ঢাকা ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অবৈধ বালু উত্তোলনে মত্ত বিএনপি নেতারা

আকাশ মারমা মংসিং, বান্দরবান
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩১:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫
  • / 215

অবৈধ বালু উত্তোলনে মত্ত বিএনপি নেতারা

পাহাড় কাটার পর এবার অবৈধ বালু উত্তোলনে মত্ত হয়েছেন সেই বিএনপি নেতারা। পাওয়ার গ্রিড নির্মাণের জায়গায় ভরাটের জন্য সাঙ্গু নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের সদস্য নাজিম উদ্দিন ও সম্রাট নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে কুহালং হেডম্যান পাড়ার খালের পাড় ও শতবর্ষ পুরাতন শ্মশান।

অভিযোগ রয়েছে, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পাওয়ার গ্রিড নির্মাণের জায়গায় মাটি ভরাটের কন্ট্রাক্ট নিয়েছেন জেলা যুবদলের সদস্য নাজিম উদ্দিন ও সম্রাট। প্রশাসনের চোখের সামনে প্রকাশ্যে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। এর আগেও থোয়াইগ্যা পাড়া, লেমুঝিড়ি, চড়ুই পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কেটে সাবাড় করে ফেলেছেন তাঁরা। মাটির পর এবার অবৈধ বালু উত্তোলনে সক্রিয় হয়েছেন এই বিএনপি নেতারা।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর জেলা বিএনপির কিছু নেতা অবৈধ কর্মকাণ্ডে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। একের পর এক বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন তাঁরা। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি চার থেকে পাঁচ জনের সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট মিলে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাহাড় কাটায় জড়িত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোর সকাল থেকেই স্কেভেটরের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন জেলা যুবদলের সদস্য নাজিম উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন নেতা। অবৈধ এই বালু উত্তোলনের ফলে শ্মশানঘাট ও স্থানীয় বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে। নেতাদের বেপরোয়া আচরণের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা হোক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কুহালং ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়ার সামনে সাঙ্গু নদীর চর থেকে প্রকাশ্যেই বালু উত্তোলন চলছে। সেখানে ব্যবহৃত হচ্ছে দুটি স্কেভেটর ও আটটি ডাম্পার ট্রাক। এসব ট্রাক দিয়ে স্বর্ণ মন্দির সংলগ্ন নবনির্মিত পাওয়ার গ্রিড মাঠে বালু সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে পাশে থাকা কবরস্থান ও বসতঘর।

হেডম্যান পাড়া এলাকার বাসিন্দা প্রুনু মং মারমা ও সন্তোষ বড়ুয়া বলেন, সকাল থেকেই স্কেভেটর দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে, আর ডাম্পার ট্রাকে করে সরবরাহ করা হচ্ছে। আমরা চাই এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করুক।

স্কেভেটর চালক সুমন বলেন, বালু উত্তোলন করছেন সম্রাট নামের এক ব্যক্তি, তাঁর নির্দেশেই এসব কাজ চলছে।

অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা যুবদলের সদস্য নাজিম উদ্দিন বলেন, আমি বালু তুলছি না, বালু তুলছে সম্রাট—এই বলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এইচ এম সম্রাটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাধা দেওয়ায় বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, বর্তমানে ছুটিতে রয়েছি। অফিস খোলার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বলেন, বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

অবৈধ বালু উত্তোলনে মত্ত বিএনপি নেতারা

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩১:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫

পাহাড় কাটার পর এবার অবৈধ বালু উত্তোলনে মত্ত হয়েছেন সেই বিএনপি নেতারা। পাওয়ার গ্রিড নির্মাণের জায়গায় ভরাটের জন্য সাঙ্গু নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের সদস্য নাজিম উদ্দিন ও সম্রাট নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে কুহালং হেডম্যান পাড়ার খালের পাড় ও শতবর্ষ পুরাতন শ্মশান।

অভিযোগ রয়েছে, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পাওয়ার গ্রিড নির্মাণের জায়গায় মাটি ভরাটের কন্ট্রাক্ট নিয়েছেন জেলা যুবদলের সদস্য নাজিম উদ্দিন ও সম্রাট। প্রশাসনের চোখের সামনে প্রকাশ্যে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। এর আগেও থোয়াইগ্যা পাড়া, লেমুঝিড়ি, চড়ুই পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কেটে সাবাড় করে ফেলেছেন তাঁরা। মাটির পর এবার অবৈধ বালু উত্তোলনে সক্রিয় হয়েছেন এই বিএনপি নেতারা।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর জেলা বিএনপির কিছু নেতা অবৈধ কর্মকাণ্ডে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। একের পর এক বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন তাঁরা। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি চার থেকে পাঁচ জনের সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট মিলে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাহাড় কাটায় জড়িত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোর সকাল থেকেই স্কেভেটরের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন জেলা যুবদলের সদস্য নাজিম উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন নেতা। অবৈধ এই বালু উত্তোলনের ফলে শ্মশানঘাট ও স্থানীয় বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে। নেতাদের বেপরোয়া আচরণের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা হোক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কুহালং ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়ার সামনে সাঙ্গু নদীর চর থেকে প্রকাশ্যেই বালু উত্তোলন চলছে। সেখানে ব্যবহৃত হচ্ছে দুটি স্কেভেটর ও আটটি ডাম্পার ট্রাক। এসব ট্রাক দিয়ে স্বর্ণ মন্দির সংলগ্ন নবনির্মিত পাওয়ার গ্রিড মাঠে বালু সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে পাশে থাকা কবরস্থান ও বসতঘর।

হেডম্যান পাড়া এলাকার বাসিন্দা প্রুনু মং মারমা ও সন্তোষ বড়ুয়া বলেন, সকাল থেকেই স্কেভেটর দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে, আর ডাম্পার ট্রাকে করে সরবরাহ করা হচ্ছে। আমরা চাই এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করুক।

স্কেভেটর চালক সুমন বলেন, বালু উত্তোলন করছেন সম্রাট নামের এক ব্যক্তি, তাঁর নির্দেশেই এসব কাজ চলছে।

অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা যুবদলের সদস্য নাজিম উদ্দিন বলেন, আমি বালু তুলছি না, বালু তুলছে সম্রাট—এই বলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এইচ এম সম্রাটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাধা দেওয়ায় বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, বর্তমানে ছুটিতে রয়েছি। অফিস খোলার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বলেন, বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।