বকেয়া না দিলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করবে আদানি
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৯:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
- / 98
ভারতের আদানি পাওয়ার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়ে দিয়েছে—চলতি মাসের ১০ নভেম্বরের মধ্যে বকেয়া অর্থ পরিশোধ না হলে ১১ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হবে।
৩১ অক্টোবর পিডিবি চেয়ারম্যানকে পাঠানো চিঠিতে আদানি পাওয়ারের ভাইস চেয়ারম্যান অবিনাশ অনুরাগ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পাওনা আদায়ের জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও পিডিবি এখনো ৪৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করেনি। এর মধ্যে ২৬২ মিলিয়ন ডলারকে পিডিবি ‘বিরোধহীন পাওনা’ হিসেবে স্বীকার করেছে।
পিডিবি সূত্র জানায়, আদানির দাবি করা অর্থের বড় অংশ নিয়ে আপত্তি রয়েছে। বিশেষ করে কয়লার দাম নিয়ে বিরোধ থাকায় বকেয়া পরিশোধ সম্ভব হচ্ছে না। পিডিবি দাবি করছে, অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় আদানির প্রতি টন কয়লার দাম ১০ থেকে ১২ ডলার বেশি। বারবার চিঠি ও বৈঠকেও এই সমস্যার সমাধান হয়নি।
গত বছরও আদানি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিয়েছিল, কিন্তু পরে আংশিক সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।
আদানির চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর স্বাক্ষরিত পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্টের (পিপিএ) ১৩.২ ধারা অনুযায়ী বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থ হলে সরবরাহ স্থগিত করার অধিকার কোম্পানির রয়েছে। তারা জানিয়েছে, ১০ নভেম্বরের মধ্যে বকেয়া নিষ্পত্তি না হলে ১১ নভেম্বর থেকে সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। সরবরাহ বন্ধ থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী তারা সক্ষমতা চার্জ (ক্যাপাসিটি পেমেন্ট) পাওয়ার অধিকার রাখে।
আগেই ২৭ সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পাঠানো চিঠিতে আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি জানিয়েছিলেন, আংশিক অর্থপ্রদানের পরও প্রায় ৪৬৪ মিলিয়ন ডলার বকেয়া রয়েছে। তিনি লিখেছিলেন, দ্রুত বকেয়া পরিশোধ না হলে কার্যক্রম ও অর্থায়ন মারাত্মক চাপে পড়বে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, পিডিবি সরকার গঠিত ‘বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনা জাতীয় কমিটি’-এর নির্দেশনায় কাজ করছে। বিচারপতি মইনুল ইসলাম নেতৃত্বাধীন কমিটি ২ নভেম্বর প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে আদানি চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও অসঙ্গতির বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন জানুয়ারিতে জমা দেওয়া হবে।
এছাড়া, আদানি পাওয়ার পিডিবিকে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) নবায়নের তাগিদ দিয়েছে। ২০১৭ সালের চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ইস্যু করা এলসির মেয়াদ ৩০ অক্টোবর শেষ হলেও এখনও নবায়ন হয়নি। চুক্তি অনুযায়ী এলসি নবায়নে দেরি ‘চুক্তিভঙ্গ’ হিসেবে গণ্য হতে পারে।





































