৭৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
আওয়ামী লীগের জন্ম: ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি
- সর্বশেষ আপডেট ১২:০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫
- / 507
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন—মেঘলা আকাশ, ভারী বাতাস, নিস্তব্ধ নদীপ্রবাহের দিনে বাংলার ইতিহাসে সূচিত হয় এক গভীর কলঙ্কগাথা। পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মাধ্যমে বাংলা হারায় তার স্বাধীনতা, শুরু হয় ঔপনিবেশিক দাসত্বের যুগ। বৃটিশদের ষড়যন্ত্র, মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা এবং লর্ড ক্লাইভের কূটকৌশলে বাঙালি জাতিকে ঠেলে দেওয়া হয় দুঃসহ পরাধীনতার অন্ধকারে।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং জন্ম নেয় ভারত ও পাকিস্তান। পাকিস্তানের দুই অংশ—পূর্ব (আজকের বাংলাদেশ) ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে শুরু থেকেই ছিল ব্যাপক বৈষম্য। ভাষা, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ। সেই অবহেলার প্রতিবাদেই তৈরি হয় বিকল্প নেতৃত্বের প্রয়োজন।
এই প্রেক্ষাপটে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন, ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে গঠিত হয় “পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ”—যা পরবর্তীতে “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ” নামে পরিচিতি পায়। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানী, এবং শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত দলটির মূল লক্ষ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
১৯৫৫ সালে “মুসলিম” শব্দটি বাদ দিয়ে দলটি হয়ে ওঠে সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ “আওয়ামী লীগ”। এরপর ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয় দফা, ’৭০-এর নির্বাচন এবং ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে এ দলটি ছিল বাঙালির মুক্তির নেতৃত্বে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে আওয়ামী লীগ হয়ে ওঠে স্বাধীনতার মূল চালিকাশক্তি।
স্বাধীনতার পর শেখ মুজিব দেশ পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দেন। প্রণীত হয় সংবিধান, যেখানে চার মূলনীতি ছিল: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। কিন্তু যুদ্ধ-পরবর্তী দুর্ভিক্ষ, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং দুর্নীতির কারণে চ্যালেঞ্জ বাড়ে। এই সংকট কাটাতে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনব্যবস্থা “বাকশাল” চালু করেন।
১৫ আগস্ট ১৯৭৫, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। শুরু হয় সামরিক শাসন, আওয়ামী লীগ পড়ে যায় রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মুখে। ১৯৮১ সালে প্রবাসে থাকা শেখ হাসিনাকে দলের নেতৃত্বে আনা হয়। এরপর ধীরে ধীরে দলটি পুনর্গঠিত হয় এবং ১৯৯০-এর গণআন্দোলনে সামরিক শাসনের পতনে ভূমিকা রাখে।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসে। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে বড় জয়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করে এবং এখন পর্যন্ত ক্ষমতায় রয়েছে। শিক্ষা, অবকাঠামো, নারীর ক্ষমতায়ন ও প্রযুক্তি খাতে এ দল কিছু উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত একটানা দেশ পরিচালনা করে আওয়ামী লীগ সরকার। বর্তমানে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালীন সরকার।
বাংলাদেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের আজ ৭৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এ উপলক্ষ্যে ক্ষমতাচ্যুত দলটির অনলাইনে নানা ধরণের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।































