ঢাকা ০১:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
পিতার হাতে ৪ বছরের কন্যা শিশু খুন

“আব্বু” ডাকার আগেই থেমে গেল কন্যা শিশুর জীবনসুর

নুরুল বশর, উখিয়া (কক্সবাজার)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
  • / 363

"আব্বু" ডাকার আগেই থেমে গেল কন্যা শিশুর জীবনসুর

মানবতা আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে? উখিয়ার জালিয়া পালং ইউনিয়নের মনখালীতে ঘটে গেল এক বিভীষিকাময় ঘটনা—এক পিতা নিজ হাতে খুন করলো তার তক্তা-পাটায় হাঁটা শেখা নিষ্পাপ কন্যা শিশুকে। চার বছরের ছোট্ট কানিজ ফাতেমা আর কখনো “আব্বু” বলে ডেকে উঠবে না।

শনিবার (৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার পর, জালিয়া পালং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মনখালীর কোনারপাড়া এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশুর মা জোসনা আক্তারের বর্ণনায় উঠে আসে মর্মান্তিক দৃশ্য। তিনি জানান, রাতের খাবারের আগ মুহূর্তে পাশের বাড়িতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন—তাঁর সন্তানরা আতঙ্কে কাঁপছে। জানায়, পিতা লোহার রড নিয়ে তাড়া করছে সবাইকে। দৌড়ে ঘরে ঢুকে তিনি দেখতে পান, ঘরের মধ্যে রক্তাক্ত পড়ে আছে তাঁর প্রাণপ্রিয় কন্যা কানিজ। ছাগলের পাশে পড়ে আছে শিশুটির নিথর দেহ।

স্থানীয়দের ডাকতে বের হলে, সেই সুযোগে পাষণ্ড পিতা আমান উল্লাহ মেয়ের মরদেহ ঘরের পাশের খালে ছুড়ে ফেলে। এরপর এসে খাটের নিচে শুয়ে থাকে নির্লিপ্তভাবে, যেন কিছুই ঘটেনি।

স্থানীয়দের সহায়তায় খালের পানিতে ভেসে থাকা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে খবর পেয়ে ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক দুর্জয় সরকার ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠান। পাষণ্ড পিতা আমান উল্লাহ (৩২) কে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করে পুলিশ।

নিহতের মা আরও জানান, অভিযুক্ত স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। এর আগেও মাদকাসক্ত অবস্থায় খুন করে জেল খেটেছেন তিনি। সেই থেকেই পরিবারজুড়ে চলছিল আতঙ্ক আর ভয়। সন্তানদের রক্ষা করতে তিনি বাড়ির ধারালো অস্ত্র লুকিয়ে রাখতেন, তবু শেষরক্ষা হলো না।

এক মায়ের বুক খালি হয়ে গেল, একটি ছোট্ট জীবন নিঃশেষ হলো এক নেশাগ্রস্ত পিতার বিকৃত হিংস্রতায়।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং শিশুটির মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পিতার হাতে ৪ বছরের কন্যা শিশু খুন

“আব্বু” ডাকার আগেই থেমে গেল কন্যা শিশুর জীবনসুর

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫

মানবতা আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে? উখিয়ার জালিয়া পালং ইউনিয়নের মনখালীতে ঘটে গেল এক বিভীষিকাময় ঘটনা—এক পিতা নিজ হাতে খুন করলো তার তক্তা-পাটায় হাঁটা শেখা নিষ্পাপ কন্যা শিশুকে। চার বছরের ছোট্ট কানিজ ফাতেমা আর কখনো “আব্বু” বলে ডেকে উঠবে না।

শনিবার (৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার পর, জালিয়া পালং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মনখালীর কোনারপাড়া এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশুর মা জোসনা আক্তারের বর্ণনায় উঠে আসে মর্মান্তিক দৃশ্য। তিনি জানান, রাতের খাবারের আগ মুহূর্তে পাশের বাড়িতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন—তাঁর সন্তানরা আতঙ্কে কাঁপছে। জানায়, পিতা লোহার রড নিয়ে তাড়া করছে সবাইকে। দৌড়ে ঘরে ঢুকে তিনি দেখতে পান, ঘরের মধ্যে রক্তাক্ত পড়ে আছে তাঁর প্রাণপ্রিয় কন্যা কানিজ। ছাগলের পাশে পড়ে আছে শিশুটির নিথর দেহ।

স্থানীয়দের ডাকতে বের হলে, সেই সুযোগে পাষণ্ড পিতা আমান উল্লাহ মেয়ের মরদেহ ঘরের পাশের খালে ছুড়ে ফেলে। এরপর এসে খাটের নিচে শুয়ে থাকে নির্লিপ্তভাবে, যেন কিছুই ঘটেনি।

স্থানীয়দের সহায়তায় খালের পানিতে ভেসে থাকা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে খবর পেয়ে ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক দুর্জয় সরকার ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠান। পাষণ্ড পিতা আমান উল্লাহ (৩২) কে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করে পুলিশ।

নিহতের মা আরও জানান, অভিযুক্ত স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। এর আগেও মাদকাসক্ত অবস্থায় খুন করে জেল খেটেছেন তিনি। সেই থেকেই পরিবারজুড়ে চলছিল আতঙ্ক আর ভয়। সন্তানদের রক্ষা করতে তিনি বাড়ির ধারালো অস্ত্র লুকিয়ে রাখতেন, তবু শেষরক্ষা হলো না।

এক মায়ের বুক খালি হয়ে গেল, একটি ছোট্ট জীবন নিঃশেষ হলো এক নেশাগ্রস্ত পিতার বিকৃত হিংস্রতায়।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং শিশুটির মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।