ঢাকা ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আকাশ ছোঁয়া বিস্ময়: মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার

শরিয়ত খান, মালয়েশিয়া থেকে ফিরে
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
  • / 10

প্রকৃতির এই সৌন্দর্য্য বারবার পর্টকদের ফিরিয়ে আনে মালেশিয়ায়। ছবি: শরিয়ত খান

স্বল্প ব্যয়, নান্দনিক স্থাপত্ত আর নিরাপত্তা; সব মিলিয়ে মালয়েশিয়া হয়ে উঠেছে পর্যটকদের পছন্দের অন্যতম স্থান। কুয়ালালামপুরের পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার থেকে শুরু করে হাইল্যান্ডসের চা বাগান, স্কাই ব্রিজ, ল্যাংকাউইয়ের মনোরম সৈকত আর ঐতিহাসিক মালাক্কা শহর এবং স্থাপনাসহ নানা পর্যটন কেন্দ্র।

 

 

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আধুনিকতার প্রতীক হিসেবে যেই স্থাপনাটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত, সেটি হলো মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অবস্থিত পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার। আকাশচুম্বী এই যমজ টাওয়ার শুধু একটি স্থাপত্য নিদর্শন নয়, বরং মালয়েশিয়ার উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতিফলন।

 

 

৪৫২ মিটার বা ১৪৮৩ ফুট উচ্চতার এই দুটি টাওয়ার ৮৮ তলা বিশিষ্ট এবং একসময় বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবনের মর্যাদা অর্জন করেছিল। ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন ছিল এগুলো। এরপর ১০১ তলা বিশিষ্ট্য তাইপে তৈরী হলে, তা উচ্চতায় এদেরকে ছাড়িয়ে যায়। তবে এখনো টুইন টাওয়ার ক্যাটাগরিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ভবনগুলো।

 

 

স্টিল ও কাঁচের তৈরি ভবনগুলো ইসলামী জ্যামিতিক নকশা থেকে অনুপ্রাণিত। এর নির্মাণশৈলী মালয়েশিয়ার মুসলিম ঐতিহ্যকে আধুনিকতার সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলবন্ধন করেছে। দুটি টাওয়ারকে যুক্ত করেছে ৪১ ও ৪২ তলার মাঝখানে অবস্থিত বিখ্যাত স্কাইব্রিজ, যা দর্শনার্থীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ।

 

আকাশ ছোঁয়া বিস্ময়: মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার।
আকাশ ছোঁয়া বিস্ময়: মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার।

পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারের ভেতরে প্রবেশ করলে চোখে পড়ে আধুনিক অফিস স্পেস, আর্ট গ্যালারি এবং আন্তর্জাতিক মানের শপিং মল সুরিয়া কেএলসিসি। টাওয়ারের আশপাশে অবস্থিত কেএলসিসি পার্ক শহরের কোলাহল থেকে খানিকটা স্বস্তি এনে দেয়, যেখানে সবুজ প্রকৃতি, ফোয়ারা ও রাতের লাইট শো পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

 

 

সন্ধ্যার পর পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার যেন নতুন রূপে ধরা দেয়। আলোর ঝলকানিতে টাওয়ার দু’টি তখন রূপ নেয় স্বপ্নিল এক দৃশ্যে। আলোকিত আকাশের পটভূমিতে ছবি তুলতে প্রতিদিন ভিড় জমায় দেশি-বিদেশি পর্যটকরা।

 

 

পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার শুধু একটি ভবন নয়, এটি মালয়েশিয়ার গর্ব, আধুনিক স্থাপত্যের এক জীবন্ত উদাহরণ এবং ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। কুয়ালালামপুর ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যায় যদি পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার না দেখা হয়।

 

টুইন টাওয়ারের নিচেই শপিং কমপ্লেক্সে আছে সিনেমা হল এবং রেস্টুরেন্ট। তবে টুইন টাওয়ারে ঢুকতে লাগবে টিকিট। প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ৮০ মালয়েশিয়ান রিংগিত এবং শিশুদের জন্য লাগবে ৩৩ মালয়েশিয়ান রিংগিত। সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই টাওয়ার। তবে দুপুর একটা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত থাকে বিরতি। মঙ্গলবার থেকে রবিবার সপ্তাহের ৬ দিনই খোলা থাকে এই টাওয়ার।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আকাশ ছোঁয়া বিস্ময়: মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

