ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘আপা’ ডাকায় রোগীকে বের করে দিলেন চিকিৎসক

নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৪১:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 85

‘আপা’ ডাকায় রোগীকে বের করে দিলেন চিকিৎসক

শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে সম্বোধন নিয়ে অদ্ভুত এক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। রোগীর অভিভাবক চিকিৎসককে ‘আপা’ বলে ডাকায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে রুম থেকে বের করে দেন। চিকিৎসকের দাবি; তাঁকে ‘আপা’ নয়, ‘ম্যাডাম’ বলতে হবে।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে, জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে।

ভুক্তভোগী কাজী মাসুম জানান, দুপুরে তাঁর ১১ বছরের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মামিয়ার পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসেন। প্রথমে কর্তব্যরত চিকিৎসক কিছু ওষুধ লিখে দেন। কিন্তু বাইরে কয়েকটি ফার্মেসি ঘুরেও একটি ওষুধ পাওয়া যায়নি। তাই তিনি আবার জরুরি বিভাগে ফিরে আসেন। এ সময় ডিউটি পরিবর্তন হয়ে নতুন চিকিৎসক মারজিয়া খাতুন দায়িত্বে ছিলেন।

মাসুম জানান, তিনি বিনয়ের সঙ্গে চিকিৎসককে সম্বোধন করে বলেন, “আপু, আগের ডাক্তার যে ওষুধ লিখেছিলেন সেটি পাওয়া যাচ্ছে না, বিকল্প কোনো ওষুধ দেওয়া যায় কি না?” এ কথা শোনামাত্র মারজিয়া খাতুন বিরক্ত হয়ে বলেন, “আপু কেন বলছেন? আমাকে ‘ম্যাডাম’ ডাকতে হবে। আমি মেডিকেল অফিসার। বের হয়ে যান।”

তিনি আরও বলেন, অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে অনুরোধ করলেও চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকবার ধমক দেন এবং রুম থেকে বের করে দেন।

এ বিষয়ে চিকিৎসক মারজিয়া বলেন, “আমি কোনো মন্তব্য করবো না। আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ছাড়া কারও সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলব না।”

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তাহেরাতুল আশরাফি জানান, “বিষয়টি শুনেছি। হয়তো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিলে আমরা তা দেখব।”

জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহিন মিয়া বলেন, “আপা, ভাই—এসব সম্বোধন আন্তরিকতার বিষয়। আমরা সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করি। ঘটনাটি বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হবে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

‘আপা’ ডাকায় রোগীকে বের করে দিলেন চিকিৎসক

সর্বশেষ আপডেট ১০:৪১:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে সম্বোধন নিয়ে অদ্ভুত এক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। রোগীর অভিভাবক চিকিৎসককে ‘আপা’ বলে ডাকায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে রুম থেকে বের করে দেন। চিকিৎসকের দাবি; তাঁকে ‘আপা’ নয়, ‘ম্যাডাম’ বলতে হবে।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে, জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে।

ভুক্তভোগী কাজী মাসুম জানান, দুপুরে তাঁর ১১ বছরের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মামিয়ার পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসেন। প্রথমে কর্তব্যরত চিকিৎসক কিছু ওষুধ লিখে দেন। কিন্তু বাইরে কয়েকটি ফার্মেসি ঘুরেও একটি ওষুধ পাওয়া যায়নি। তাই তিনি আবার জরুরি বিভাগে ফিরে আসেন। এ সময় ডিউটি পরিবর্তন হয়ে নতুন চিকিৎসক মারজিয়া খাতুন দায়িত্বে ছিলেন।

মাসুম জানান, তিনি বিনয়ের সঙ্গে চিকিৎসককে সম্বোধন করে বলেন, “আপু, আগের ডাক্তার যে ওষুধ লিখেছিলেন সেটি পাওয়া যাচ্ছে না, বিকল্প কোনো ওষুধ দেওয়া যায় কি না?” এ কথা শোনামাত্র মারজিয়া খাতুন বিরক্ত হয়ে বলেন, “আপু কেন বলছেন? আমাকে ‘ম্যাডাম’ ডাকতে হবে। আমি মেডিকেল অফিসার। বের হয়ে যান।”

তিনি আরও বলেন, অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে অনুরোধ করলেও চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকবার ধমক দেন এবং রুম থেকে বের করে দেন।

এ বিষয়ে চিকিৎসক মারজিয়া বলেন, “আমি কোনো মন্তব্য করবো না। আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ছাড়া কারও সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলব না।”

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তাহেরাতুল আশরাফি জানান, “বিষয়টি শুনেছি। হয়তো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিলে আমরা তা দেখব।”

জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহিন মিয়া বলেন, “আপা, ভাই—এসব সম্বোধন আন্তরিকতার বিষয়। আমরা সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করি। ঘটনাটি বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হবে।”