ঢাকা ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
গবেষণায় সতর্কবার্তা

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ২৩ শতাংশ শিশু চরম ঝুঁকিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 89

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ২৩ শতাংশ শিশু মারাত্মক ঝুঁকিতে

বাংলাদেশে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারী শিশুদের মধ্যে ২৩ শতাংশ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে—সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন তথ্য সামনে এসেছে। গবেষণায় দেখা যায়, শিশুদের জন্য সবচেয়ে অনিরাপদ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ফেসবুকই শীর্ষে রয়েছে।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী শিশু ও শিশুদের অনলাইন যৌন শোষণ প্রতিরোধ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবিব। কর্মশালাটি আয়োজন করে আন্তর্জাতিক সংস্থা টেরে দেস হোমস নেদারল্যান্ডস (টিডিএইচ-এনএল)। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর নূরুল কবির।

গবেষণার মূল ফলাফল

অনলাইনে ২৩% শিশু চরম ঝুঁকিতে

৮% শিশু আংশিক ঝুঁকিতে

৬৯% শিশু তুলনামূলকভাবে নিরাপদ

ফেসবুক ব্যবহারে ৭৭% শিশুই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়

ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারেও ১৫% শিশু ঝুঁকির মুখে

অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে ঝুঁকি কম নয়

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ২৩ শতাংশ শিশু চরম ঝুঁকিতে
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ২৩ শতাংশ শিশু চরম ঝুঁকিতে

গবেষকরা জানান, অন্তর্ভুক্তিমূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব এবং অনলাইন জগৎ সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান না থাকায় শিশুদের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিশুরা আরও বেশি অসুরক্ষিত পরিবেশের মুখোমুখি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

অধ্যাপক আহসান হাবিব বলেন, দেশে ডিজিটাল ব্যবহারের বিস্তার বাড়লেও শিশুদের সুরক্ষার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়নি। অনলাইনে যৌন হয়রানি ও প্রতারণার মতো ঝুঁকি বাড়ছে, যা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। শিশুদের নিরাপদ অনলাইন ব্যবহারে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ও সহজ বিচারপ্রাপ্তির ব্যবস্থা অপরিহার্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, এককভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই সমস্যা সমাধান কঠিন। তাই শিশু সুরক্ষা আইন ও নীতিমালায় প্রতিবন্ধী শিশুদের নিরাপত্তা স্পষ্টভাবে যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।

সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান খান জানান, শিশুরা এখনও নানা ধরনের শারীরিক, মানসিক এবং ডিজিটাল নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ইন্টারনেটের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য ফাঁদ থেকে তাদের রক্ষা করতে পরিবার, কমিউনিটি ও সরকারি-বেসরকারি সব স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

টিডিএইচ-এনএল’র প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর নূরুল কবির বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুরা বিশ্বের সবচেয়ে অবহেলিত গোষ্ঠীর একটি। বাংলাদেশে সরকারি পরিসংখ্যানে মাত্র ২.৮% মানুষের প্রতিবন্ধিতা দেখানো হলেও বাস্তবে এ সংখ্যা আরও বেশি। সামাজিক কুসংস্কার, অবহেলা ও বৈষম্যের কারণে এসব শিশু শিক্ষা ও সমাজজীবনে সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গবেষণায় সতর্কবার্তা

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ২৩ শতাংশ শিশু চরম ঝুঁকিতে

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারী শিশুদের মধ্যে ২৩ শতাংশ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে—সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন তথ্য সামনে এসেছে। গবেষণায় দেখা যায়, শিশুদের জন্য সবচেয়ে অনিরাপদ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ফেসবুকই শীর্ষে রয়েছে।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী শিশু ও শিশুদের অনলাইন যৌন শোষণ প্রতিরোধ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবিব। কর্মশালাটি আয়োজন করে আন্তর্জাতিক সংস্থা টেরে দেস হোমস নেদারল্যান্ডস (টিডিএইচ-এনএল)। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর নূরুল কবির।

গবেষণার মূল ফলাফল

অনলাইনে ২৩% শিশু চরম ঝুঁকিতে

৮% শিশু আংশিক ঝুঁকিতে

৬৯% শিশু তুলনামূলকভাবে নিরাপদ

ফেসবুক ব্যবহারে ৭৭% শিশুই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়

ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারেও ১৫% শিশু ঝুঁকির মুখে

অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে ঝুঁকি কম নয়

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ২৩ শতাংশ শিশু চরম ঝুঁকিতে
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ২৩ শতাংশ শিশু চরম ঝুঁকিতে

গবেষকরা জানান, অন্তর্ভুক্তিমূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব এবং অনলাইন জগৎ সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান না থাকায় শিশুদের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিশুরা আরও বেশি অসুরক্ষিত পরিবেশের মুখোমুখি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

অধ্যাপক আহসান হাবিব বলেন, দেশে ডিজিটাল ব্যবহারের বিস্তার বাড়লেও শিশুদের সুরক্ষার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়নি। অনলাইনে যৌন হয়রানি ও প্রতারণার মতো ঝুঁকি বাড়ছে, যা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। শিশুদের নিরাপদ অনলাইন ব্যবহারে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ও সহজ বিচারপ্রাপ্তির ব্যবস্থা অপরিহার্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, এককভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই সমস্যা সমাধান কঠিন। তাই শিশু সুরক্ষা আইন ও নীতিমালায় প্রতিবন্ধী শিশুদের নিরাপত্তা স্পষ্টভাবে যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।

সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান খান জানান, শিশুরা এখনও নানা ধরনের শারীরিক, মানসিক এবং ডিজিটাল নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ইন্টারনেটের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য ফাঁদ থেকে তাদের রক্ষা করতে পরিবার, কমিউনিটি ও সরকারি-বেসরকারি সব স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

টিডিএইচ-এনএল’র প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর নূরুল কবির বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুরা বিশ্বের সবচেয়ে অবহেলিত গোষ্ঠীর একটি। বাংলাদেশে সরকারি পরিসংখ্যানে মাত্র ২.৮% মানুষের প্রতিবন্ধিতা দেখানো হলেও বাস্তবে এ সংখ্যা আরও বেশি। সামাজিক কুসংস্কার, অবহেলা ও বৈষম্যের কারণে এসব শিশু শিক্ষা ও সমাজজীবনে সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।