ঢাকা ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রয়টার্সের প্রতিবেদন

অপমানবোধ’ করছেন, নির্বাচন শেষে পদ ছাড়তে চান রাষ্ট্রপতি

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 134

রাষ্ট্রপতি

আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নিজের অবস্থান নিয়ে তিনি অপমানিত ও অসন্তুষ্ট বোধ করছেন।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন স্পষ্টভাবেই জানান যে তিনি আর এ দায়িত্বে থাকতে চান না।

তিনি বলেন, “আমি এখান থেকে বিদায় নিতে চাই। নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে বলেই দায়িত্ব পালন করছি।”

রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেও কার্যনির্বাহী ক্ষমতা নেই; তা থাকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর এবং সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতির ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন ৭৫ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন।

‘সাত মাসে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা হয়নি’

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেছেন যে প্রায় সাত মাস ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার সঙ্গে কোনো বৈঠক করেননি।

এ ছাড়াও তার প্রেস শাখা দপ্তর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বিদেশি দূতাবাসগুলো থেকে তার ছবি অপসারণ করা হয়েছে—এ তথ্যও তিনি জানান।

রাষ্ট্রপতির ভাষায়, “সব দূতাবাস ও কনস্যুলেট অফিসে রাষ্ট্রপতির ছবি থাকে। কিন্তু এক রাতে সব তুলে ফেলা হলো। এতে মানুষ ভুল বোঝে—ভাবতে পারে রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে আমি খুব অপমানিত হয়েছি।”

তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠিও পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

রয়টার্স জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির মন্তব্য নিয়ে জানতে চাইলেও ইউনূসের প্রেস অফিস তাদেরকে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি; রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘চুপ্পু’ নামে পরিচিত।

ছাত্রজীবনে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

১৯৭৫ সালের পর সামরিক শাসকদের আমলে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তাকেও কারাগারে যেতে হয়।

পেশায় আইনজীবী; ১৯৮২ সালে বিচার বিভাগে যোগ দেন এবং ২০০৬ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর নেন।

বিএনপি–জামায়াত সরকারের সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার তদন্ত কমিশনের প্রধান ছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুদকের কমিশনার ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দলের সর্বশেষ কাউন্সিলেও নির্বাচন কমিশনার ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রয়টার্সের প্রতিবেদন

অপমানবোধ’ করছেন, নির্বাচন শেষে পদ ছাড়তে চান রাষ্ট্রপতি

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নিজের অবস্থান নিয়ে তিনি অপমানিত ও অসন্তুষ্ট বোধ করছেন।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন স্পষ্টভাবেই জানান যে তিনি আর এ দায়িত্বে থাকতে চান না।

তিনি বলেন, “আমি এখান থেকে বিদায় নিতে চাই। নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে বলেই দায়িত্ব পালন করছি।”

রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেও কার্যনির্বাহী ক্ষমতা নেই; তা থাকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর এবং সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতির ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন ৭৫ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন।

‘সাত মাসে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা হয়নি’

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেছেন যে প্রায় সাত মাস ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার সঙ্গে কোনো বৈঠক করেননি।

এ ছাড়াও তার প্রেস শাখা দপ্তর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বিদেশি দূতাবাসগুলো থেকে তার ছবি অপসারণ করা হয়েছে—এ তথ্যও তিনি জানান।

রাষ্ট্রপতির ভাষায়, “সব দূতাবাস ও কনস্যুলেট অফিসে রাষ্ট্রপতির ছবি থাকে। কিন্তু এক রাতে সব তুলে ফেলা হলো। এতে মানুষ ভুল বোঝে—ভাবতে পারে রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে আমি খুব অপমানিত হয়েছি।”

তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠিও পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

রয়টার্স জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির মন্তব্য নিয়ে জানতে চাইলেও ইউনূসের প্রেস অফিস তাদেরকে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি; রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘চুপ্পু’ নামে পরিচিত।

ছাত্রজীবনে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

১৯৭৫ সালের পর সামরিক শাসকদের আমলে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তাকেও কারাগারে যেতে হয়।

পেশায় আইনজীবী; ১৯৮২ সালে বিচার বিভাগে যোগ দেন এবং ২০০৬ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর নেন।

বিএনপি–জামায়াত সরকারের সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার তদন্ত কমিশনের প্রধান ছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুদকের কমিশনার ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দলের সর্বশেষ কাউন্সিলেও নির্বাচন কমিশনার ছিলেন।