ঢাকা ০১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আগৈলঝাড়ায় লক্ষাধিক টাকার অবৈধ জালসহ ব্যবসায়ী ছাড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:১৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / 256

আগৈলঝাড়ায় লক্ষাধিক টাকার অবৈধ জালসহ ব্যবসায়ী ছাড়া

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় লক্ষাধিক টাকার অবৈধ জালসহ এক ব্যবসায়ীকে মৎস্য অফিসে আটক রাখলেও তাকে জেল-জরিমানা না করে ছেড়ে দিয়েছে মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর সোম। এ ঘটনায় জাল ব্যবসায়ীদের মধ্যে তোলপাড় দেখা দিয়েছে। তবে মৎস্য অফিসের জেলা এক কর্মকর্তা জানান, জালসহ কাউকে আটক করলে তাকে জেল-জরিমানা ছাড়া ছেড়ে দেওয়া যাবে না। কেউ যদি ছেড়ে দেয়, সেই দায়-দায়িত্ব তার নিতে হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর থেকে অবৈধ চায়না দুয়ারী ১৭ পিচ, কারেন্ট জাল ৩২ পাউন্ড, চায়না চায় ৪০ পিচসহ লক্ষাধিক টাকার অবৈধ জাল নিয়ে এসেছেন জাল ব্যবসায়ী আবু বক্কর ফকির। তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের জলিরপাড় গ্রামের ছবেদ আলী ফকিরের ছেলে। অবৈধ জালসহ ব্যবসায়ীকে উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের বসুন্ডা নামক স্থানে ভ্যান ও জালের সঙ্গে আটক করে উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর সোম।

পরবর্তীতে ব্যবসায়ীকে মৎস্য অফিসে প্রায় এক ঘন্টা আটক রাখার পর মুচলেখা নিয়ে জেল-জরিমানা না করে ছেড়ে দেয়া হয়। অবৈধ জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। পুড়িয়ে ফেলা চায়না জাল থেকে যে রড় বের হয় তা স্থানীয় ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী ইউনুস পাইকের কাছে ২,৮০০ টাকায় বিক্রি করে মৎস্য অফিস।

তবে মৎস্য অফিসের জেলা এক কর্মকর্তা বলেন, জালসহ কাউকে আটক করা হলে তাকে জেল-জরিমানা ছাড়া ছেড়ে দেওয়া যাবে না। কেউ যদি ছেড়ে দেয়, সেই দায়-দায়িত্ব তার নিতে হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, আগে মৎস্য অফিস প্রায়ই অবৈধ জালের ব্যাপারে অভিযান পরিচালনা করতেন। বর্তমানে এমন কোনো অভিযান হচ্ছে না। তাদের কথায়, এটি সম্ভব কারণ মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর সোম জাল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসিক মাসোহারা নেন। এজন্য জালসহ আটক হওয়ার পরও তাকে জরিমানা না করে মুচলেখা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চায়নাসহ শতাধিক ভেসাল জাল রয়েছে, তবে কোনো অভিযান চালানো হচ্ছে না।

এ বিষয়ে মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর সোম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক স্যারের সাথে কথা বলে জাল ব্যবসায়ীকে মুচলেখা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, “কোথায় হয়েছে, মিটিংয়ে থাকার কারণে পরবর্তীতে কথা বলব।”
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ জানান, বিষয়টি তার জানা নেই, পরে জেনে কথা বলবেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আগৈলঝাড়ায় লক্ষাধিক টাকার অবৈধ জালসহ ব্যবসায়ী ছাড়া

সর্বশেষ আপডেট ০৪:১৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় লক্ষাধিক টাকার অবৈধ জালসহ এক ব্যবসায়ীকে মৎস্য অফিসে আটক রাখলেও তাকে জেল-জরিমানা না করে ছেড়ে দিয়েছে মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর সোম। এ ঘটনায় জাল ব্যবসায়ীদের মধ্যে তোলপাড় দেখা দিয়েছে। তবে মৎস্য অফিসের জেলা এক কর্মকর্তা জানান, জালসহ কাউকে আটক করলে তাকে জেল-জরিমানা ছাড়া ছেড়ে দেওয়া যাবে না। কেউ যদি ছেড়ে দেয়, সেই দায়-দায়িত্ব তার নিতে হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর থেকে অবৈধ চায়না দুয়ারী ১৭ পিচ, কারেন্ট জাল ৩২ পাউন্ড, চায়না চায় ৪০ পিচসহ লক্ষাধিক টাকার অবৈধ জাল নিয়ে এসেছেন জাল ব্যবসায়ী আবু বক্কর ফকির। তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের জলিরপাড় গ্রামের ছবেদ আলী ফকিরের ছেলে। অবৈধ জালসহ ব্যবসায়ীকে উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের বসুন্ডা নামক স্থানে ভ্যান ও জালের সঙ্গে আটক করে উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর সোম।

পরবর্তীতে ব্যবসায়ীকে মৎস্য অফিসে প্রায় এক ঘন্টা আটক রাখার পর মুচলেখা নিয়ে জেল-জরিমানা না করে ছেড়ে দেয়া হয়। অবৈধ জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। পুড়িয়ে ফেলা চায়না জাল থেকে যে রড় বের হয় তা স্থানীয় ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী ইউনুস পাইকের কাছে ২,৮০০ টাকায় বিক্রি করে মৎস্য অফিস।

তবে মৎস্য অফিসের জেলা এক কর্মকর্তা বলেন, জালসহ কাউকে আটক করা হলে তাকে জেল-জরিমানা ছাড়া ছেড়ে দেওয়া যাবে না। কেউ যদি ছেড়ে দেয়, সেই দায়-দায়িত্ব তার নিতে হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, আগে মৎস্য অফিস প্রায়ই অবৈধ জালের ব্যাপারে অভিযান পরিচালনা করতেন। বর্তমানে এমন কোনো অভিযান হচ্ছে না। তাদের কথায়, এটি সম্ভব কারণ মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর সোম জাল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসিক মাসোহারা নেন। এজন্য জালসহ আটক হওয়ার পরও তাকে জরিমানা না করে মুচলেখা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চায়নাসহ শতাধিক ভেসাল জাল রয়েছে, তবে কোনো অভিযান চালানো হচ্ছে না।

এ বিষয়ে মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর সোম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক স্যারের সাথে কথা বলে জাল ব্যবসায়ীকে মুচলেখা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, “কোথায় হয়েছে, মিটিংয়ে থাকার কারণে পরবর্তীতে কথা বলব।”
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ জানান, বিষয়টি তার জানা নেই, পরে জেনে কথা বলবেন।