ঢাকা ১২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অক্টোবরে কারা হেফাজতে ১৩ মৃত্যু, ৬৬ অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৮:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • / 100

এমএসএফ

চলতি অক্টোবর মাসে দেশে অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার এবং কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা সেপ্টেম্বরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। প্রতিষ্ঠানটির অক্টোবর মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। এমএসএফ জানিয়েছে, এসব ঘটনার মাধ্যমে জনজীবনের নিরাপত্তাহীনতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অজ্ঞাতনামা লাশের বৃদ্ধি
এমএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবর মাসে দেশে মোট ৬৬টি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যা সেপ্টেম্বরের ৫২টির চেয়ে বেশি। এসব লাশের বেশিরভাগই নদী বা ডোবায় ভাসমান, মহাসড়ক বা সড়কের পাশে, সেতুর নিচে, রেললাইনের পাশে, ফসলি জমিতে বা পরিত্যক্ত স্থানে পাওয়া গেছে। অল্প সংখ্যক মৃতদেহ ছিল গলাকাটা, বস্তাবন্দী বা রক্তাক্ত এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন সহ।

এমএসএফ জানিয়েছে, অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের ঘটনা বেড়েই চলেছে এবং এটি জনজীবনের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি জোরালোভাবে প্রতিফলিত করছে। অক্টোবর মাসে উদ্ধার হওয়া ৬৬টি লাশের মধ্যে ছিল ১ শিশু, ১ কিশোর, ১১ নারী ও ৫৩ পুরুষ। তাদের মধ্যে বয়স অনুসারে বিভাজন হলো— ৭ বছর বয়সী শিশু, ১৫ বছর বয়সী কিশোর, ২০–৩০ বছর বয়সী ১৫ পুরুষ ও ২ নারী, ৩১–৪০ বছর বয়সী ১৯ পুরুষ ও ৬ নারী, ৪১–৫০ বছর বয়সী ৫ পুরুষ ও ১ নারী, ৫০ বছরের বেশি ১১ পুরুষ ও ১ নারী। তিনজনের বয়স শনাক্ত করা যায়নি।

এমএসএফ বলেছে, শুধু লাশ উদ্ধার করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; লাশের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

কারা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি
এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে কারা হেফাজতে ১৩ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে, যা সেপ্টেম্বরের ৮ জনের তুলনায় বেশি। এ মাসে মারা গেছেন ছয়জন কয়েদি ও সাতজন হাজতি।

বিভিন্ন কারাগারে মৃত্যুর বিস্তৃত বিবরণ হলো— কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে চারজন কয়েদি ও দুজন হাজতি, গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে একজন কয়েদি, শেরপুর জেলা কারাগারে একজন কয়েদি, খুলনা, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলা কারাগারে একজন করে হাজতি মারা গেছেন। সব বন্দী কারাগারের বাইরে হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেছেন।

এমএসএফের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, কারা হেফাজতে মৃত্যুর পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা লাশের বৃদ্ধি মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতির দিক নির্দেশ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুধু লাশ উদ্ধার করেই সীমাবদ্ধ থাকছে, তবে লাশ শনাক্ত করা, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত করা এবং আত্মীয়-পরিজনের কাছে হস্তান্তর করাও তাদের দায়িত্ব।

গণপিটুনি ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা
অক্টোবর মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ৪৯টি ঘটনায় ৫৪৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ জন নিহত এবং ৫৪৭ জন আহত। আহতদের মধ্যে চারজন গুলিবিদ্ধ। নিহত ব্যক্তিরা বিএনপির কর্মী ও সমর্থক। সেপ্টেম্বরের তুলনায় রাজনৈতিক সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনা কিছুটা বেড়েছে।

অক্টোবর মাসে মোট ৪৪টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে, যা সেপ্টেম্বরের ৪৩টির তুলনায় বেশি। এই মাসে গণপিটুনিতে নিহতের সংখ্যা ১২, আগের মাসে ২৪ জন। রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা মধ্যে পার্টি অফিস, বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, অগ্নিকাণ্ড এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।

এমএসএফ-এর প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি চলতি মাসে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

