তার সাবেক স্ত্রী নাজিয়া হাসান অদিতি।
প্রথমে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে অদিতি লেখেন; “আপনাদের মধ্যে অনেকেই দেখেছেন, আমার ছেলের বাবা অনেকদিন পর দেশে ফিরে ওকে সারপ্রাইজ দিয়েছে। তাদের এই আবেগঘন মুহূর্তটা ছিল খুবই সুন্দর। তবে কিছু মানুষ এই ভিডিওর নিচে আমার ছেলেকে ‘একা’ বা ‘একাকী’ বলে যে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন, তাতে আমি খুবই মর্মাহত। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমার ছেলে আমার কাছেই থাকে।”
ছেলের সুখকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন; “ও সবসময় ভালোবাসা আর যত্নের মধ্যে আছে এবং ওর সব চাহিদা পূরণ করা হয়। ও যখন ইচ্ছে করে বা সপ্তাহের শেষে ওর বাবার কাছে যায়। আমরা সবসময় ওর সুখকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। দয়া করে আমাদের প্রতি একটু সহানুভূতিশীল হোন। সম্পূর্ণ ঘটনা না জেনে মন্তব্য করলে তা খুব আঘাত দেয়। যারা আমাদের প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন জানিয়েছেন, তাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।”
একই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অপূর্ব এক স্ট্যাটাসে বলেন; “যাদের মস্তিষ্ক ও হৃদয়ে নেগেটিভিটির ক্যান্সার, তাদেরকে মা-বাবা তাদের সন্তানকে কতটা ভালোবাসে সেটা প্রমাণ করার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ এই অভাগারা জানে না—প্রতিটা বাবা-মায়ের কাছেই তাদের সন্তান জীবনের সবচেয়ে বড় অংশ। তার প্রতিটি হাসি, প্রতিটি কান্না, প্রতিটি অর্জন—সবকিছু তারা নিজের হৃদয়ে অনুভব করে। সন্তানের হাসি-কান্না ও তার প্রতিটা অনুভূতি পিতা-মাতার প্রতিটি দিনকে করে তোলে উজ্জ্বল ও অর্থবহ। তারা জানে না, আপনি আপনার সন্তানকে যতটা ভালোবাসেন, অন্য একজন পিতা-মাতাও তার সন্তানকে ঠিক ততটাই ভালোবাসেন। নিজেকে উত্তম আর অন্যকে অধম ভাবার মতো অসুস্থতা থেকে আপনারা দ্রুত সেরে উঠুন—সেই প্রত্যাশা করি। আমার বা অন্য কারো সন্তান নিয়ে মনগড়া কোনো ভুল মন্তব্য করার আগে ভেবে নিন। আপনি যদি সত্য না জানেন, তবে নীরব থাকুন। কারণ কারো সন্তানের জীবন আপনার কনটেন্ট তৈরির ‘আইটেম’ নয়।”

প্রসঙ্গত, বিচ্ছেদের পর অপূর্ব-অদিতি দুজনেই নতুন করে সংসার জীবন শুরু করেছেন। তাদের দুজনের জীবনেই এসেছে নতুন মানুষ। ফলে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে আয়াশকে জড়িয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন।
এ নিয়ে এক ফেসবুক লাইভে নাজিয়া হাসান অদিতি বলেন; “আয়াশের জীবনে অপ্রাপ্তি আছে অবশ্যই। কারণ বাবা-মা একসঙ্গে না থাকাটা একটা অপ্রাপ্তি। এটা আমাদের জন্যও যন্ত্রণাদায়ক। ডিভোর্সের পরে আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি ওকে ভালো রাখার। দুই পরিবারই ওকে কখনো নেগেটিভিটির মাঝে রাখতে চাই না। কিন্তু একটা ভিডিও ক্লিপের কারণে ওকে হঠাৎ করেই এসবের মাঝে পড়তে হচ্ছে। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আয়াশ এসব জানেও না, বুঝেও না। সে খুব হ্যাপি কিড।”
অদিতি আরও বলেন, “আয়াশ আমার সাথেই থাকে। জন্মের পর থেকেই আমার সঙ্গে ছায়ার মতো থাকে। ওর বাবাও তাকে অনেক ভালোবাসে। আমরা চেষ্টা করি, এক ছাদের নিচে না থাকলেও আয়াশকে সব ধরনের নেগেটিভিটি থেকে দূরে রাখার।”
সবশেষ অপূর্ব’র সাবেক স্ত্রী বলেন; “আজ পর্যন্ত আয়াশ তার বাবার কাছ থেকে বা আমার কাছ থেকে কখনো কোনো অসম্মান দেখেনি। এ কারণে সে দুজনকেই খুব ভালোবাসে। হয়তো মানুষের কাছে আমরা অপরাধী। কারণ আপনারা হয়তো এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করেননি। তবে আয়াশ এখনও পর্যন্ত সৎ বাবা-সৎ মা এসব সম্পর্কে বুঝে না। হয়তো বুঝবে। কিন্তু আমরা চেষ্টা করি, সে যেন একজন ভালো মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠে। আপনারা সবসময় ওর জন্য দোয়া করবেন, যেন সে ভালো থাকে আমাদের মাঝে।”






































