আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে মাঠে ফরহাদ মজহার
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
- / 63
বাউলশিল্পী আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, আবুল সরকারকে গ্রেপ্তার করা মানে তাকে গ্রেপ্তার করারই শামিল। সোমবার (২৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘সাধুগুরুভক্ত ও ওলি-আওলিয়া আশেকান পরিষদ’ আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, শাহ আলী মাজারের গাছ কাটার বিরুদ্ধে কথা বলার সময় আবুল সরকার তার পাশে ছিলেন। তাই তার গ্রেপ্তার ব্যক্তিগতভাবেও অন্যায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর থেকে ব্যক্তির মর্যাদা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে। তার ভাষায়—সেকুলার ফ্যাসিবাদের পাশাপাশি ধর্মীয় ফ্যাসিবাদও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, এমনকি তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
ফরহাদ মজহার জানান, অতীত সরকারে সুফি-তরিকতপন্থীরা নির্যাতনের শিকার হলেও বর্তমান সময়েও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। মাজার ভাঙা ও আক্রমণের ঘটনাকে ধর্মীয় মূল্যবোধবিরোধী বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং এর প্রভাব ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপরও পড়তে পারে।
তিনি জানান, আবুল সরকারের পালাগান নাট্যশৈলীর অংশ—এ বিষয়টি না বুঝে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা মূর্খতার পরিচয়। বৃহত্তর ঐক্যের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে সবাইকে একত্র হতে হবে। অনুষ্ঠান শেষে বাউল ঐতিহ্য তুলে ধরতে সারাদিনব্যাপী ভাবগান ও মানিকগঞ্জে মহাসম্মেলন আয়োজনেরও ঘোষণা দেন তিনি।
সমাবেশে আবুল সরকারের স্ত্রী পালাশিল্পী আলেয়া বেগম অভিযোগ করেন, বাউল-ফকিরদের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে। তিনি বলেন, দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি হিসেবে বাউলদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা উচিত।
ভাবগানের শিল্পী কোহিনুর আক্তার গোলাপী বলেন, বাংলাদেশ সুফিবাদের ঐতিহ্যের দেশ, অথচ মাজার ভাঙা ও সংস্কারের অভাব সাংস্কৃতিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
চলচ্চিত্র নির্মাতা আকরাম খান মন্তব্য করেন, ব্রিটিশ আমলের আইন আজও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনে ব্যবহার হচ্ছে। বাউল-ফকিরদের উপর অন্যায় সমাজ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
মানবাধিকারকর্মী মুনতাসির রহমান বলেন, ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সংবিধান-সংরক্ষিত। অস্পষ্ট ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অনৈতিক ও অগ্রহণযোগ্য।
‘শরৎ উদযাপন কমিটি’র সদস্য দীপঙ্কর রায়হান বলেন, পালাগানের নাট্যরীতি না বুঝে এর খণ্ডাংশ ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে, যা বাউলদের ওপর আক্রমণকে আরও উসকে দিয়েছে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালক ও ভাববৈঠকী সমন্বয়ক মোহাম্মদ রোমেল বলেন, ফ্যাসিবাদী রাজনীতি সমাজে নতুন বিভাজন তৈরি করেছে এবং এর সুযোগে ধর্মীয় উগ্রতা বাড়ছে। রাজনৈতিক দলগুলোও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছে না।
সমাবেশ শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিতে যায় পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল—ফরহাদ মজহার, মোহাম্মদ রোমেল, আবুল কাশেম, আলেয়া বেগম ও কোহিনুর আক্তার গোলাপী।
