অক্টোবরে কারা হেফাজতে ১৩ মৃত্যু, ৬৬ অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৮:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

চলতি অক্টোবর মাসে দেশে অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার এবং কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা সেপ্টেম্বরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। প্রতিষ্ঠানটির অক্টোবর মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। এমএসএফ জানিয়েছে, এসব ঘটনার মাধ্যমে জনজীবনের নিরাপত্তাহীনতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অজ্ঞাতনামা লাশের বৃদ্ধি
এমএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবর মাসে দেশে মোট ৬৬টি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যা সেপ্টেম্বরের ৫২টির চেয়ে বেশি। এসব লাশের বেশিরভাগই নদী বা ডোবায় ভাসমান, মহাসড়ক বা সড়কের পাশে, সেতুর নিচে, রেললাইনের পাশে, ফসলি জমিতে বা পরিত্যক্ত স্থানে পাওয়া গেছে। অল্প সংখ্যক মৃতদেহ ছিল গলাকাটা, বস্তাবন্দী বা রক্তাক্ত এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন সহ।

এমএসএফ জানিয়েছে, অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের ঘটনা বেড়েই চলেছে এবং এটি জনজীবনের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি জোরালোভাবে প্রতিফলিত করছে। অক্টোবর মাসে উদ্ধার হওয়া ৬৬টি লাশের মধ্যে ছিল ১ শিশু, ১ কিশোর, ১১ নারী ও ৫৩ পুরুষ। তাদের মধ্যে বয়স অনুসারে বিভাজন হলো— ৭ বছর বয়সী শিশু, ১৫ বছর বয়সী কিশোর, ২০–৩০ বছর বয়সী ১৫ পুরুষ ও ২ নারী, ৩১–৪০ বছর বয়সী ১৯ পুরুষ ও ৬ নারী, ৪১–৫০ বছর বয়সী ৫ পুরুষ ও ১ নারী, ৫০ বছরের বেশি ১১ পুরুষ ও ১ নারী। তিনজনের বয়স শনাক্ত করা যায়নি।

এমএসএফ বলেছে, শুধু লাশ উদ্ধার করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; লাশের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

কারা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি
এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে কারা হেফাজতে ১৩ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে, যা সেপ্টেম্বরের ৮ জনের তুলনায় বেশি। এ মাসে মারা গেছেন ছয়জন কয়েদি ও সাতজন হাজতি।

বিভিন্ন কারাগারে মৃত্যুর বিস্তৃত বিবরণ হলো— কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে চারজন কয়েদি ও দুজন হাজতি, গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে একজন কয়েদি, শেরপুর জেলা কারাগারে একজন কয়েদি, খুলনা, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলা কারাগারে একজন করে হাজতি মারা গেছেন। সব বন্দী কারাগারের বাইরে হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেছেন।

এমএসএফের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, কারা হেফাজতে মৃত্যুর পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা লাশের বৃদ্ধি মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতির দিক নির্দেশ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুধু লাশ উদ্ধার করেই সীমাবদ্ধ থাকছে, তবে লাশ শনাক্ত করা, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত করা এবং আত্মীয়-পরিজনের কাছে হস্তান্তর করাও তাদের দায়িত্ব।

গণপিটুনি ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা
অক্টোবর মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ৪৯টি ঘটনায় ৫৪৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ জন নিহত এবং ৫৪৭ জন আহত। আহতদের মধ্যে চারজন গুলিবিদ্ধ। নিহত ব্যক্তিরা বিএনপির কর্মী ও সমর্থক। সেপ্টেম্বরের তুলনায় রাজনৈতিক সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনা কিছুটা বেড়েছে।

অক্টোবর মাসে মোট ৪৪টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে, যা সেপ্টেম্বরের ৪৩টির তুলনায় বেশি। এই মাসে গণপিটুনিতে নিহতের সংখ্যা ১২, আগের মাসে ২৪ জন। রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা মধ্যে পার্টি অফিস, বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, অগ্নিকাণ্ড এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।

এমএসএফ-এর প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি চলতি মাসে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হচ্ছে।