অপরাধীদের অভয়ারণ্য মোংলার নারিকেলতলা আশ্রয়ন
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:১২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫
- / 3769
মোংলা উপজেলার নারিকেলতলা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ৮-১০ জনের একটি অপরাধচক্র এই গ্রুপটি ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থাকলেও এখন বিএনপি এবং জামায়াতের কাঁধে ভর করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এতে আশ্রয়ণে বসবাসকারী নারী, পুরুষ ও শিশুরা অসহায়ত্ব ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এখানে সন্ধ্যা নামলেই মরণনেশা গাঁজা, ইয়াবাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলে অহরহ। এতে যেমন ধ্বংস হচ্ছে উঠতি বয়সের যুবসমাজ, তেমনি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে সাধারণ বাসিন্দারা। প্রতিবাদ করায় তাদের হাতে এ পর্যন্ত নারী-পুরুষসহ বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগ পেয়েছি, ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোংলা উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের নারিকেলতলা এলাকায় ৪টি আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রায় হাজারো পরিবার বসবাস করে। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে এ আবাসন পরিচালনার জন্য মো. আলাউদ্দিনকে সভাপতি ও আলমগীর হোসেনকে সম্পাদক করে আরও ১৩ জনকে সদস্য করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি আবাসনে বসবাসকারীদের সার্বিক কল্যাণে দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও, ক্ষমতা পেয়ে নিজেরাই একটি সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরি করে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
এলাকার অসহায় মানুষদের মারধর, ঘের দখল, জমি দখল, মাছ লুটসহ নানা অপরাধ তারা চালিয়ে যাচ্ছে। এই গ্রুপটি গত ৫ আগস্টের পর স্থানীয়দের কয়েকটি চিংড়িঘের জোরপূর্বক দখল করে নেয়। কেউ এর প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর চালানো হয় জুলুম-নির্যাতন।
উপজেলা থেকে বরাদ্দপ্রাপ্ত আশ্রয়ণে বড় বড় ৪টি পুকুর রয়েছে। পরিকল্পনা ছিল, এ পুকুরগুলোর পানি ব্যবহার ও মাছ চাষের সুফল সকলে ভাগ করে নেবে। কিন্তু নেতৃবৃন্দ নিজেরা মাছ চাষ করে দীর্ঘ ৮-১০ বছর ধরে তা আত্মসাৎ করছে।
এছাড়া ওই আশ্রয়ণ এলাকায় গাঁজা-ইয়াবার মতো মরণনেশার ব্যবসায়ও জড়িত রয়েছে তাদের অনেকে। দীর্ঘদিন ধরে পুকুরের মাছ ও বিক্রির টাকার হিসাব চাওয়া হলেও তালবাহানা করে এড়িয়ে যাচ্ছে তারা। গত এক সপ্তাহ ধরে এই হিসাব নিয়ে সমিতির নেতৃবৃন্দ ও বাসিন্দাদের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি ও পরে মারধরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগে উল্লেখ আছে, ভ্যানচালক ওমর ফারুকসহ কয়েকজনকে মারধর করে আলাউদ্দিন, আলমগীর মল্লিক, ধনু মান্নান প্রমুখ।
রবিবার বিকেলে হিসাবের বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেন মুন্নি নামের এক নারী। ওই রাতেই তাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে আলাউদ্দিন, আলমগীর মল্লিক, ধনু মান্নান, ছালমা বেগম, শফি শেখ, মো. রাকিব মাতুব্বর ও মিজান মাতুব্বরসহ প্রায় ১০-১২ জন মিলে হাজেরা খাতুন মুন্নি বেগম নামের স্বামী-পরিত্যক্ত এক নারীকে মেরে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় তার দুই শিশু সন্তান মাকে বাঁচাতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়।
এর আগেও একাধিকবার অভিযোগ করেও কোনো ব্যবস্থা পায়নি ভুক্তভোগীরা। সোমবার সকালে মোংলা থানার সামনে শিশুদের নিয়ে অবস্থান নেয় তারা। সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে মুন্নি বেগম ও ওমর ফারুক বাদী হয়ে থানাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে পৃথক অভিযোগ দিয়েছেন।
মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনিসুর রহমান বলেন, নারিকেলতলা আশ্রয়ণে গরিব ও অসহায় লোকজন বসবাস করছে। কমিটির বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ এসেছে। সম্প্রতি এক নারীসহ দুটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার পরপরই পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


































