অভিযুক্তকে আড়াল করতে ব্যস্ত নির্বাহী প্রকৌশলী
আদাবরে বিদ্যুতের মিটার কেলেঙ্কারি ফাঁস
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫
- / 1426
রাজধানীর আদাবরে নিয়ম ভেঙ্গে একটি ভবনে দুটি বিদ্যুতের সংযোগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। যার সাথে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। বিদ্যুতের মিটার কেলেঙ্কারির এই তথ্য ফাঁস হওয়ার পর অভিযুক্ত মিটার রিডার ইলিয়াসকে বাঁচাতে আদাজল খেয়ে নেমেছেন ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) আদাবর এনওসিএসয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আয়তুল্লাহ ইমরান আলী।
এক গ্রাহকের দেয়া তথ্য ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলা অ্যাফেয়ার্স ডটকম জানতে পারে, আদাবর এনওসিএস এর ঢাকা উদ্যান ফিডারের নবীনগর হাউজিংয়ের ৬ নম্বর রোডের ১ নম্বর হোল্ডিংয়ে একটি উচ্চচাপ (এইচটি) সংযোগ রয়েছে। একই স্থাপনায় দুটি সংযোগ না দেয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের বিধিনিষেধ থাকলেও মিটার রিডার ইলিয়াস ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মিটার রিডার হাছান মাহমুদ ভবনটির নিচে একটি দোকানে ভিন্ন হোল্ডিং নম্বরের একটি এলটিসিটি মিটার খুলে এনে সংযোগ প্রদান করে।
এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা অ্যাফেয়ার্স সরেজমিনে অনুসন্ধান করে অভিযোগের সত্যতা প্রমান পায়। ভবনটিতে অবৈধভাবে দেয়া সংযোগটি ৫৩৩/১ মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ ঠিকানার মো. সামসুদ্দিনের নামে অনুমোদন দেয়া রয়েছে। যার মিটার নাম্বার ১৫৯৩২০৮৯, কাস্টমার নাম্বার ৩১৬৫৪৩৬৫।
অনুসন্ধানকালে স্থানীয় কয়েকজন দোকান মালিক অভিযোগ করেন আদাবরের এক্সইন আয়াতুল্লাহ ইমরান আলীর ছত্র-ছায়ায় মিটার রিডার ইলিয়াস, বিল সুপারভাইজার নবীনগর হাউজিং, ঢাকা উদ্যান হাউজিং, চন্দ্রিমা মডেল টাউনে এমন বহু অবৈধ সংযোগ প্রদান করে রেখেছে।

এদিকে বাংলা অ্যাফেয়ার্সের এমন সরেজমিন অনুসন্ধানের খবর আচ করতে পেরে এক্সইন ইমরান আলী বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে নিজস্ব লোকজন দিয়ে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে, মিটার খুলে নিয়ে আসে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী এমন অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষেত্রে ডিপিডিসির কেন্দ্রিয় টাস্কফোর্সের উপস্থিত থাকতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট মিটার রিডারকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে। কিন্তু ইমরান আলী টাস্কফোর্স, ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলী (নর্থ), সংশ্লিষ্ট সার্কেল তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে অবগত না করে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করেছেন। এব্যাপারে অভিযুক্ত মিটার রিডারকেও তলব করা বা বরখাস্ত করার কোনো উদ্যোগ নেননি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আয়াতুল্লাহ ইমরান আলী বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, বিষয়টি তার জানা ছিলো না। এক গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি মিটারটি খুলে নিয়ে আসেন। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি। বিষয়টি যাচাই বাছাইয়ের পর তদন্ত কমিটি গঠণ করা হবে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিপিডিসি’র শ্যামলী সার্কেল তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, একই স্থানে দুটি মিটার স্থাপনের কোন সুযোগ নেই। যদি কেউ করে থাকে, তারা অনিয়ম করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মিটার রিডার ইলিয়াস জানান, উত্তম নামে এক মিটার রিডারের কাছ থেকে তিনি আবেদনের ফাইলটি পেয়েছিলো। তার ধারনা ‘ওই মিটার রিডার হয়তো কিছু টাকাও নিয়েছিলেন।’ পরবর্তীতে তিনি আর এই ফাইলের খবর জানেন না।
তবে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় মিটার রিডার হাছান মাহমুদ ও ইলিয়াসের যোগসূত্রেই অবৈধ এই সংযোগটি দেয়া হয়। যা জানতো নির্বাহী প্রকৌশলী আয়াতুল্লাহ ইমরান আলীও। যেখানে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।
































