ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অজানা ভয় সঙ্গী করে ঘরে ফিরছেন তেহরানের মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৮:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫
  • / 405

অজানা ভয় সঙ্গী করে ঘরে ফিরছেন তেহরানের মানুষ

ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের ভয়াবহ সংঘাত শেষে যুদ্ধবিরতির পর ধীরে ধীরে নিজেদের ঘরে ফিরছেন তেহরানের বাসিন্দারা। তবে তাদের সামনে এখন এক বদলে যাওয়া শহর, ধ্বংসস্তূপে ভরা রাস্তাঘাট আর এক অজানা ভবিষ্যৎ।

আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৭ জুন) রাজধানী ঢোকার মহাসড়কগুলোতে ছিল ব্যস্ততা। গাড়িগুলোতে ছিল পরিবারের সদস্য, লাগেজ আর একটুখানি আশা—যে এবার হয়তো ঘরটি নিরাপদ থাকবে। এই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন ৬০০-র বেশি ইরানি নাগরিক, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন হাজারো মানুষ।

ইরানজুড়ে যুদ্ধকালীন ইসরায়েলের হয়ে কাজ করার অভিযোগে চলছে গণগ্রেপ্তার। দ্রুত বিচার শেষে অনেকের বিরুদ্ধে দণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। কারও কারও ভাগ্যে জুটছে ফাঁসি, যা বাড়িয়ে দিচ্ছে জনমনে আতঙ্ক।

তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় স্পষ্ট বোমার আঘাতের চিহ্ন। এমন এক ভয়াবহ বাস্তবতায় ফিরছেন অনেকে। ৩৩ বছর বয়সী গ্রাফিক ডিজাইনার নিকা বলেন, “এতদিন পর নিজের বিছানায় ঘুমাতে পারা যেন স্বর্গে ফিরে আসার মতো।” তবে তার মনে রয়েছে গভীর উদ্বেগ—এই যুদ্ধবিরতি আদৌ টিকবে কিনা, তা নিয়ে নিশ্চিত নন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সাবা জানান, যুদ্ধের আগে তার জীবন ছিল ব্যস্ত ও স্বাধীন। কিন্তু এই যুদ্ধ সেই স্বাভাবিকতা কেড়ে নিয়েছে। পঞ্চম দিনেই তাকে তেহরান ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে যেতে হয়।

১৩ জুন ইসরায়েলের ‘পারমাণবিক স্থাপনায় প্রতিরোধমূলক হামলা’ দিয়ে যুদ্ধের সূচনা হয়। এরপর দুই দেশের মধ্যে চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা আঘাত। রাজধানী তেহরানে আবাসিক এলাকায় বিমান হামলার জেরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, অনেকে শহর ছাড়েন। এখন যুদ্ধবিরতির পর সেই মানুষগুলো ফিরছেন, বুকভরা ভয় আর চোখে অচল ভবিষ্যতের শঙ্কা নিয়ে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

অজানা ভয় সঙ্গী করে ঘরে ফিরছেন তেহরানের মানুষ

সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৮:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫

ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের ভয়াবহ সংঘাত শেষে যুদ্ধবিরতির পর ধীরে ধীরে নিজেদের ঘরে ফিরছেন তেহরানের বাসিন্দারা। তবে তাদের সামনে এখন এক বদলে যাওয়া শহর, ধ্বংসস্তূপে ভরা রাস্তাঘাট আর এক অজানা ভবিষ্যৎ।

আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৭ জুন) রাজধানী ঢোকার মহাসড়কগুলোতে ছিল ব্যস্ততা। গাড়িগুলোতে ছিল পরিবারের সদস্য, লাগেজ আর একটুখানি আশা—যে এবার হয়তো ঘরটি নিরাপদ থাকবে। এই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন ৬০০-র বেশি ইরানি নাগরিক, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন হাজারো মানুষ।

ইরানজুড়ে যুদ্ধকালীন ইসরায়েলের হয়ে কাজ করার অভিযোগে চলছে গণগ্রেপ্তার। দ্রুত বিচার শেষে অনেকের বিরুদ্ধে দণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। কারও কারও ভাগ্যে জুটছে ফাঁসি, যা বাড়িয়ে দিচ্ছে জনমনে আতঙ্ক।

তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় স্পষ্ট বোমার আঘাতের চিহ্ন। এমন এক ভয়াবহ বাস্তবতায় ফিরছেন অনেকে। ৩৩ বছর বয়সী গ্রাফিক ডিজাইনার নিকা বলেন, “এতদিন পর নিজের বিছানায় ঘুমাতে পারা যেন স্বর্গে ফিরে আসার মতো।” তবে তার মনে রয়েছে গভীর উদ্বেগ—এই যুদ্ধবিরতি আদৌ টিকবে কিনা, তা নিয়ে নিশ্চিত নন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সাবা জানান, যুদ্ধের আগে তার জীবন ছিল ব্যস্ত ও স্বাধীন। কিন্তু এই যুদ্ধ সেই স্বাভাবিকতা কেড়ে নিয়েছে। পঞ্চম দিনেই তাকে তেহরান ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে যেতে হয়।

১৩ জুন ইসরায়েলের ‘পারমাণবিক স্থাপনায় প্রতিরোধমূলক হামলা’ দিয়ে যুদ্ধের সূচনা হয়। এরপর দুই দেশের মধ্যে চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা আঘাত। রাজধানী তেহরানে আবাসিক এলাকায় বিমান হামলার জেরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, অনেকে শহর ছাড়েন। এখন যুদ্ধবিরতির পর সেই মানুষগুলো ফিরছেন, বুকভরা ভয় আর চোখে অচল ভবিষ্যতের শঙ্কা নিয়ে।