ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৪২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / 117

আজ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

আজ ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। দিনটি সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত হয়েছিল সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিয়েছিল। অরাজকতা ও অনিশ্চয়তার সময় পেরিয়ে এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জাতি নতুন দিকনির্দেশনা খুঁজে পায়।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সকালে সেনানিবাসে গৃহবন্দি ছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। এর আগে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা এবং ৩ নভেম্বর কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে খুন করার পর দেশে তৈরি হয়েছিল চরম অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা। ঠিক এমন সময় ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ সেনা নেতৃত্বের কাঠামো পরিবর্তন করে নিজেকে সেনাপ্রধান ঘোষণা করেন।

পরিস্থিতি দ্রুত রূপ নেয় উত্তেজনায়। স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে পরিচিত মেজর জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসেন সাধারণ সিপাহী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তারা। তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সাধারণ মানুষও রাস্তায় নেমে আসে। সিপাহী-জনতার এই স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান মুক্ত হন এবং রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায়।

এই ঘটনাক্রমকেই স্মরণ করে ৭ নভেম্বরকে “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস” হিসেবে পালন করে বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। দিনটি উপলক্ষে দলটি প্রতিবছরের মতো এবারও ১০ দিনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

বিএনপির কর্মসূচি

দিবসের শুরুতেই সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের সব জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

সকাল ১০টায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন।

বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে, যার উদ্বোধন করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদলের উদ্যোগে ৫ নভেম্বর আলোচনা সভা হয়েছে। ৮ নভেম্বর ছাত্রদল আলোচনা সভা করবে, ৯ নভেম্বর ওলামা দল এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করবে।

১০ নভেম্বর তাঁতী দলের, ১১ নভেম্বর কৃষক দলের উদ্যোগে আলোচনা সভা এবং ১৩ নভেম্বর জাসাসের উদ্যোগে শহীদ মিনারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।

অন্যদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় উদ্যোগে ১২ নভেম্বর রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বৃহত্তর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

দিবসটি উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বাণী দিয়েছেন, যেখানে তাঁরা শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে সংঘটিত জাতীয় বিপ্লবের চেতনা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আজ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

সর্বশেষ আপডেট ১০:৪২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

আজ ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। দিনটি সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত হয়েছিল সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিয়েছিল। অরাজকতা ও অনিশ্চয়তার সময় পেরিয়ে এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জাতি নতুন দিকনির্দেশনা খুঁজে পায়।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সকালে সেনানিবাসে গৃহবন্দি ছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। এর আগে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা এবং ৩ নভেম্বর কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে খুন করার পর দেশে তৈরি হয়েছিল চরম অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা। ঠিক এমন সময় ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ সেনা নেতৃত্বের কাঠামো পরিবর্তন করে নিজেকে সেনাপ্রধান ঘোষণা করেন।

পরিস্থিতি দ্রুত রূপ নেয় উত্তেজনায়। স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে পরিচিত মেজর জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসেন সাধারণ সিপাহী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তারা। তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সাধারণ মানুষও রাস্তায় নেমে আসে। সিপাহী-জনতার এই স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান মুক্ত হন এবং রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায়।

এই ঘটনাক্রমকেই স্মরণ করে ৭ নভেম্বরকে “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস” হিসেবে পালন করে বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। দিনটি উপলক্ষে দলটি প্রতিবছরের মতো এবারও ১০ দিনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

বিএনপির কর্মসূচি

দিবসের শুরুতেই সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের সব জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

সকাল ১০টায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন।

বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে, যার উদ্বোধন করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদলের উদ্যোগে ৫ নভেম্বর আলোচনা সভা হয়েছে। ৮ নভেম্বর ছাত্রদল আলোচনা সভা করবে, ৯ নভেম্বর ওলামা দল এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করবে।

১০ নভেম্বর তাঁতী দলের, ১১ নভেম্বর কৃষক দলের উদ্যোগে আলোচনা সভা এবং ১৩ নভেম্বর জাসাসের উদ্যোগে শহীদ মিনারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।

অন্যদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় উদ্যোগে ১২ নভেম্বর রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বৃহত্তর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

দিবসটি উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বাণী দিয়েছেন, যেখানে তাঁরা শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে সংঘটিত জাতীয় বিপ্লবের চেতনা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।