ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অতীতের মতো নির্বাচনের শঙ্কা জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৩১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 37

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের

অতীতের মতো আগামীর জাতীয় নির্বাচনও পাতানো হতে পারে- এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। বুধবার সকালে ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বৈঠক প্রসঙ্গে নায়েবে আমির বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় আগামীর জাতীয় নির্বাচন, নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানো, ইইউ-বাংলাদেশ সম্ভাব্য চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকট- এই বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামী ইইউ প্রতিনিধিদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। তাঁর ভাষায়, গত ৫৫ বছরে দেশে যে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তার অন্যতম প্রধান কারণ সঠিক ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অভাব। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর একমাত্র পথ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, আগামীর নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু না হয়, তাহলে বর্তমান সংকটের অবসান হবে না; বরং তা আরও গভীর ও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর আশঙ্কার কথাও ইইউ প্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে।

নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, গত এক-দুই সপ্তাহে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রশাসনের এমন আনুগত্য নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। তাঁর আশঙ্কা, এভাবে পরিস্থিতি চললে আগামীর নির্বাচনও অতীতের মতো পাতানো হতে পারে, যা দেশকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেবে।

এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দেশকে রক্ষা করতে দায়িত্বশীল আচরণের অনুরোধ করেন।

নায়েবে আমির জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সর্বোচ্চ সংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা জামায়াতে ইসলামী স্বাগত জানিয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি বলেন, ইইউ প্রতিনিধিরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে কাজ করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে ইইউও সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।

তিনি আরও বলেন, আগামীর নির্বাচন সুষ্ঠু করতে জামায়াতে ইসলামী প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে- এ আশ্বাসও ইইউ প্রতিনিধিদের দেওয়া হয়েছে।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

অতীতের মতো নির্বাচনের শঙ্কা জামায়াতের

সর্বশেষ আপডেট ১২:৩১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

অতীতের মতো আগামীর জাতীয় নির্বাচনও পাতানো হতে পারে- এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। বুধবার সকালে ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বৈঠক প্রসঙ্গে নায়েবে আমির বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় আগামীর জাতীয় নির্বাচন, নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানো, ইইউ-বাংলাদেশ সম্ভাব্য চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকট- এই বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামী ইইউ প্রতিনিধিদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। তাঁর ভাষায়, গত ৫৫ বছরে দেশে যে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তার অন্যতম প্রধান কারণ সঠিক ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অভাব। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর একমাত্র পথ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, আগামীর নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু না হয়, তাহলে বর্তমান সংকটের অবসান হবে না; বরং তা আরও গভীর ও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর আশঙ্কার কথাও ইইউ প্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে।

নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, গত এক-দুই সপ্তাহে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রশাসনের এমন আনুগত্য নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। তাঁর আশঙ্কা, এভাবে পরিস্থিতি চললে আগামীর নির্বাচনও অতীতের মতো পাতানো হতে পারে, যা দেশকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেবে।

এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দেশকে রক্ষা করতে দায়িত্বশীল আচরণের অনুরোধ করেন।

নায়েবে আমির জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সর্বোচ্চ সংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা জামায়াতে ইসলামী স্বাগত জানিয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি বলেন, ইইউ প্রতিনিধিরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে কাজ করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে ইইউও সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।

তিনি আরও বলেন, আগামীর নির্বাচন সুষ্ঠু করতে জামায়াতে ইসলামী প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে- এ আশ্বাসও ইইউ প্রতিনিধিদের দেওয়া হয়েছে।