ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক বায়োটেকনোলজি সম্মেলনে সেরা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৪:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫
  • / 142

আন্তর্জাতিক বায়োটেকনোলজি সম্মেলনে সেরা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

আন্তর্জাতিক বায়োটেকনোলজি সম্মেলন ২০২৫-এ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের (বিএমডি) শিক্ষার্থীরা অসাধারণ গবেষণা উপস্থাপন করে সেরা তিনটি পুরস্কার অর্জন করেছেন। ২০ ও ২১ জুন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এ সম্মেলনে অংশ নিয়ে তাঁরা দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন।

শীর্ষ পুরস্কারজয়ী দলের তত্ত্বাবধায়ক ও এনএসইউ’র বায়োকেমিস্ট্রি ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এস. এম. বখতিয়ার উল ইসলাম বলেন, “এই সাফল্য শুধু আমাদের শিক্ষার্থীদের নয়, বরং সমগ্র জাতির জন্য গর্বের। এটি আমাদের গবেষণার অগ্রগতি এবং তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তির প্রতিফলন।”

ড. বখতিয়ারের তত্ত্বাবধানে মো. সাফায়েত সাহিব ও তাঁর দলের গবেষণা “From Bangladeshi Soil to Genomic Insight: Discovery of Thermostable Bacillus Strains with High Amylase and Protease Activity” সম্মেলনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল বায়োটেকনোলজি ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করে। গবেষণায় তাঁরা বাংলাদেশের মাটি থেকে তাপ সহনশীল ব্যাসিলাস অনুজীব সংগ্রহ করেছেন, যেগুলোর বাণিজ্যিক এনজাইম উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে।

ড. বখতিয়ার আরও বলেন, “তাপ সহনশীল অ্যামাইলেজ ও প্রোটিয়েজ এনজাইমের আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়ছে। অথচ বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো বায়োটেকনোলজি কোম্পানি নেই। আমাদের গবেষণা এই ঘাটতি পূরণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।” তিনি জানান, এই এনজাইমগুলোর বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে টেক্সটাইল, ডিটারজেন্ট, ওষুধ এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে। গবেষণার ফল বাস্তব খাতে প্রয়োগে আগ্রহী বিনিয়োগকারী ও সহ-গবেষকদের আহ্বানও জানান তিনি।

এছাড়া, তাসনিম রহমান ও তাঁর দল “Effect of Metal Ions on the Enzymatic Efficiency of Amylase and Protease Producer KTH 205” শীর্ষক গবেষণার জন্য প্রথম রানারআপ হয়েছেন।

একইভাবে, শেখ আদিবা তাসনেম ও তাঁর দলের গবেষণা “The Silent Invaders: Unmasking Intracellular Bacteria in Chicken PBMCs” সম্মেলনে বিশেষ সম্মাননা লাভ করে।

এই তিনটি গবেষণা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মানকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরেছে। তরুণ গবেষকদের উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি, দেশীয় সম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবহার এবং বাস্তবমুখী গবেষণার প্রয়াস—সবকিছু মিলিয়ে এই অর্জনকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ড. বখতিয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ খুব শিগগিরই বৈশ্বিক বায়োটেকনোলজি গবেষণায় নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আন্তর্জাতিক বায়োটেকনোলজি সম্মেলনে সেরা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৪:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫

আন্তর্জাতিক বায়োটেকনোলজি সম্মেলন ২০২৫-এ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের (বিএমডি) শিক্ষার্থীরা অসাধারণ গবেষণা উপস্থাপন করে সেরা তিনটি পুরস্কার অর্জন করেছেন। ২০ ও ২১ জুন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এ সম্মেলনে অংশ নিয়ে তাঁরা দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন।

শীর্ষ পুরস্কারজয়ী দলের তত্ত্বাবধায়ক ও এনএসইউ’র বায়োকেমিস্ট্রি ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এস. এম. বখতিয়ার উল ইসলাম বলেন, “এই সাফল্য শুধু আমাদের শিক্ষার্থীদের নয়, বরং সমগ্র জাতির জন্য গর্বের। এটি আমাদের গবেষণার অগ্রগতি এবং তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তির প্রতিফলন।”

ড. বখতিয়ারের তত্ত্বাবধানে মো. সাফায়েত সাহিব ও তাঁর দলের গবেষণা “From Bangladeshi Soil to Genomic Insight: Discovery of Thermostable Bacillus Strains with High Amylase and Protease Activity” সম্মেলনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল বায়োটেকনোলজি ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করে। গবেষণায় তাঁরা বাংলাদেশের মাটি থেকে তাপ সহনশীল ব্যাসিলাস অনুজীব সংগ্রহ করেছেন, যেগুলোর বাণিজ্যিক এনজাইম উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে।

ড. বখতিয়ার আরও বলেন, “তাপ সহনশীল অ্যামাইলেজ ও প্রোটিয়েজ এনজাইমের আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়ছে। অথচ বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো বায়োটেকনোলজি কোম্পানি নেই। আমাদের গবেষণা এই ঘাটতি পূরণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।” তিনি জানান, এই এনজাইমগুলোর বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে টেক্সটাইল, ডিটারজেন্ট, ওষুধ এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে। গবেষণার ফল বাস্তব খাতে প্রয়োগে আগ্রহী বিনিয়োগকারী ও সহ-গবেষকদের আহ্বানও জানান তিনি।

এছাড়া, তাসনিম রহমান ও তাঁর দল “Effect of Metal Ions on the Enzymatic Efficiency of Amylase and Protease Producer KTH 205” শীর্ষক গবেষণার জন্য প্রথম রানারআপ হয়েছেন।

একইভাবে, শেখ আদিবা তাসনেম ও তাঁর দলের গবেষণা “The Silent Invaders: Unmasking Intracellular Bacteria in Chicken PBMCs” সম্মেলনে বিশেষ সম্মাননা লাভ করে।

এই তিনটি গবেষণা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মানকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরেছে। তরুণ গবেষকদের উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি, দেশীয় সম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবহার এবং বাস্তবমুখী গবেষণার প্রয়াস—সবকিছু মিলিয়ে এই অর্জনকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ড. বখতিয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ খুব শিগগিরই বৈশ্বিক বায়োটেকনোলজি গবেষণায় নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।”