ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা হলে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে: তাহের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 8

নির্বাচন যদি ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের মতো প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে তা দেশের মানুষ কখনো মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেছেন, কেউ অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডা. তাহের এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শক্তির একটি বড় অংশ নারী সদস্যদের নিয়ে গঠিত এবং দলের মোট সদস্যের প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী, যা দেশের অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে নেই। আরপিওতে নির্ধারিত ৩৩ শতাংশ নারী সদস্যের শর্ত একমাত্র জামায়াতই পূরণ করতে পেরেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রচলিত সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, যাদের দলে নারীর সংখ্যা বেশি, সেখানে নারীদের গুরুত্ব কম— এমন ধারণা অপপ্রচারের ফল। বরং আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের নারী কর্মীরা পুরুষদের পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং সক্রিয়ভাবে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন।

দলীয় মূল্যায়নের কথা তুলে ধরে ডা. তাহের বলেন, সারাদেশে নারী ভোটারদের সমর্থন জামায়াতের পক্ষে বেশি থাকবে বলে তারা আশা করছেন। তার মতে, নারীরা শান্তিপ্রিয় এবং সহিংসতা ও উগ্রতা পছন্দ করেন না। নিজের নির্বাচনী এলাকা চৌদ্দগ্রামেও তিনি নারীদের কাছ থেকে বেশি ভোট পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের নারী কর্মীদের সক্রিয়তায় প্রতিপক্ষরা আতঙ্কিত হয়ে তাদের ওপর হামলা ও হয়রানি শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং ভোট দিতে গেলে হাত কেটে নেওয়ার মতো বক্তব্যও ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব সবার উল্লেখ করে ডা. তাহের বলেন, যারা নারী অধিকার নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা বলেন, তারাই এখন রাজনৈতিক কারণে নারীদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ভূমিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন সরকারের প্রধান প্রতিশ্রুতি। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে এর ফল দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, জোর করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করলে তার পরিণতি আগের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। এ জন্য সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখতে হবে।

ডা. তাহের অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্র দখল, হুমকি ও সহিংসতার মহড়া চলছে। জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে থাকা দলগুলো সন্ত্রাসের মাধ্যমে জয় নিশ্চিত করতে চাইছে বলেও তিনি দাবি করেন। এসব কর্মকাণ্ড দেশের গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা হলে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে: তাহের

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন যদি ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের মতো প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে তা দেশের মানুষ কখনো মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেছেন, কেউ অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডা. তাহের এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শক্তির একটি বড় অংশ নারী সদস্যদের নিয়ে গঠিত এবং দলের মোট সদস্যের প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী, যা দেশের অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে নেই। আরপিওতে নির্ধারিত ৩৩ শতাংশ নারী সদস্যের শর্ত একমাত্র জামায়াতই পূরণ করতে পেরেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রচলিত সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, যাদের দলে নারীর সংখ্যা বেশি, সেখানে নারীদের গুরুত্ব কম— এমন ধারণা অপপ্রচারের ফল। বরং আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের নারী কর্মীরা পুরুষদের পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং সক্রিয়ভাবে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন।

দলীয় মূল্যায়নের কথা তুলে ধরে ডা. তাহের বলেন, সারাদেশে নারী ভোটারদের সমর্থন জামায়াতের পক্ষে বেশি থাকবে বলে তারা আশা করছেন। তার মতে, নারীরা শান্তিপ্রিয় এবং সহিংসতা ও উগ্রতা পছন্দ করেন না। নিজের নির্বাচনী এলাকা চৌদ্দগ্রামেও তিনি নারীদের কাছ থেকে বেশি ভোট পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের নারী কর্মীদের সক্রিয়তায় প্রতিপক্ষরা আতঙ্কিত হয়ে তাদের ওপর হামলা ও হয়রানি শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং ভোট দিতে গেলে হাত কেটে নেওয়ার মতো বক্তব্যও ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব সবার উল্লেখ করে ডা. তাহের বলেন, যারা নারী অধিকার নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা বলেন, তারাই এখন রাজনৈতিক কারণে নারীদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ভূমিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন সরকারের প্রধান প্রতিশ্রুতি। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে এর ফল দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, জোর করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করলে তার পরিণতি আগের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। এ জন্য সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখতে হবে।

ডা. তাহের অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্র দখল, হুমকি ও সহিংসতার মহড়া চলছে। জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে থাকা দলগুলো সন্ত্রাসের মাধ্যমে জয় নিশ্চিত করতে চাইছে বলেও তিনি দাবি করেন। এসব কর্মকাণ্ড দেশের গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন।