বিপাকে হাজারো বনজীবী
সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা
- সর্বশেষ আপডেট ০১:০৬:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫
- / 5004
আজ ১ জুন থেকে সুন্দরবনে শুরু হয়েছে তিন মাসব্যাপী সরকারি নিষেধাজ্ঞা। বন বিভাগের জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে ইকো-ট্যুরিজম, মাছ ও কাঁকড়া শিকার, মধু আহরণসহ সব ধরনের মানবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ।
তবে এ নিষেধাজ্ঞা সুন্দরবন-নির্ভর মানুষের জীবনে এনেছে চরম দুর্ভোগ। শ্যামনগরের গাবুরা এলাকার জেলে মোহাম্মদ আলীর কথায় উঠে আসে তীব্র হতাশা: “সুন্দরবন মানেই আমাদের পেটের ভাত। বনে যেতে না পারলে চুলা জ্বলবে কীভাবে? সরকার যে চাল দেয়, তা সবার ভাগে পড়ে না। বরং যারা বনে যায় না, তারাই বরাদ্দের চাল পায়।”
উপজেলা মৎস্য অফিস জানায়, শ্যামনগরে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২৩ হাজার ৯২৮ জন। অথচ সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন মাত্র ৮ হাজার ৩২৪ জন। তাদের জন্য তিন মাসে বরাদ্দ ৭৭ কেজি চাল, যা দুই কিস্তিতে দেওয়া হবে। সহায়তার ঘাটতির পাশাপাশি বণ্টনেও রয়েছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি।
স্থানীয় জেলে জলিল গাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই সময় কাঁকড়া ডিম দেয় না। তাহলে নিষেধাজ্ঞা কেন? যাদের নামে বিএলসি আছে তারা অনেকেই বনে যায় না। বরং লাইসেন্স ভাড়া দিয়ে খায়। আমরা যারা প্রকৃত বনজীবী, তারাই বঞ্চিত।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বনজীবী জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় প্রকৃত জেলেরা বনে না গেলেও একটি চক্র গোপনে মাছ ধরে। বন বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা কীভাবে ঢোকে—সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।
গাবুরা ইউনিয়নের মৌয়াল গোলাম রাব্বানী বলেন, “মধু না তুলতে পারলে আমাদের আয় থাকে না। সরকার যদি বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করত, তাহলে অন্তত এই তিন মাস বাঁচতে পারতাম।”
বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী কর্মকর্তা হাবিবুল ইসলাম জানান, “জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ইতোমধ্যে পাস প্রদান বন্ধ করেছি এবং বনে অবস্থানকারীদের ৩১ মের মধ্যে ফিরে আসতে নির্দেশ দিয়েছি।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পাশাপাশি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে প্রকৃত জেলেদের জন্য পর্যাপ্ত ও ন্যায্য খাদ্য সহায়তা। না হলে বন রক্ষার এই প্রয়াস তাদের জন্য রূপ নেবে অনাহার ও অবহেলার দীর্ঘ লড়াইয়ে।



































