ঢাকা ১২:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আবারও মুখোমুখি অবস্থানে বিসিবি-ক্রীড়া উপদেষ্টা

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৯:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / 110

আবারও মুখোমুখি অবস্থানে বিসিবি-ক্রীড়া উপদেষ্টা

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ফিক্সিং সন্দেহে থাকা ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণের বিষয়ে দুই পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এমন ক্রিকেটারদের টুর্নামেন্টে নিষিদ্ধ করতে চায়, অন্যদিকে বিসিবির মতে, দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা ঠিক নয়।

বিপিএলের সর্বশেষ আসরে নানা বিতর্কে জর্জরিত হয়েছিল বিসিবি। ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক পরিশোধে বিলম্ব, মানসম্পন্ন বিদেশি খেলোয়াড়ের অভাব এবং মাঠে খেলার সময় কিছু ঘটনাকে ঘিরে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ফেব্রুয়ারিতে বিসিবি তিন সদস্যের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত শেষে প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি, তবে এখনো কোনো সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বিসিবি। বিষয়টি বর্তমানে অ্যালেক্স মার্শালের নেতৃত্বাধীন আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটে রয়েছে। এর মধ্যে সন্দেহভাজন ক্রিকেটাররা জাতীয় লিগে খেলার পাশাপাশি বিপিএলেও অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, “অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কেউ আমাদের কাছে অপরাধী নয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আমরা তদন্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি। যাদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে, তখনই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ফিক্সিং সন্দেহে থাকা কোনো ক্রিকেটার, কোচ বা কর্মকর্তা যেন বিপিএলে অংশ নিতে না পারেন, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “আমরা বিসিবির সঙ্গে আলোচনা করেছি, তারা আশ্বাস দিয়েছে যে যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এবং প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে বিপিএলের আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফিক্সারদের নিয়ে বিপিএল আয়োজনের প্রশ্নই ওঠে না।”

আগামী ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ দল নিয়ে শুরু হবে বিপিএলের ১২তম আসর। এর আগে ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে প্লেয়ার্স ড্রাফট। কিন্তু ফিক্সিং সন্দেহভাজনদের নিয়ে বিসিবি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এই ভিন্ন অবস্থান নতুন করে বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত এ বিতর্কের নিষ্পত্তি কীভাবে হয়, সেটিই এখন ক্রীড়া মহলে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।

উল্লেখ্য, এর আগেও বিসিবি নির্বাচন, তামিম ইকবাল ইস্যুতে বিসিবির সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আবারও মুখোমুখি অবস্থানে বিসিবি-ক্রীড়া উপদেষ্টা

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৯:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ফিক্সিং সন্দেহে থাকা ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণের বিষয়ে দুই পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এমন ক্রিকেটারদের টুর্নামেন্টে নিষিদ্ধ করতে চায়, অন্যদিকে বিসিবির মতে, দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা ঠিক নয়।

বিপিএলের সর্বশেষ আসরে নানা বিতর্কে জর্জরিত হয়েছিল বিসিবি। ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক পরিশোধে বিলম্ব, মানসম্পন্ন বিদেশি খেলোয়াড়ের অভাব এবং মাঠে খেলার সময় কিছু ঘটনাকে ঘিরে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ফেব্রুয়ারিতে বিসিবি তিন সদস্যের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত শেষে প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি, তবে এখনো কোনো সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বিসিবি। বিষয়টি বর্তমানে অ্যালেক্স মার্শালের নেতৃত্বাধীন আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটে রয়েছে। এর মধ্যে সন্দেহভাজন ক্রিকেটাররা জাতীয় লিগে খেলার পাশাপাশি বিপিএলেও অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, “অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কেউ আমাদের কাছে অপরাধী নয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আমরা তদন্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি। যাদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে, তখনই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ফিক্সিং সন্দেহে থাকা কোনো ক্রিকেটার, কোচ বা কর্মকর্তা যেন বিপিএলে অংশ নিতে না পারেন, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “আমরা বিসিবির সঙ্গে আলোচনা করেছি, তারা আশ্বাস দিয়েছে যে যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এবং প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে বিপিএলের আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফিক্সারদের নিয়ে বিপিএল আয়োজনের প্রশ্নই ওঠে না।”

আগামী ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ দল নিয়ে শুরু হবে বিপিএলের ১২তম আসর। এর আগে ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে প্লেয়ার্স ড্রাফট। কিন্তু ফিক্সিং সন্দেহভাজনদের নিয়ে বিসিবি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এই ভিন্ন অবস্থান নতুন করে বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত এ বিতর্কের নিষ্পত্তি কীভাবে হয়, সেটিই এখন ক্রীড়া মহলে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।

উল্লেখ্য, এর আগেও বিসিবি নির্বাচন, তামিম ইকবাল ইস্যুতে বিসিবির সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।