ঢাকা ০৩:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অডিও ফাঁস নিয়ে তোলপাড়, পদচ্যুতির মুখে থাই প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
  • / 157

থাইল্যান্ডের পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রা

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রা ও কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের মধ্যে হওয়া একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ১৭ মিনিটের এই অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে থাই রাজনীতিতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিরোধীরা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছে।

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে থাই প্রধানমন্ত্রী সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষিতে একজন সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার কথা বলেন, যিনি পরিস্থিতিকে ‘শান্ত’ দেখাতে চেয়েছিলেন এবং কিছু ‘ভুল মন্তব্য’ করেছিলেন। এই বক্তব্য বিরোধীদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। তারা একে সেনাবাহিনীর অপমান এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা হিসেবে দেখছে।

এই অডিও কল মূলত মে মাসে থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে সংঘর্ষে একজন কম্বোডিয়ান সৈন্য নিহত হওয়ার প্রেক্ষিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ঘটে। এরপর থেকে থাইল্যান্ড থেকে কম্বোডিয়ায় ফল, সবজি, বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে কম্বোডিয়া থাই টেলিভিশন ও নাটকের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে।

প্রধানমন্ত্রী সিনাওয়াত্রা বলেন, কলটি তার নিজস্ব ফোন থেকে করা হয়েছিল এবং তিনি জানতেন না যে এটি রেকর্ড হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকার সেনাবাহিনীর সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয়ে কাজ করতে চায়।

তবে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে যখন তার নেতৃত্বাধীন সরকারজোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক দল ‘ভুমজাইথাই’ জোট ত্যাগ করে। এতে সংসদে ‘ফিউ থাই পার্টি’র অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। যদিও এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রয়েছে, আরও একটি দল জোট ত্যাগ করলে সরকার গঠনের সাংবিধানিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সিনাওয়াত্রার দল জোটের আরও দুটি দলের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছে। আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে, তাকে পদত্যাগ করতে হতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

অডিও ফাঁস নিয়ে তোলপাড়, পদচ্যুতির মুখে থাই প্রধানমন্ত্রী

সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রা ও কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের মধ্যে হওয়া একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ১৭ মিনিটের এই অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে থাই রাজনীতিতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিরোধীরা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছে।

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে থাই প্রধানমন্ত্রী সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষিতে একজন সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার কথা বলেন, যিনি পরিস্থিতিকে ‘শান্ত’ দেখাতে চেয়েছিলেন এবং কিছু ‘ভুল মন্তব্য’ করেছিলেন। এই বক্তব্য বিরোধীদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। তারা একে সেনাবাহিনীর অপমান এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা হিসেবে দেখছে।

এই অডিও কল মূলত মে মাসে থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে সংঘর্ষে একজন কম্বোডিয়ান সৈন্য নিহত হওয়ার প্রেক্ষিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ঘটে। এরপর থেকে থাইল্যান্ড থেকে কম্বোডিয়ায় ফল, সবজি, বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে কম্বোডিয়া থাই টেলিভিশন ও নাটকের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে।

প্রধানমন্ত্রী সিনাওয়াত্রা বলেন, কলটি তার নিজস্ব ফোন থেকে করা হয়েছিল এবং তিনি জানতেন না যে এটি রেকর্ড হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকার সেনাবাহিনীর সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয়ে কাজ করতে চায়।

তবে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে যখন তার নেতৃত্বাধীন সরকারজোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক দল ‘ভুমজাইথাই’ জোট ত্যাগ করে। এতে সংসদে ‘ফিউ থাই পার্টি’র অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। যদিও এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রয়েছে, আরও একটি দল জোট ত্যাগ করলে সরকার গঠনের সাংবিধানিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সিনাওয়াত্রার দল জোটের আরও দুটি দলের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছে। আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে, তাকে পদত্যাগ করতে হতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।