আমেরিকার চার অঙ্গরাজ্যে এনআইডি কার্যক্রম শুরু করছে বাংলাদেশ
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:২৪:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
- / 150
আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভোটার করতে দেশটির চার অঙ্গরাজ্যে এনআইডি কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী মাসেই এ কার্যক্রম শুরু হবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসীদের একটি বড় অংশ স্থায়ীভাবে সেখানে আছেন। অনেকেই এনআইডি কার্যক্রম দেশে শুরু হওয়ার আগে বিদেশে চলে গেছেন, ফলে তারা এই পরিচয়পত্র পাননি। অনেকের পরিবারও দেশে না থাকায় এনআইডি না থাকায় বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই এবার প্রবাসীদের সুবিধার্থে দেশটিতেও এনআইডি সেবা চালু হচ্ছে। বিশাল ভৌগোলিক অঞ্চল ও প্রবাসীদের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার বিষয়টি মাথায় রেখে চারটি অঙ্গরাজ্যে কার্যক্রম শুরু হবে।
জানা গেছে, ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডার মায়ামি এবং ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে এ কার্যক্রম চালু করা হবে। এজন্য শিগগিরই কারিগরি ও প্রশাসনিক টিম যুক্তরাষ্ট্রে যাবে। চার বাংলাদেশ মিশনে চারটি কারিগরি টিম গিয়ে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেবে। পাশাপাশি দুটি প্রশাসনিক টিম তাদের কার্যক্রম তদারকি করবে।
ইসি সচিব আখতার আহমদের নেতৃত্বাধীন টিম নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসিতে কাজ করবে। এনআইডি মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বাধীন টিম যাবে মায়ামি ও লস অ্যাঞ্জেলেসে। তারা আগামী ২১ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর সেখানে অবস্থান করবেন। দেশত্যাগের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর, ফেরার তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
চারটি কারিগরি টিমে চারজন করে সদস্য থাকবেন। তারা ১৪ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেবেন। এই টিমগুলো ১২ সেপ্টেম্বর দেশত্যাগ করে ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরবে। অর্থাৎ মোট ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন। তাদের সব ব্যয় বহন করবে স্মার্টকার্ড বা আইডিইএ-২ প্রকল্প।
বর্তমানে ১০টি দেশের ১৭টি স্টেশনে দূতাবাসের মাধ্যমে ভোটার কার্যক্রম চলছে। দেশগুলো হলো; সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও জাপান। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও আরও অন্তত চারটি দেশে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
ইসি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকার প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সে লক্ষ্যেই বিদেশে এনআইডি ও ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এ জন্য দূতাবাস কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের মাধ্যমে নিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন করা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, সীমিত পরিসরে হলেও প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের ব্যবস্থা করা হবে। ধাপে ধাপে পাইলটিং থেকে শুরু করে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন পর্যন্ত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রবাসীদের চার তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক
বিদেশে বসে ভোটার হওয়ার জন্য অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্র (ফরম-২(ক)), বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট বা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট/এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যায়ন, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কেন্দ্রে (দূতাবাসের এনআইডি ডেস্কে) জমা দিতে হবে।
এ ছাড়া বিশেষ ৫৬টি উপজেলা/থানার (চট্টগ্রাম অঞ্চল) নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত তথ্য যেমন শিক্ষা সনদ, পিতা-মাতার এনআইডি (প্রয়োজনে মৃত্যু সনদ), ড্রাইভিং লাইসেন্স/টিআইএন, দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ, নিকাহনামা ও স্বামী-স্ত্রীর এনআইডি, নাগরিকত্ব সনদ, ইউটিলিটি বিলের কপি, ভাড়াটিয়ার ক্ষেত্রে বাড়িভাড়া চুক্তিপত্র ও বাড়িওয়ালার অনাপত্তিপত্র জমা দিতে হবে।
যেসব তথ্য বাধ্যতামূলক নয়, সেগুলো না থাকলে দেশে থাকা আত্মীয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলা অফিসে জমা দেওয়া যাবে। তথ্য যাচাইয়ের পর নির্বাচন কমিশন আবেদন অনুমোদন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভোটার হবেন এবং তার এনআইডি দূতাবাস থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
২০১৯ সালে কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন প্রবাসে এনআইডি কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে অনলাইনে প্রবাসীদের ভোটার তালিকাভুক্ত করা শুরু হয়। এর আগে ২০১৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবে এ কার্যক্রম চালু হয়েছিল। তবে করোনা মহামারির কারণে এটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০২২ সালে কাজী হাবিবুল আউয়ালের কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর কার্যক্রমটি পুনরায় শুরু হয়। বর্তমান নাসির কমিশন সেটিকেই আরও বিস্তৃত করছে।
আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ১০টি দেশ থেকে ৪৯ হাজার ৫৭৪ জন আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ২৯ হাজার ৭৬৩ জন আঙুলের ছাপ দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। ২১ হাজার ৯৭১ জনের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে এবং তারা ভোটার হয়েছেন। ১৮ হাজার ৩৪টি আবেদন সার্ভারে আপলোড হয়েছে। আরও ৩ হাজার ৯৩৭টি আবেদন আপলোডের অপেক্ষায় আছে। তবে একই সংখ্যক আবেদন তথ্যঘাটতি বা অন্যান্য কারণে বাতিল হয়েছে।
ইসি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, জনশক্তি ব্যুরো, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বায়রাসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে তথ্য নিয়ে দেখেছে, ৪০টি দেশে বাংলাদেশি প্রবাসীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। এসব দেশেই ধাপে ধাপে এনআইডি কার্যক্রম চালু করা হবে।
ইসির এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুন কবীর বলেন, “আগামী মাসেই আমরা যুক্তরাষ্ট্রে কার্যক্রম শুরু করতে পারব বলে আশা করছি। এছাড়া ওমান, দক্ষিণ আফ্রিকা, জর্ডান ও মালদ্বীপেও কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সম্মতি পাওয়া গেছে।”
































