নিউইয়র্ক সিটি নির্বাচনে
‘অসম্ভবকে সম্ভব’ মমদানির উত্থান
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫
- / 212
টানা কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছেন ৩৩ বছর বয়সি প্রগতিশীল নেতা জোহরান মমদানি। সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো পরাজয় স্বীকার করে তাকে ফোনে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আজ রাত তার, সে জিতেছে।”
এই ফল শুধু একজন মেয়র নির্বাচনের বিষয় নয়—এটি ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ পথচলার দিকও নির্দেশ করছে। যৌন হয়রানির অভিযোগে চার বছর আগে গভর্নর পদ থেকে পদত্যাগ করা কুওমো রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু মমদানি সেই প্রত্যাবর্তনের পথে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
‘র্যাঙ্কড চয়েস’ পদ্ধতিতে চূড়ান্ত ফল পেতে সময় লাগলেও, প্রথম পছন্দের ভোটেই বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে আছেন মমদানি। নির্বাচনী বোর্ড জানিয়েছে, দুই লাখের বেশি ভোটার কেবল একজন প্রার্থীকে বেছে নিয়েছেন—যা স্পষ্ট করে দেয়, বিজয় মমদানির দিকেই ঝুঁকেছে।
মাত্র এক বছর আগেও রাজনীতির বাইরে থাকা মমদানি আজ নিউইয়র্ক শহরের কেন্দ্রে আলোচনার বিষয়। ‘ফ্রি বাস’, ‘ফ্রি চাইল্ড কেয়ার’, ‘সাশ্রয়ী আবাসন’, ‘উচ্চ ন্যূনতম মজুরি’—সব দাবি ছিল ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধির মাধ্যমে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি। তরুণদের বিপুল সমর্থন ছিল তার পক্ষে।
সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন, “নেলসন ম্যান্ডেলার ভাষায়, এটি সবসময় অসম্ভবই মনে হয়—যতক্ষণ না তা বাস্তবে ঘটে। আমরা করে দেখিয়েছি।”
৬৭ বছর বয়সি কুওমো বহুদিন রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। কিন্তু বিতর্কিত অতীত ও বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তিনি নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে পারেননি। মমদানির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ তুললেও, মমদানি তার জবাবে শুধু বলেন, “মি. কুওমো, আমাকে কখনও লজ্জাজনকভাবে পদত্যাগ করতে হয়নি।”
নির্বাচনের এই ফলাফল প্রগতিশীলদের জন্য এক নতুন যুগের শুরু। প্রথম মুসলিম ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হিসেবে মমদানির জয় নিউইয়র্ক সিটিকে নেতৃত্বের এক নতুন দিগন্তে নিয়ে যাচ্ছে। তার জয় তরুণ, ন্যায়ভিত্তিক এবং সংস্কারপন্থী ডেমোক্রেটদের জন্য বড় বার্তা বহন করে।
































