ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অস্থিতিশীল পেঁয়াজের বাজার, দাম ছাড়াল ১০০ টাকা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৮:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / 83

সীমিত পরিসরে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি

ঢাকার বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়েছে। গত দু’দিনে কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকার বৃদ্ধি দেখা গেছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়, যা তিনদিন আগেও ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।

পাইকারি বাজারেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। মানভেদে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ থেকে ১০৫ টাকিতে, যা গত শুক্র-শনিবার বিক্রি হয়েছিল ৭২ থেকে ৮৫ টাকায়।

রাজধানীর শ্যামবাজারের আড়তদাররা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর চাপ বেড়েছে। সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। কুমিল্লা আড়তের আড়তদার আবুল কালাম জানান, পাবনা ও ফরিদপুরের আড়তে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় সারাদেশের পাইকারি বাজারে প্রভাব পড়েছে।

চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারেও তিন দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। মানভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০৫ টাকায়। খাতুনগঞ্জ হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর চাপ বেড়েছে এবং সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

মৌসুমি প্রভাব এবং আমদানি সংকটের কারণে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো রবি মৌসুমের পেঁয়াজ রোপণ শেষ হয়নি। কৃষি অধিদপ্তর বলছে, দেশে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই, কৃষকের হাতে পর্যাপ্ত মজুত আছে। অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. জামাল উদ্দীন জানান, বাজারে দাম বৃদ্ধির কোনো প্রাকৃতিক কারণ নেই, এটি ব্যবসায়ীদের কারসাজি। গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ নভেম্বর এবং ডিসেম্বরের মধ্যে বাজারে আসতে শুরু করবে, ফলে দাম স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

বাজারে হঠাৎ দাম বৃদ্ধিকে কারসাজি ও সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত করে ব্যবসায়ীরা। ক্যাবের সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, আড়তদার, কমিশন এজেন্ট ও দাদন ব্যবসায়ীদের কারসাজিতেই দাম বেড়েছে।

আমদানি অনুমতির বিষয়টিও জটিল হয়ে আছে। দেশের বার্ষিক চাহিদা ৩৫ লাখ টন হলেও ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে আমদানির চেষ্টা করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে ২৮০০-এর বেশি আমদানি অনুমতির আবেদন জমা আছে, তবে অনুমতি এখনও মেলেনি। অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুর রহমান জানান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ নভেম্বরেই বাজারে আসবে এবং কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করাই অগ্রাধিকার।

বাজার বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসার আগে এক মাস পর্যন্ত দামের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

অস্থিতিশীল পেঁয়াজের বাজার, দাম ছাড়াল ১০০ টাকা

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৮:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকার বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়েছে। গত দু’দিনে কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকার বৃদ্ধি দেখা গেছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়, যা তিনদিন আগেও ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।

পাইকারি বাজারেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। মানভেদে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ থেকে ১০৫ টাকিতে, যা গত শুক্র-শনিবার বিক্রি হয়েছিল ৭২ থেকে ৮৫ টাকায়।

রাজধানীর শ্যামবাজারের আড়তদাররা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর চাপ বেড়েছে। সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। কুমিল্লা আড়তের আড়তদার আবুল কালাম জানান, পাবনা ও ফরিদপুরের আড়তে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় সারাদেশের পাইকারি বাজারে প্রভাব পড়েছে।

চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারেও তিন দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। মানভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০৫ টাকায়। খাতুনগঞ্জ হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর চাপ বেড়েছে এবং সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

মৌসুমি প্রভাব এবং আমদানি সংকটের কারণে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো রবি মৌসুমের পেঁয়াজ রোপণ শেষ হয়নি। কৃষি অধিদপ্তর বলছে, দেশে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই, কৃষকের হাতে পর্যাপ্ত মজুত আছে। অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. জামাল উদ্দীন জানান, বাজারে দাম বৃদ্ধির কোনো প্রাকৃতিক কারণ নেই, এটি ব্যবসায়ীদের কারসাজি। গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ নভেম্বর এবং ডিসেম্বরের মধ্যে বাজারে আসতে শুরু করবে, ফলে দাম স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

বাজারে হঠাৎ দাম বৃদ্ধিকে কারসাজি ও সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত করে ব্যবসায়ীরা। ক্যাবের সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, আড়তদার, কমিশন এজেন্ট ও দাদন ব্যবসায়ীদের কারসাজিতেই দাম বেড়েছে।

আমদানি অনুমতির বিষয়টিও জটিল হয়ে আছে। দেশের বার্ষিক চাহিদা ৩৫ লাখ টন হলেও ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে আমদানির চেষ্টা করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে ২৮০০-এর বেশি আমদানি অনুমতির আবেদন জমা আছে, তবে অনুমতি এখনও মেলেনি। অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুর রহমান জানান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ নভেম্বরেই বাজারে আসবে এবং কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করাই অগ্রাধিকার।

বাজার বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসার আগে এক মাস পর্যন্ত দামের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকতে পারে।