স্বল্প ব্যয়, নান্দনিক স্থাপত্ত আর নিরাপত্তা; সব মিলিয়ে মালয়েশিয়া হয়ে উঠেছে পর্যটকদের পছন্দের অন্যতম স্থান। কুয়ালালামপুরের পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার থেকে শুরু করে হাইল্যান্ডসের চা বাগান, স্কাই ব্রিজ, ল্যাংকাউইয়ের মনোরম সৈকত আর ঐতিহাসিক মালাক্কা শহর এবং স্থাপনাসহ নানা পর্যটন কেন্দ্র।

 

 

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আধুনিকতার প্রতীক হিসেবে যেই স্থাপনাটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত, সেটি হলো মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অবস্থিত পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার। আকাশচুম্বী এই যমজ টাওয়ার শুধু একটি স্থাপত্য নিদর্শন নয়, বরং মালয়েশিয়ার উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতিফলন।

 

 

৪৫২ মিটার বা ১৪৮৩ ফুট উচ্চতার এই দুটি টাওয়ার ৮৮ তলা বিশিষ্ট এবং একসময় বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবনের মর্যাদা অর্জন করেছিল। ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন ছিল এগুলো। এরপর ১০১ তলা বিশিষ্ট্য তাইপে তৈরী হলে, তা উচ্চতায় এদেরকে ছাড়িয়ে যায়। তবে এখনো টুইন টাওয়ার ক্যাটাগরিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ভবনগুলো।

 

 

স্টিল ও কাঁচের তৈরি ভবনগুলো ইসলামী জ্যামিতিক নকশা থেকে অনুপ্রাণিত। এর নির্মাণশৈলী মালয়েশিয়ার মুসলিম ঐতিহ্যকে আধুনিকতার সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলবন্ধন করেছে। দুটি টাওয়ারকে যুক্ত করেছে ৪১ ও ৪২ তলার মাঝখানে অবস্থিত বিখ্যাত স্কাইব্রিজ, যা দর্শনার্থীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ।

 

আকাশ ছোঁয়া বিস্ময়: মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার।
আকাশ ছোঁয়া বিস্ময়: মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার।

পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারের ভেতরে প্রবেশ করলে চোখে পড়ে আধুনিক অফিস স্পেস, আর্ট গ্যালারি এবং আন্তর্জাতিক মানের শপিং মল সুরিয়া কেএলসিসি। টাওয়ারের আশপাশে অবস্থিত কেএলসিসি পার্ক শহরের কোলাহল থেকে খানিকটা স্বস্তি এনে দেয়, যেখানে সবুজ প্রকৃতি, ফোয়ারা ও রাতের লাইট শো পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

 

 

সন্ধ্যার পর পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার যেন নতুন রূপে ধরা দেয়। আলোর ঝলকানিতে টাওয়ার দু’টি তখন রূপ নেয় স্বপ্নিল এক দৃশ্যে। আলোকিত আকাশের পটভূমিতে ছবি তুলতে প্রতিদিন ভিড় জমায় দেশি-বিদেশি পর্যটকরা।

 

 

পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার শুধু একটি ভবন নয়, এটি মালয়েশিয়ার গর্ব, আধুনিক স্থাপত্যের এক জীবন্ত উদাহরণ এবং ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। কুয়ালালামপুর ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যায় যদি পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার না দেখা হয়।

 

টুইন টাওয়ারের নিচেই শপিং কমপ্লেক্সে আছে সিনেমা হল এবং রেস্টুরেন্ট। তবে টুইন টাওয়ারে ঢুকতে লাগবে টিকিট। প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ৮০ মালয়েশিয়ান রিংগিত এবং শিশুদের জন্য লাগবে ৩৩ মালয়েশিয়ান রিংগিত। সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই টাওয়ার। তবে দুপুর একটা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত থাকে বিরতি। মঙ্গলবার থেকে রবিবার সপ্তাহের ৬ দিনই খোলা থাকে এই টাওয়ার।