ঢাকা ১২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আতঙ্কের নগরী খুলনা: ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার ৪ মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 127

মরদেহ

খুলনা নগরীতে ক্রমবর্ধমান হত্যাকাণ্ড, মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ও অপরাধের বৃদ্ধি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পুলিশ বলছে, অপরাধীরা এখনও বেশির ভাগ সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনার বিভিন্ন এলাকা থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে খুলনা রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রিন্স নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রূপসা উপজেলার জাবুসা চৌরাস্তা এলাকায় সড়কের পাশে একটি বিল থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নগরীর লবণচরা এলাকায় মহাসড়কের পাশে ৮০ বছরের এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বটিয়াঘাটায় পুকুরে পড়ে ৭৭ বছর বয়সী জোসনা কুণ্ডুর মরদেহ ভেসে ওঠে।

রবিবার রাতে নগরীর হাজি মালেক কলেজ এলাকায় দুই ছিনতাইকারী মধ্যে সংঘর্ষে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নগরীতে খুনের ঘটনা ১৮টি রেকর্ড করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে ৩১টি হত্যা মামলা দায়ের হয়।

নগরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহের সার্ভিস তার চুরি, নদীতে মরদেহ উদ্ধার এবং অপরাধের কারণে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ বা লোডশেডিংয়ের সুযোগে সংঘবদ্ধ চক্র সার্ভিস তার কেটে নিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্য, এক শ্রেণির নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি এসব তার চুরি করে বিক্রি করছে।

নাগরিক সমাজের সদস্য অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, “খুলনায় অপরাধের পেছনে আধিপত্য বিস্তার, পূর্ববিরোধ, মাদকসংশ্লিষ্টতা ও রাজনৈতিক ছত্রছায়া বড় ভূমিকা রাখছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।”

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) খন্দকার হোসেন আহমদ জানান, “নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। আমরা প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে কাজ করে যাচ্ছি।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আতঙ্কের নগরী খুলনা: ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার ৪ মরদেহ

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

খুলনা নগরীতে ক্রমবর্ধমান হত্যাকাণ্ড, মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ও অপরাধের বৃদ্ধি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পুলিশ বলছে, অপরাধীরা এখনও বেশির ভাগ সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনার বিভিন্ন এলাকা থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে খুলনা রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রিন্স নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রূপসা উপজেলার জাবুসা চৌরাস্তা এলাকায় সড়কের পাশে একটি বিল থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নগরীর লবণচরা এলাকায় মহাসড়কের পাশে ৮০ বছরের এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বটিয়াঘাটায় পুকুরে পড়ে ৭৭ বছর বয়সী জোসনা কুণ্ডুর মরদেহ ভেসে ওঠে।

রবিবার রাতে নগরীর হাজি মালেক কলেজ এলাকায় দুই ছিনতাইকারী মধ্যে সংঘর্ষে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নগরীতে খুনের ঘটনা ১৮টি রেকর্ড করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে ৩১টি হত্যা মামলা দায়ের হয়।

নগরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহের সার্ভিস তার চুরি, নদীতে মরদেহ উদ্ধার এবং অপরাধের কারণে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ বা লোডশেডিংয়ের সুযোগে সংঘবদ্ধ চক্র সার্ভিস তার কেটে নিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্য, এক শ্রেণির নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি এসব তার চুরি করে বিক্রি করছে।

নাগরিক সমাজের সদস্য অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, “খুলনায় অপরাধের পেছনে আধিপত্য বিস্তার, পূর্ববিরোধ, মাদকসংশ্লিষ্টতা ও রাজনৈতিক ছত্রছায়া বড় ভূমিকা রাখছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।”

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) খন্দকার হোসেন আহমদ জানান, “নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। আমরা প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে কাজ করে যাচ্ছি।”