জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা
আগামী রমজানের আগে জাতীয় নির্বাচন
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫
- / 160
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আগামী রমজানের আগেই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আহ্বান জানানো হবে।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাত ৮টা ২০ মিনিটে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এই ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠাব, যেন নির্বাচন কমিশন আগামী রমজানের আগে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা সকলে দোয়া করবেন যেন সুন্দরভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান করে দেশের সকল নাগরিক একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠনের পথে সফলভাবে এগিয়ে যেতে পারে। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে এই নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সে লক্ষ্যে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করব। এবারের নির্বাচন যেন আনন্দ-উৎসব, শান্তি-শৃঙ্খলা, ভোটার উপস্থিতি, সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতার দিক থেকে দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকে, সে জন্য আগামীকাল থেকেই আমরা মানসিক প্রস্তুতি ও প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন শুরু করব।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এবার আমরা প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চাই। অর্থনৈতিকভাবে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারছে মূলত আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ঐতিহাসিক অবদানের কারণে। নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে।”
নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি বলেন, “নারী ভোটাররা যেন দেশের সর্বত্র নির্ভয়ে এবং আনন্দ-উৎসাহের মধ্য দিয়ে ভোট দিতে পারে, আমরা তা নিশ্চিত করতে চাই। এবার যেন কেন্দ্রে কেন্দ্রে নারী ভোটারদের ঢল নামে, সে লক্ষ্যেই আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার কারণে গত ১৫ বছর ধরে নাগরিকরা ভোট দিতে পারেনি। এবারের নির্বাচনে আমরা আমাদের ‘বকেয়া আনন্দ’সহ মহাআনন্দে ভোট দিতে চাই। এবারের নির্বাচনে জীবনে প্রথমবারের মতো যারা ভোট দিতে যাবে, তারা যেন উৎসবমুখর পরিবেশে কেন্দ্রে যেতে পারে এবং এ দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে পারে; সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করব।”
তিনি আরও বলেন, “নতুন নারী ও পুরুষ ভোটার থাকবে। এমন ভোটার থাকবে যারা ১৫ বছর আগেই ভোটার হয়েছিলেন, কিন্তু কখনও ভোট দিতে পারেননি। কেউ কেউ ১০ বছর, কেউ ৫ বছর আগে ভোট দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেও সুযোগ পাননি। আবার থাকবে সেই ‘ভাগ্যবান ও ভাগ্যবতী’ তরুণেরা, যারা এবারই প্রথম ভোটার হয়েছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে ভোট দেওয়ার সুযোগও পেয়েছেন।”
































