জুলাই সনদ নিয়ে
আদালতে প্রশ্ন ঠেকাতে রাজি নয় বিএনপি
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫
- / 185
জুলাই জাতীয় সনদকে সংবিধানের ওপরে স্থান দেওয়ার পক্ষে নয় বিএনপি। দলটি মনে করে, সংবিধানই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন, এর ওপরে কোনো দলিলের স্থান হতে পারে না। একই সঙ্গে সনদকে আদালতে প্রশ্নাতীত করার প্রস্তাবেও একমত নয় তারা। এছাড়া বিএনপির অবস্থান হলো; যেসব সাংবিধানিক সংস্কারে রাজনৈতিক ঐকমত্য রয়েছে, সেগুলো বর্তমান নির্বাচনের আগে নয়, বরং আগামী সংসদে বাস্তবায়ন করতে হবে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে বিএনপি এই মতামত জানায় বুধবার, সনদের সমন্বিত খসড়া নিয়ে। ওই দিন বিএনপিসহ পাঁচটি দল মতামত দেয়, যদিও জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ ২৬টি দল মতামত না দেওয়ায় সময় বাড়ানো হয়েছে শুক্রবার পর্যন্ত।
বিএনপির আপত্তির মূল পয়েন্ট
অঙ্গীকারনামার দ্বিতীয় দফায় বলা হয়েছিল, সংবিধান ও আইনের ওপরে সনদের প্রাধান্য থাকবে, সনদ নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না এবং নির্বাচনের আগে সব বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কার কার্যকর করবে সরকার। বিএনপি এই তিনটি প্রস্তাবেই আপত্তি জানিয়েছে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ৩৫ পৃষ্ঠার বিস্তারিত মতামত কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন, এর ওপরে রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল স্থান পেতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, পঁচাত্তরের সামরিক শাসনের প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমান সংসদের বাইরে সংবিধান সংশোধন করেছিলেন, কিন্তু তখন সংবিধান স্থগিত ছিল। বর্তমান বাস্তবতায় সেই তুলনা টানা যায় না, কারণ এখনকার অন্তর্বর্তী সরকার আদালতের অনুমোদনে গঠিত এবং সাংবিধানিক।
আদালতে প্রশ্ন তোলার অধিকার
অঙ্গীকারনামার আরেক দফায় বলা হয়েছে, সনদের বৈধতা বা প্রয়োজনীয়তা আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না। এ বিষয়ে বিএনপির আপত্তি হলো; সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে কোন বিষয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না (যেমন সংসদের কার্যক্রম বা নির্বাচনের বৈধতা)। এর বাইরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করবে।
অন্যান্য দলের অবস্থান
জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন চায়, সনদের আইনি ভিত্তি থাকুক এবং নির্বাচনের আগে তা কার্যকর করা হোক। জামায়াতের দাবি, জনগণের অভিপ্রায়ে সংবিধান সংসদের বাইরে থেকেও সংশোধন করা সম্ভব, যেমনটা জিয়াউর রহমান করেছিলেন। তবে বিএনপি এ যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে।
এনসিপি বলেছে, জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান পুনর্লিখন করতে হবে গণপরিষদের মাধ্যমে। ইসলামী আন্দোলনও মনে করে, আইনি স্বীকৃতি ছাড়া সনদ অর্থহীন হয়ে পড়বে।
সংস্কার ও ঐকমত্য
প্রথম দফার সংলাপে ১৬৬ প্রস্তাবের মধ্যে ৬২টিতে দলগুলো একমত হয়েছিল। দ্বিতীয় দফায় ২২ প্রস্তাবের মধ্যে ১১টিতে ঐকমত্য হয়েছে। বাকিগুলো কমিশন সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত করেছে। তবে ভোটের অনুপাতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ কয়েকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ, প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রধান পদে থাকতে পারবেন না; এসব প্রস্তাবে বিএনপি ভিন্নমত দিয়েছে।
বিএনপি বলছে, রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে সংস্কারের বাস্তবায়নপথ বের হবে। যেসব সংস্কার সংবিধান সংশোধন ছাড়াই করা যায়, সেগুলো সরকার অধ্যাদেশ বা নির্বাহী আদেশে করতে পারে। তবে সাংবিধানিক সংস্কার নির্বাচিত সংসদেই হতে হবে।
কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, দলগুলোর মতামত সমন্বয় করে সনদ চূড়ান্ত করা হবে এবং বাস্তবায়নে সব দলের স্বাক্ষর থাকবে অঙ্গীকারনামায়।
































