আট ঘণ্টা পর সচল কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৯:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫
- / 187
কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইউনিসেফের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পের চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা। তারা চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে আমরণ অনশনসহ সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন।
সোমবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া অবরোধে সড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। আন্দোলনকারীরা বলেছেন, অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহালের ব্যবস্থা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা অবরোধ ও অনশন চালিয়ে যাবেন।
কোটবাজার স্টেশনে এই অবরোধ কর্মসূচি পরিচালিত হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন। দুপুরের পর কক্সবাজার পুলিশ সুপার সাইফুদ্দিন শাহীনসহ জেলা প্রশাসন এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত হন। পুলিশ সুপার বলেন, “শিক্ষকরা চাকরি হারিয়েছেন, তাদের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ১৫০ জনের চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে, একটি এনজিও তাদের নিয়োগ দিয়েছে। বাকিদের জন্যও আবেদন করা হয়েছে। তবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করা ঠিক নয়।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন জানান, “আমরা এখনও এখানে আছি এবং আন্দোলনকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করছি। রাস্তা বন্ধ থাকায় হাজার হাজার মানুষ কষ্ট পাচ্ছে, তাই তারা যেন জনদূর্ভোগ না সৃষ্টি করে।”
অবশেষে বিকেল সাড়ে ৪টায় আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। সমন্বয়ক মো. শামীম জানান, জনদূর্ভোগ বিবেচনায় অবরোধ সরানো হয়েছে। তবে আগামীকাল আন্দোলন উখিয়া নাকি কক্সবাজারে হবে, তা রাতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
চাকরিচ্যুত শিক্ষক বোরহান উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন তারা মানবিক সংস্থার অধীনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলেন। হঠাৎ বিনা কারণে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, ফলে পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
অবরোধের কারণে সকাল থেকেই কোটবাজার সড়কে তীব্র যানজট দেখা দেয়। বাস, ট্রাকসহ শত শত যানবাহন আটকে পড়ে। সিএনজি চালক নুরুল আলম বলেন, “৫ ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি, যাত্রীদেরও নামতে হয়েছে।” ট্রাক চালক রহিম উদ্দিন বলেন, “স্থানীয় শিক্ষকদের বাদ দিয়ে রোহিঙ্গা শিক্ষকদের নিয়োগ ঠিক নয়।”
উখিয়ার ইউএনও মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, সমস্যাটি ইউনিসেফ ও আরআরআরসির সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সমাধানের চেষ্টা চলছে।
রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য আশ্রয়শিবিরে সাড়ে চার হাজারের অধিক শিক্ষাকেন্দ্র চালু রয়েছে। এতে প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার শিশু শিক্ষাদান পাচ্ছে। ইউনিসেফের কক্সবাজার চিফ অব ফিল্ড অফিসার এঞ্জেলা কার্নে জানান, তহবিল সংকটের কারণে সীমিত প্রকল্পে শিখন কেন্দ্রগুলো আপাতত জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। যদি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়, গ্রেড-১ ও গ্রেড-২-এর স্থানীয় শিক্ষকরা (বাংলাদেশি নাগরিক) নিয়োগ পাবে না।
এতে এক হাজার ১৭৯ জন শিক্ষক চাকরি হারানোর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। ইউনিসেফ জানিয়েছে, সীমিত প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি, বিজ্ঞান ও সামাজিক শিক্ষা শেখানো হবে না। বরং বার্মিজ ভাষা, গণিত, জীবন দক্ষতা ও সামাজিক মানসিক শিক্ষার উপর অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং শিক্ষক হিসেবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শিক্ষকরা থাকবেন। পুরাতন বইগুলো শিক্ষাবর্ষ শেষে নতুন শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে।


































