অস্ত্রসহ সুন্দরবনের দুই ‘জলদস্যু’ আটক
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৪০:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
- / 217
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নজির গাজী (৪৯) ও দিদারুল ইসলাম (৩৮) নামে দুই ‘জলদস্যু’কে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাত সাড়ে ৯টা ও ১১টার দিকে উপজেলার উপকূলবর্তী যতীন্দ্রনগর ও মীরগাং এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় আটক দুইজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের ব্যবহৃত নৌকা থেকে একটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে নিশ্চিত করেন শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির মোল্যা।
এর আগে, সোমবার রাত ৮টার দিকে সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে উঠে আসার সময় স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে জলদস্যুরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। আটকরা হলেন শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের নওশাদ গাজীর ছেলে নজির গাজী এবং আশাশুনি উপজেলার চাকলা গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে দিদারুল ইসলাম।
স্থানীয় আবু হামজা, সিদ্দিক হোসেন ও আকবর আলী জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে অপরিচিত ৫–৭ জন ব্যক্তি সুন্দরবনের তীরবর্তী যতীন্দ্রনগর বাজারে আসে। তারা মাইক্রোবাস বা মোটরসাইকেল ভাড়া করতে চাইছিলেন। এতে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা তাদের নাম-পরিচয়সহ সুন্দরবনে আসার কারণ জানতে চায়। একপর্যায়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা ধাওয়া করে দিদারুলকে ধরে পুলিশে খবর দেয়।
পরে শ্যামনগর থানার ওসি হুমায়ুন কবির ঘটনাস্থলে পৌঁছে নজির গাজীকেও আটক করেন এবং তার দেওয়া তথ্যে মাছ শিকারের নৌকার ভেতর থেকে একটি একনলা বন্দুক ও একটি দা উদ্ধার করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কুখ্যাত ‘জোনাব বাহিনী’ বর্তমানে সুন্দরবনে খুব একটা সক্রিয় নয়। তবে নজির গাজী, তার ভাই নবাব, ছেলে আব্দুর রহিম এবং মুন্সিগঞ্জ আটিরউপর এলাকার আছাদুলসহ কয়েকজন জোনাবের নামে দস্যুতা চালিয়ে যাচ্ছে। নজির গাজী আটক হওয়ার পরপরই তার ভাই ও ছেলে পালিয়ে যায়।
আটক নজির গাজী জানান, তিনি সুন্দরবনের দস্যুদের ওপর তুলে দেওয়া ও নামিয়ে দেওয়ার কাজ করতেন। সোমবার ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে জোনাব বাহিনীর দুই সদস্যকে যতীন্দ্রনগর বাজার পর্যন্ত পৌঁছে দেন। বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে মাছ শিকারের পাশাপাশি তিনি জলদস্যুদের যাতায়াতেও সহায়তা করেন বলে দাবি করেন। উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি ওই দুই দস্যু তার নৌকার ভেতর ফেলে রেখে গেছে বলেও জানান তিনি।
অপর আটক দিদারুল জানান, তিনি নজিরের সহযোগী হিসেবে সুন্দরবনে যাওয়া জেলেদের জিম্মি করার ও মুক্তিপণ আদায়ের কাজে যুক্ত। তিনি পুটেরদুনে এলাকা থেকে লোকালয়ে পৌঁছে দেওয়া দুই দস্যুর কথা স্বীকার করেন। তবে তার কাছে থাকা মোবাইল পাওয়ার ব্যাংকসহ নানা সরঞ্জাম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনো উত্তর দেননি।
ওসি হুমায়ুন কবির মোল্যা জানান, নজির গাজীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নৌকার ককসিটের নিচ থেকে বিশেষ কৌশলে লুকানো একটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়। আটক দুইজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তারা মাছ শিকারির ছদ্মবেশে সুন্দরবনে প্রবেশ করতেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জলদস্যু বাহিনীর নাম-পরিচয়সহ বিস্তারিত জানানো হবে।
































